somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সম্রাট জাহাঙ্গীরের তরবারি.....

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সম্রাট জাহাঙ্গীরের তরবারি.....


ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দীর ভারতের অন্যতম শাসক ছিলেন মোগল সম্রাটরা। মোগল সম্রাট আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীর। মোঘল রাজা-বাদশার কথা বললে সুরম্য রাজপ্রাসাদ, বিলাসব্যসন, সুরা-নর্তকী, যুদ্ধবিগ্রহ, সাম্রাজ্য বিস্তার ইত্যাদি ব্যাপারগুলোই আমাদের কাছে পরিচিত। সবক্ষেত্রে কিন্তু তা নয়। অনেকের মধ্যে থাকে আলাদা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা। এমনই এক সম্রাট ছিলেন জাহাঙ্গীর। অত্যধিক সুরাসক্তির জন্য দুর্ণাম ও বেগম নূরজাহানের প্রতি সীমাহীন আসক্তির জন্য অনেকে তাঁকে পছন্দ না করলেও কবিসুলভ মন, প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ-প্রেম, বিজ্ঞানমনস্কতা, অনুসন্ধিৎসা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে নৈসর্গিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে আগ্রহ তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্বকে এক অসাধারণ মাত্রা দিয়েছিল। অদ্ভুত সব প্রাণী, নানারকম পাখি, গাছ-পালা ও ফুলের সৌন্দর্য ইত্যাদির এক উত্তম পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি, যার পরিচয় পাওয়া যায় স্বরচিত আত্মস্মৃতি 'তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী'(জাহাঙ্গীর নামা)-তে। তিনি জ্যোতিষ শাস্ত্রে আগ্রহী ছিলেন। গ্রহের বিচরণ, রাশিচক্রে অবস্থান বুঝতেন। তাঁর রাশি চিত্র সম্বলিত মুদ্রা এক অবিস্মরণীয় কীর্তি।

'তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী'-তে অনেক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়, যেগুলির মধ্যে অন্যতম - এক বিরল উল্কাপাতের ঘটনা। তাঁর নিজের কথায়, "তখনকার একটি অদ্ভূত ঘটনা হচ্ছে, ১৬২১খ্রি. ৩০শে ফরওয়ার্দিন জলন্ধর পরগনার (পাঞ্জাবে) এক গ্রামে প্রাতঃকালে পূর্ব দিকে এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শব্দ এতটাই ভয়ংকর যে তথাকার বাসিন্দারা সেই আতঙ্কসৃষ্টিকারী আওয়াজ শুনে অনেকেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। শব্দ ও কোলাহলের মধ্যে হঠাৎ আকাশ থেকে মাটিতে একটি আলোর পিন্ড পড়লো। খানিকক্ষণ পরে মানুষের আতঙ্ক ও ভীত-বিহ্বলতার ভাব কেটে গেল এবং তখন তারা ওখানকার প্রশাসক মহম্মদ সৈয়দের কাছে দ্রুত ঘটনাটা জানালেন। তিনি তখুনি ঘোড়া ছুটিয়ে স্থানটি দেখতে গেলেন। দৈর্ঘ্য প্রস্থে দশ-বারো গজ জায়গা পুড়ে সেখানে কোন সবুজ ঘাসের চিহ্ন ছিল না। তখনও আগুনের উত্তাপ অনুভব করা গিয়েছিল। তিনি জায়গাটিকে খনন করার হুকুম দিলেন। খুঁড়তে খুঁড়তে এক জায়গাতে একখন্ড তপ্ত লৌহ পাওয়া গেল। তা এত গরম ছিল যে মনে হল যে তখুনি বোধ হয় চুল্লি থেকে তোলা হয়েছে। আস্তে-ধীরে তা ঠান্ডা হলে তিনি সেটিকে স্বগৃহে নিয়ে একটি আবরণে মুড়ে সীল করে দরবারে নিয়ে আসেন। আমার সামনেই ওটাকে ওজন করতে বললাম। ওজন হয়েছিল ১৬০ তোলা (প্রায় ২ কেজি)। লোহার কারিগর ওস্তাদ দাউদকে হুকুম দিলাম তা দিয়ে একটি করে তলোয়ার, ছুরি/ছোরা তৈরী করতে। অন্য লোহার সঙ্গে মিশিয়ে এর গুনাগুন পরীক্ষা করা হল। ইয়ামানী ও দক্ষিণী চমৎকার সব তলোয়ারের মতো একে বাকা ও সোজাও করা যায়। উৎকৃষ্ট তলোয়ারের মতোই এটিকে দিয়ে ভালো কাটা যায়। আমি একটির নাম দিলাম 'সমসীর-ই-কাতি'(ধারালো তলোয়ার); আর দ্বিতীয়টির নাম দেওয়া হোল 'বর্ক-শিরিস্ত'(বিদ্যুতের মতো)। রাজকবি বিবাদল খান এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে একটি কবিতা রচনা করেন। তিনি সেটি আবৃত্তি করেছিলেনঃ-

"জাহাঙ্গীরশাহ দ্বারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে,
তাঁর রাজত্বকালে কাঁচা লোহা বিদ্যুৎ থেকে
ভূপতিত হয়েছে।
তাঁর বিশ্ববন্দিত আদেশে সেই লৌহদ্বারা
নির্মিত হয়েছে
একটি ছোরা, ছুরিকা ও দুখানি খড়্গ।
তাতে রাজকীয় বিদ্যুৎ যেন ঝলকায়।'
তারিখ উৎকীর্ণ হয়েছিল হিজরী ১০৩০(১৬২০-২১ খ্রি.)।"
ছবি ও তথ্যসূত্রঃ তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী(জাহাঙ্গীর নামা)
উল্কাপাত ও জাহাঙ্গীরের ঐতিহাসিক ছোরা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:০২
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×