somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সাপ নিয়ে কিছু কথা.........

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাপ নিয়ে কথা................

মিলনের পর স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা সাপ পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে খেয়ে ফেলে কারণ গর্ভধারণের সময় স্ত্রী সাপ খুব একটা নাড়াচাড়া করে না তাই পুরুষ সঙ্গী থেকেই সে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নেয়। এমনকি এটি পুরুষ সাপও জানে এজন্য দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু লাভ হয় না। কেননা আকারে স্ত্রী অ্যানাকোন্ডার চেয়ে পুরুষ সাপ অনেক ছোট।

প্যারাডাইস ট্রি স্নেক বা ক্রিসোপেলিয়া প্যারাডিসি প্রজাতির সাপ গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে সহজেই উড়ে যায়৷ কখনও কখনও উড়তে উড়তে এই সাপ মাটিতেও হঠাৎ করে নেমে আসে৷ এরা এক বিশেষভাবে বাতাসে গ্লাইড করে, তখন এদের পক্ষে উড়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

উট যখন হায়াম সিনড্রোম নামক রোগে আক্রান্ত হয় তখন উটের মালিক জীবিত বিষাক্ত সাপ খাওয়ায় উটকে। তারা ধারণা করে এতে উট সুস্থ হয়ে উঠে তবে গবেষণা বলছে এটি ভুল ধারণা।

ব্রাজিলের সাও পাওলো সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় একুশ মাইল দূরে অবস্থিত সাপের দ্বীপ। বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক এবং বিষধর সাপের মধ্যে বোতরোপস ইনসুলারিস প্রজাতির সাপ (গোল্ডেন ল্যান্সেডও বলা হয়) শুধু এই দ্বীপেই বাস করে৷। এদের বিষ এতই ভয়ানক যে, এই বিষ দিয়ে মুহূর্তেই মানুষের মাংসকে গলিয়ে ফেলা সম্ভব। সাধারণত এই সাপের বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই মানুষটি মারা যায়।

রেটেলস্নেক এর বিষ দিয়ে গবেষকরা CB24 নামক ক্যন্সার নিরাময়ের ঔষধ বানিয়েছিল (বাজারে ছাড়া হয়নি এখনও)। Brazilian pitviper এর বিষ দিয়ে ACE-blockers বানানো হয় যা রক্তচাপ কমানো সহ কিডনি রোগ, ষ্ট্রোক ও ডায়াবেটিস এর ঝুকি কমানোয় সহায়তা করে। এছাড়া সাপের বিষ দিয়ে opioid মুক্ত ব্যথানাশক ঔষধ তৈরী করা হয় এবং টক্সিকোলজি রিসার্চে ব্যাবহার হয়।

স্থলজ সাপের মধ্যে সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের নাম তাইপান যাদের বাস অস্ট্রেলিয়ায়। যে পরিমাণ বিষ নির্গত হয় তা দিয়ে একশ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বে সাপের প্রজাতি প্রায় তিন হাজার তবে বিষাক্ত সাপের প্রজাতি ২৫০ টি।

প্রতি বছর ৫৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয়। যার মধ্যে এক লাখ আটত্রিশ হাজার জন মারা যান। লক্ষাধিক মানুষ অন্ধত্ব এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে।

ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় দুইশ প্রজাতির সাপের কামড় খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ট্রাক চালক টিম ফ্রেডি। তিনি চাচ্ছেন তার শরীর বিষ প্রতিরোধী হয়ে গড়ে উঠুক।

দুধ সাপ বলে কোনো সাপ নেই বরং কিছু সাপের ক্ষেত্রে দুধ হল বিষের মত। সাপ দুধ হজম করতে পারে না। প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত কোনো সাপের সামনে যে তরলই দেয়া হোক সেটাই সে পান করে। এই থিউরি কাজে লাগায় সাপুড়েরা৷ কোনো পানি পান করতে না দিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখে সাপ এবং দুধ দিলে সে ওটাই পান করে।

বীণের শব্দে সাপ চলে আসে, এটার মত ভুয়া ব্যাপার আর নেই। সাপের পেটে যে গ্রন্থি থাকে সেগুলো কম্পন অনুভব করতে সক্ষম এবং সেই কম্পন মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। এই বিষয়টি অনুসরণ করে সাপুড়েরা বীণ বাজাতে বাজাতে ক্রমাগত পা দিয়ে কম্পনের তৈরি করে এবং সেই কম্পনেই সাপ বেরিয়ে আসে বীণের শব্দে না।

বীণ বা বাঁশির শব্দে সাপ এদিক ওদিক দুলতে থাকে না বরং এগুলোকে সে প্রতিপক্ষ মনে করে অনুসরণ করতে থাকে। বীণের পরিবর্তে অন্য কোনো বস্তু হলেও সে একইভাবে শরীর দোলাতে থাকবে।

সাপের স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল এমনকি সামাজিক বন্ধনও থাকে না তাই এক সাপ মেরে ফেললে তার সঙ্গী প্রতিশোধ নিতে আসবে এটা ভুয়া কথা।

সাপের কামড়ে ঘোড়ার কিছুই হয় না বরং কিছুদিন অসুস্থ থাকে। ঘোড়ার সেই রক্ত থেকে সিরাম আলাদা করে ল্যাবে প্রস্তুত করা হয় অ্যান্টিভেনাম। উল্লেখ্য, যে প্রজাতির সাপ কামড় দেয় ঠিক সেই প্রজাতি হতেই অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত করা হয়। উট, বেজি, হাঙ্গর এদের দেহ ও সাপের বিষ প্রতিরোধী। শুধু আমাদের দেশে প্রতি বছর ভারত থেকেই অ্যান্টিভেনাম আমদানী করা হয় ১০ কোটি টাকারও বেশি।

শিউলী, হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে সাপ আসে এটিও ভুল তথ্য। এদের ঘ্রাণশক্তি ক্ষীণ। মূলত পোকা খাওয়ার লোভেই সাপ ফুল গাছের নিচে আসে।

সাপের গলা কেটে দিলেও এটি মুখ দিয়ে বিষাক্ত বিষ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার মত বোকামি না করাই ভালো।

আমাদের দেশে যেসব সাপ আছে তাদের মধ্যে রাসেল ভাইপারের কোনো অ্যান্টিভেনাম নেই। গোখরো কামড় দিলে ৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিভেনাম না নিলে মৃত্যু নিশ্চত।

অনেকের ধারণা সাপ কামড়ালে শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধতে হবে বিষয়টি ভুল। একটি লম্বা কাঠ ও কাপড়ের সাহায্যে আক্রান্ত স্থানটি বেঁধে ফেলুন। খুব বেশি শক্ত করে বাঁধবেন না, এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনভাবে বাঁধতে হবে, যেন আক্রান্ত অঙ্গ ও কাপড়ের মাঝে কষ্ট করে একটি আঙুল ঢোকানো যায়। ও হ্যাঁ আবার চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না এতে আপনিও মরবেন।

ওঝার বাবার সাধ্য নেই বিষাক্ত সাপের বিষ নামানোর। যেগুলোর বিষ নামায় বলা হয়৷ সেগুলো নির্বিষ সাপ।

(সাপ নিয়ে একটু পড়ালেখা করেছিলাম। তার মধ্যে বাছাইকৃত কিছু তথ্য আপনাদের সাথেও শেয়ার করে পণ্ডিতি ফলালাম- যদিও এই তথ্যগুলো এখন ওপেন সিক্রেট)!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ২:০০
২১টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×