somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে........

০৬ ই নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে........

ফ্ল্যাট বাড়ি মানেই নিজ নিজ ফ্ল্যাটের মধ্যেই নিজ নিজ পৃথিবী। তারপরেও অনেক সময় কিছু শব্দ, কিছু সূর ক্ষণিকের জন্য হলেও নস্টালজিক করে তোলে। আমি ফজরের নামাজ আদায় করে ছাদে হাটতে যাই। পাঁচ তলা থেকে দশ তলায় হেঁটে উঠি, লিফট ব্যবহার করিনা। সাত তলায় এক ফ্ল্যাটে পঞ্চম শ্রেনী পড়ুয়া এক কিশোরী গান শেখে। প্রতি দিন খুব সকালে উঠে রেওয়াজ করে- আমি কিছুক্ষণ ডাঁড়িয়ে ওর গান শুনি। আজ লতা মংগেশকরের একটা গান তুলছে- "আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে........."- শুধু হারমোনিয়ামের সুরে গান গাওয়া শুনতে ভিন্ন রকম ভালো লাগা। এমন ভোর বেলা তা আরও শ্রুতিমধুর!



ছেলে বেলায় আমাদের বাড়িতেও গানের চর্চা ছিলো। শিশু কালে বৃহত্তর যৌথ পরিবারের ৫/৬ জন শিশু কোরাস গাইতো.....
"প্রজাপতি, প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা...টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা"৷
কিম্বা-
"ওরে গৃহবাসী খোল্‌, দ্বার খোল্‌, লাগল যে দোল। স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল।
দ্বার খোল্‌, দ্বার খোল্‌॥
রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোক পলাশে,
রাঙা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত-আকাশে,
নবীন পাতায় লাগে রাঙা হিল্লোল।
দ্বার খোল্‌, দ্বার খোল্‌॥"
- কী অপূর্ব সুন্দর শিশুতোষ গান!

তখনকার দিনে সকাল/সন্ধ্যায় যে কোনও পাড়ায় হাঁটাহাঁটি করলে কোনো না কোনো বাড়িতে কিশোরী/ তরুণীদের গলা সাধার আওয়াজ শোনা যেত প্রচুর। এখন তা কদাচিত কালের নিয়মে। যেমন কমে এসেছে পাড়ায় আনাচে কানাচে গানের স্কুল। মেয়েরা কি আর বাড়িতে বেশি গান শেখে না? শিখলেও সেভাবে রেওয়াজ করে না? হয়তো তাই। হয়তো প্রতিবেশীদের বিরক্তির কারণ হতে পারে ভেবে অন্য ঢংয়ে রেওয়াজ করে! আমার গান শেখা হয়নি, তবে সংগীতের উপর বেশ কিছু বই পড়ে সংগীতের খুটিনাটি সম্পর্কে একটা ধারণা অর্জন করতে পেরেছি....

আগে ‘সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি’ সরগম নানা রকম ভাবে গেয়ে, গলা তৈরি করে শিক্ষানবিশ শিল্পী গাইতো- ‘আকাশপ্রদীপ জ্বলে’।

কিন্তু কেন, কী কারণে ওই নিখুঁত বিরহের গান ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ কমবয়সী ছাত্রীদের প্রথম শেখানো হচ্ছে, মাথায় ঢুকত না! এ বয়সে এ গান কাউকে শেখানো উচিত? সাতসকালে সন্ধ্যার আবহে গান শেখানোরই বা কী দরকার?

