"দ্য থ্রী কোয়েস্চন্স" (তিনটি প্রশ্ন).....
লিও টলস্টয়ের একটা ছোটো গল্প আছে, "দ্য থ্রী কোয়েস্চন্স" (তিনটি প্রশ্ন)। নিশ্চয়ই অনেকে গল্পটি পড়েছেন। গল্পে এক রাজার তিনটে প্রশ্ন ছিল-
(১) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় কোনটা,
(২) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কে এবং
(৩) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী।
তাঁর মনে হয়েছিল এই তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানলে তিনি সব কাজে সফল হতে পারবেন। গল্পের শেষে তিনি এক ধর্মযাজকের সাহায্যে ও নিজস্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে এই প্রশ্নগুলির উত্তর পান। উত্তরটি শিক্ষণীয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে 'বর্তমান', কারণ এই বর্তমানই একমাত্র সময় যখন আমরা কিছু করতে পারি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হল 'বর্তমান সময় আমি যার সাথে আছি'।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল 'সেই ব্যক্তির উপকার করা'।
যাঁরা সুস্থ্য রাজনীতি করেন তাদের কাছে সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি হল জনগণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সেই জনগণের সেবা করা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়? তা অবশ্যই বর্তমান।
বর্তমানে মানুষ এক মহামারীর আক্রমণে বিপর্যস্ত। মহামারীকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সার্বিক সরকারি ব্যর্থতা একদিকে মানুষকে যেমন লাগামহীন সংক্রমণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে - তেমনি বিনা চিকিৎসায় প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে। তার সাথে কর্মহীনতা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের অতল গহ্বরে গোটা দেশ ধাবিত হচ্ছে। প্রতিবাদীদের, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কর্মীদের জেলে বন্দী করে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে একশ্রেণীর লোকদের দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়ে এবং কর্পোরেটদের মুনাফার পাহাড়কে আরো সুউচ্চ করছে।
আর মানুষ যখন এই অসহায় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাইছে, তখন ট্রাম্প-বলসেনারোদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিয়ে আসা হচ্ছে মানুষ-মারা তত্ত্ব!
হ্যাঁ, যতদিন না এই মহামারীর মোকাবিলা করা গেছে, যতদিন না সংক্রমণের কার্ভকে নীচে নামিয়ে বেসলাইনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া গেছে, ততদিন সরকারকে ভুক্তভোগী নাগরিকদের বাড়িতে বসিয়ে খাওয়াতে হবে। জন্মের সময় থেকে আমৃত্যু প্রতিটি নাগরিক সরকারকে ট্যাক্স দেয়। সেই ট্যাক্সের টাকার ভগ্নাংশ এই দুঃসময়ে নাগরিকদের জন্য ব্যয় করা হোক।
সরকার ঘোষণা করছে, "আমরা উন্নয়ন ও আর্থিক অবস্থায় সিংগাপুরকে ছাড়িয়ে গিয়েছি। ইউরোপ আমেরিকার চাইতে অনেক ভালো অবস্থানে আছি"! তাই যদি হয়, তাহলে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজের ভাঁওতা দিয়ে দলীয় চোর আর কর্পোরেটদের উদরপূর্তি নয় - যদি পরিবারপিছু (৪ জন হিসেবে) ৫ কোটি কিম্বা ১০ কোটি পরিবার ধরা হয়, তাহলে জনগণের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ট অংশ এই আর্থিক সুবিধার আওতায় আসে। এবার ৫ কোটি পরিবারকে যদি মাসে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়, তাহলে তিন মাসে খরচ হয় দেড় লক্ষ কোটি টাকা। ১০ কোটি মানুষকে তিন মাস এই সুবিধা দিলে ৩ লক্ষ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করলেই মানুষকে অনাহারে না মেরে করোনার সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙা যায়। মানুষকে অভুক্ত রেখে আলটপকা লকডাউন বা সেই অভুক্ত মানুষেরই মাথায় বন্দুক ধরে আলটপকা 'আনলক', এর কোনোটাই করতে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


