somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন শিখি, আসুন বাঁচি....

১১ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আসুন শিখি, আসুন বাঁচি....



২০১২ সনের এক বৃষ্টির দিন। তখন জাহিদ একটা দোকানে ইলেক্ট্রিশিয়ানের হেল্পার হিসেবে কাজ করছে। যদিও মূল পেশা তালা-চাবি মিস্ত্রি।

কাওরানবাজার এলাকায় একটা টং দোকানে চাবি বানানোর দোকান এবং ফোন কলে এপাড়া ওপারা ঘুরে তালা-চাবি সারাই করে চলে যাচ্ছিল সংসার। বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ছাড়াও বৃদ্ধা মা। একটু বাড়তি আয়ের জন্য একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের সহযোগী হিসেবে দোকানে, বাসাবাড়িতে যখন যেখানে ডাকে সেখানে কাজ করে। দুটো পেশায় যা ইনকাম, তাতে খুশিই। কিন্তু বিধাতার মর্জি ছিল ভিন্ন। একদিন ঘটে বিপত্তি। এক দোকানের ইলেক্ট্রিসিটির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কতক্ষণ অচেতন হয়ে পরে ছিল নিজেই জানে না।
জ্ঞান ফিরে চোখ খুলে দেখে হাসপাতালে ভর্তি। ডান হাতটা প্রায় শেষ। পেট, বুক, পা, পুড়ে গিয়েছে ভীষণ ভাবে। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে হাসপাতালে তিন মাস। মোটামুটি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস লেগে যায়। কিন্তু ডান হাতটা অকেজো হয়ে গেল পুরোপুরি। চাবি তৈরি কিম্বা ইলেক্ট্রিক্যাল কাজ আর হচ্ছে না তার দ্বারা।

এদিকে চিকিৎসায়, সংসার খরচে দেনা হয়ে গেছে অনেকটা। তাই ওই এক হাতেই ভ্যান চালানো শুরু করলো জাহিদ। মাস ছয় ভ্যান রিকশা চালিয়ে আরও অনেক শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়।
কম শারীরিক পরিশ্রমে পুরোনো কাজ তালা চাবি সারাইয়ের কাজ ঘরেই আবার শুরু করলো প্র্যাক্টিস। থেঁতলানো ডান হাতে চাবি শক্ত করে ধরে, বাঁ হাত দিয়ে হাতুড়ি পিটিয়ে তার সঠিক রূপ দিতে লাগলো। অনেক চেষ্টার পর আবার পুরোনো জাহিদ ফিরে পেল নতুন করে নিজেকে।

জাহিদ আমাদের ছাদ ঘরের চাবি বানাচ্ছে এক মনে। কথা প্রসঙ্গে আমার দিকে তাকিয়ে বললো- "স্যার, ওই সময় বস্তির অন্য বন্ধুরা বলেছিল গাঁজা বেচতে। গাঁজা বিক্রিতে অনেক লাভ, কিন্তু আমি শত কষ্টেও অসত পথে যাইনি। করিনি অন্যায় কাজ। একবার মনে হয়েছিল, নিজেকে শেষ করে দেই। কিন্তু একটু পরেই ভাবলাম- জীবন তো একটাই। মরে গিয়ে যদি সমস্যার সমাধান করতে হয়, তবে মানুষ হলাম কেন?"

এক তথাকথিত অশিক্ষিত মানুষের কি তীব্র জীবনবোধ! আমার হাতে নতুন তৈরী করা দুটো চাবি দিয়ে, মজুরি নিয়ে চলে গেল জাহিদ। যাওয়ার সময় চাবি ওয়ালাদাদের বাজানো সেই ধাতব শব্দ মিলিয়ে গেল রাজপথে- "তালা চাবি সারাই......"।
"তালা চাবি সারাই......"- শব্দটা কানে যেন কোনো দার্শনিকের মুখে জীবনের আহবান মনে হল আমার কাছে। জীবনকে আরো একবার ভালোবাসতে শিখিয়ে গেল জাহিদ!

হতাশার কথা নয়। জীবনের জয় গান বাজিয়ে গেল জাহিদ। "মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ।"
স্যালুট জাহিদ!!!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেল পাকলে কাকের কী?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:১৫

বন্ধু বান্ধব বিয়ে করছে। কিন্তু তাদের মনে অনেক দুঃখ। কত আশা ছিল সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবে অথচ জুটছে মোটা, কালো সব মেয়ে। বর্ণবৈষম্য হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। তবে এটা কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্র রাজনিতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের সভ্য কোন দেশেই ছাত্রদের লাঠিয়াল বাহিনি হিসেবে ব্যবহার করেনা।

লিখেছেন নতুন, ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৭



দেশের ভবিষ্যত নেতা তৌরির কারখানা হিসেবে অনেকেই ছাত্ররাজনিতির দরকার আছে বলে ধারনা করে। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনিতিকদের কাজে বোঝা যায় সময় এসেছে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার। ছাত্ররা বর্তমানে রাজনিতিক দলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যিকারের দেশপ্রেম কী?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ১:২৬


বাংলাদেশে দেশপ্রেম বলতে আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতের বিষোদগার করা, মাইকে গলা ফেটে বঙ্গবন্ধু গুনকীর্তন গাওয়া, বঙ্গবন্ধু কন্যার গুনকীর্তন করা, জাতীয় দিবসগুলোত ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা করা এবং ভিন্নমতকে রাজাকার, দেশবিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিচারণঃ নজরুল

লিখেছেন জাদিদ, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ২:১৮


ছবি সুত্রঃ shadow.com

নজরুলের মাহযাবঃ
আমি সাধারনত পাগল, ছাগল এবং আঁতেল এই তিন শ্রেনীর মানুষ দেখলেই সাথে সাথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তা সম্ভব হয় না, নুন্যতম ফরমালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

এত বড় কবি কেন দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেলেন না?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে মে, ২০২২ রাত ১০:৪০



বাংগালীরা পড়তে ও লিখতে জানতেন না, যারা সামান্য লেখাপড়া জানতেন, তাঁদের বড় অংশ ছিলেন দরিদ্র, যাদের সামর্থ ছিলো, তারা বই কিনতো না; এই কারণে, কবির তেমন আয় ছিলো না। তখনকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×