লতা মঙ্গেশকরের সেই গান শুনতে শুনতে মনে হয়, আবেগের চেয়ে এখানে স্টাইলটাই হয়তো গানের শিক্ষকদের টানে বেশি। সুরকার সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সহজিয়া গানের স্টাইল তরুণীদের শেখানো অনেক সহজ। নইলে গীতিকার পবিত্র মিত্র একেবারে চূড়ান্ত প্রেম-বিরহের স্টাইলে গেয়েছিলেন এ গান। এটাই ছিল বাংলায় লতার প্রথম গান (পুজোয় নয় অবশ্য)। সতীনাথের এই সহজিয়া সুর কিন্তু গাওয়া একদিক দিয়ে কঠিন।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তাঁর স্মৃতি কথায় লিখেছিলেন- তিনি লতা মঙ্গেশকর ফোন করে তাঁর কাছে শুনতে চেয়েছিলেন, ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে- গানটি- তিনি সন্ধ্যা মুখোপয়াধ্যায়কে ফোনে গানটি গেয়ে শুনিয়েছিলেন- এটাই একজন মহান শিল্পীর প্রতি আর একজন মহান শিল্পীর শ্রদ্ধাবোধ’। সতীনাথ মুখোপধ্যায়ও অনেক অনুষ্ঠানে এ গান গাইতেন, এমন আবেদন ছিল জনতার কাছে।
‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে,
আমার নয়ন দু’টি শুধুই তোমারে চাহে
ব্যথার বাদলে যায় ছেয়ে।’

তিনি লিখেছেন- "গাওয়ার শুরুটাই হয়েছিল প্রিল্যুডে বাঁশির ব্যবহারে। প্রথম লাইনের পরে বাঁশির তিনটি হালকা স্বর বাংলা গানে অন্যতম মাইলস্টোন হয়ে রয়েছে। ছোটবেলায় অনেকের মনের মধ্যে ওই বাঁশির ইন্টারল্যুড গেঁথে গিয়েছিল। এ গান গাইলে অনেকে গাইতে গাইতে গানের লাইনের সঙ্গে গেয়ে উঠতেন, ‘পুপ পুপু পু’।
ও ভাবে ওই আওয়াজ ফিরে আসত মাঝে মাঝেই।
‘বয়ে চলে আঁধি আর রাত্রি
আমি চলি দিশাহীন যাত্রী
দূর অজানার পারে
আকুল আশার খেয়া বেয়ে’।


তারপর আবার সেই বাঁশির সরল সুর। বাংলা গানে অজস্র প্রিল্যুড এবং ইন্টারল্যুড এ ভাবে বাঙালির মননে ছাপ ফেলে গিয়েছে। সে গান মনে করলে এ সব সুর মনে পড়বেই। গানের মতোই প্রিয় থেকে গিয়েছে গানের মাঝের ও শুরুর সুর।"
‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ যেমন মাঝখানে বদলে গিয়েছে সুর এবং ইন্টারল্যুডের ধারা। তখন বাঁশি অন্য সুরে গিয়েছে। গানের ভাবনাও চলে গিয়েছে অন্য পথে।
‘কত কাল আর কত কাল
এই পথ চলা ওগো চলবে
কত রাত এই হিয়া
আকাশ প্রদীপ হয়ে জ্বলবে’


একেবারে সবে গান শিখতে শুরু করা কিশোরী কিভাবে বুঝতে পারবে এই লাইনগুলোর আসল মর্ম? কী ভাবে তুলে আনবে নিজস্ব সুরে? তবু গানের শিক্ষকদের কল্যাণে, বারবার হস্তক্ষেপে তুলে নিয়েছে সে গান। যত কঠিন সে কথাই হোক, যথেষ্ট আবেগ দিয়েই গেয়েছে-
‘কোনও রাতে মনে কি গো পড়বে
ব্যথা হয়ে আঁখি জল ঝরবে
বাতাস আকুল হবে
তোমার নিঃশ্বাসটুকু পেয়ে।’


লতা মঙ্গেশকর এমনই এক দূরের তারা। যে কিশোরী প্রথম গান শিখতে শুরু করেছে, তার ‘নয়ন দুটি শুধু তাঁকে চাইবে।’ তাঁর কথা ভাবলে, ‘ব্যথার বাদলে ছেয়ে’ যেতে পারে নয়ন। যদি লতার কাছে পৌঁছনো যায়। প্রেমিকের উদ্দেশে গান তখন হয়ে উঠতে পারে লতার প্রতি নিবেদনের গান।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১০:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×