somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একালের বুদ্ধিজীবী এবং সেকালের ভীষ্ম-দ্রোণ-কৃপাচার্য এবং একজন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ ............

১০ ই জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একালের বুদ্ধিজীবী এবং সেকালের ভীষ্ম-দ্রোণ-কৃপাচার্য এবং একজন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ ............

যখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বেঁধে গেল, তখন পাণ্ডবেরা আশা করেছিলেন যে ন্যায়নিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা অন্যায়কারী কৌরবদের বিরোধিতা করবেন ও পান্ডবদের পক্ষে দাঁড়াবেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা তা করলেন না, কৌরবদের অন্যায়কারী জেনেও তাঁরা পান্ডবদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে নামলেন।

পান্ডবরা যখন তাঁদের পক্ষে যুদ্ধের সেনাপতিত্য গ্রহণের জন্য ভীষ্ম-দ্রোণ-কৃপাচার্যের কাছে আবেদন জানালেন, তখন কৌরবদের বিরোধিতা করতে তাঁরা অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন এই বলে -
"আমরা কৌরবদের অর্থসাহায্যে জীবন ধারণ করেছি, সে কারণেই ক্লীবের মতো আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে কৌরবরা যত অন্যায়ই করুক ওদের বিরুদ্ধে আমরা যেতে পারি না, কারণ সকল মানুষই অর্থের দাস, অর্থ কারুর দাস নয়।"

কী কঠিন ও মর্মান্তিক স্বীকারোক্তি!
এরকম স্বীকারোক্তি বর্তমান কালের খুব কম সংখ্যক বুদ্ধিজীবীই করেন বা করতে পারেন। অর্থের দাস বা অন্নদাস অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীই বরং বুদ্ধির মারপ্যাঁচের আশ্রয় নিয়ে অন্যেকেও প্রতারণা করেন আবার আত্মপ্রতারণাও করেন। তাঁরা কিছুতেই পারে না তাদের অন্নদাতার বিরুদ্ধে একটি শব্দ বলতে বা লিখতে। স্বৈরাচারী ক্ষমতাসীনের একটা ফোনকল বা একটা নিমন্ত্রণে তাঁদের চোখ চকচক করে ওঠে। জুটলেও জুটতে পারে পরবর্তী নির্বাচনী টিকিট অথবা অন্নদাতার লংগরখানার এক কোণে স্থান। "তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়" লেখা হয় কেবল কবিতা বিক্রির জন্য। বাস্তবে কবি/শিল্পী/বুদ্ধিজীবীরা রাণীমার পায়ে ল্যাজ নাড়ায়।

তবে এই রাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের নগদ ও সুদূরপ্রসারী সাফল্যের মধ্যে অন্যতম সাফল্য, আমাদের কালের অনেক বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গায়ক/গায়িকা, সাংবাদিকের আসল চেহারার উন্মোচন। সময় নামক কষ্টি পাথর যাচাইয়ে তারা ধরা দিয়েছেন। যারা সুবিধাবাদী তারা সব সময়ই সুবিধাবাদী। একজন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ ছদ্মবেশী দালাল ও ভন্ড চেহারা নিজেই খুলে দিয়েছে এই সময়। নিপুণ সুশীল শিরদাঁড়ার ছদ্মবেশটি যারা নিয়েছেন বেশ, তাদের দ্বারা আন্দোলনের মাঠে শরিক যারা এবং চোখ কান খোলা যাদের, তারা এর পর অবশ্যই বিভ্রান্ত হবেন না আশা করি।
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেল পাকলে কাকের কী?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:১৫

বন্ধু বান্ধব বিয়ে করছে। কিন্তু তাদের মনে অনেক দুঃখ। কত আশা ছিল সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবে অথচ জুটছে মোটা, কালো সব মেয়ে। বর্ণবৈষম্য হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। তবে এটা কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্র রাজনিতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের সভ্য কোন দেশেই ছাত্রদের লাঠিয়াল বাহিনি হিসেবে ব্যবহার করেনা।

লিখেছেন নতুন, ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৭



দেশের ভবিষ্যত নেতা তৌরির কারখানা হিসেবে অনেকেই ছাত্ররাজনিতির দরকার আছে বলে ধারনা করে। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনিতিকদের কাজে বোঝা যায় সময় এসেছে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার। ছাত্ররা বর্তমানে রাজনিতিক দলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যিকারের দেশপ্রেম কী?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ১:২৬


বাংলাদেশে দেশপ্রেম বলতে আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতের বিষোদগার করা, মাইকে গলা ফেটে বঙ্গবন্ধু গুনকীর্তন গাওয়া, বঙ্গবন্ধু কন্যার গুনকীর্তন করা, জাতীয় দিবসগুলোত ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা করা এবং ভিন্নমতকে রাজাকার, দেশবিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিচারণঃ নজরুল

লিখেছেন জাদিদ, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ২:১৮


ছবি সুত্রঃ shadow.com

নজরুলের মাহযাবঃ
আমি সাধারনত পাগল, ছাগল এবং আঁতেল এই তিন শ্রেনীর মানুষ দেখলেই সাথে সাথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তা সম্ভব হয় না, নুন্যতম ফরমালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

এত বড় কবি কেন দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেলেন না?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে মে, ২০২২ রাত ১০:৪০



বাংগালীরা পড়তে ও লিখতে জানতেন না, যারা সামান্য লেখাপড়া জানতেন, তাঁদের বড় অংশ ছিলেন দরিদ্র, যাদের সামর্থ ছিলো, তারা বই কিনতো না; এই কারণে, কবির তেমন আয় ছিলো না। তখনকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×