কোথাও কেউ নেই।
আমার কোনো আপনজন নেই,
যার কাছে আমি নিজেকে ভেঙেচুরে খুচরো পয়সার মতো জমা রাখতে পারি। যে আমাকে যত্ন করে সঞ্চয় করবে, প্রয়োজনে ফিরিয়ে দেবে একটা একটা চকচকে পাঁচ টাকার কয়েন।
সত্যি বলতে আমার কোনো বন্ধু নেই।
আপনজন বলতে জেনেছি যাদের তারা কেবল পথ চলতে সঙ্গী ছিলো। দূরের পথে ট্রেনে যেমন থাকে- পাশের সিটে। গল্প হয়, আড্ডা হয়। দু পেয়ালা লেবু চায়ের দাম মেটাতে 'আমি দিচ্ছি, আমি দিচ্ছি' যুদ্ধ হয়। সিগারেটের বাড়িয়ে দেয়া টুকরো ফুঁকে, 'এই যে নিন ফোন নম্বর, এদিকটাতে আবার এলে ফোন করবেন', বলা শেষে অচেনা এক স্টেশনে উধাও হয়।
এই যে আমি পথ হাঁটছি, রোজ ঘাটছি বুকের ভেতর কষ্ট, ক্লেদ;
এই যে আমি ক্লান্ত ভীষণ, বুকের ভেতর জমছে কেবল দুঃখের মেদ।
তবুও আমার নিজের কোনো বৃক্ষ নেই।
প্রবল দহন দিনের শেষে, যার ছায়াতে জিরোবো ভেবে ফিরে আসার ইচ্ছে হয়;
তেমন একটা ছায়ার মতন, আগলে রাখা মায়ার মতন আমার কোনো আপনজন নেই।
একলা দুপুর উপুড় হলে বিষাদ ঢালা নদীর মতন
একলা মানুষ ফানুশ হলে নিরুদ্দেশ এক বোধির মতন
হাতের মুঠোয় হাত রাখবার একটা কোনো মানুষ নেই।
আমার কোনো আপনজন নেই।
আমি কেবল কোলাহলে ভিড়ের ভেতর হারিয়ে যাই।
ভুল মানুষে, যত্নে জমা ফুলগুলো সব বাড়িয়ে যাই।
হাওয়ায় ভাসা দীর্ঘশ্বাস বাতাস ভেবে-
নির্বাসনের একটা জীবন মাড়িয়ে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



