somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ স্যার.....

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ স্যার.....

আমরা যারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের 'বই পড়া আন্দোলন' এর সাথে জড়িত ছিলাম তাদের কাছে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদ স্যার হলেন আদর্শ দার্শনিক। তিনি বক্তব্য রাখতেন বিভিন্ন বিষয়ে। অনেক সময়ই গ্রাম বাংলার প্রবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতেন, খনার বচণের ব্যাখ্যা দিতেন। বক্তব্য দিতেন অনির্দিষ্ট সময় নিয়ে। এমনও দেখেছি- টানা দুই ঘন্টা বক্তব্য পিনপতন নীরবতায় দর্শক শ্রোতারা শুনছেন, অনেকেই তাঁর বক্তব্য নোট করে নিচ্ছেন। মোদ্দা কথা বেশীরভাগ শ্রোতাদের মতো আমিও তাঁর বক্তব্য গ্রোগাসে গিলতাম..... অনেক বছর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাওয়া হয়না, তবে স্যারের অনেক বক্তব্য মন-মস্তিস্ক এবং হৃদয়ে স্থায়ী আবাস হয়ে আছে। অনেক বছর আগে তিনি বিভিন্ন সময় ন্যায়নীতি উপদেশ মূলক বক্তৃতায় যা বলেছিলেন তা হুবহু মনে না থাকলেও বিষয়বস্তু ভুলিনি। যেহেতু স্মৃতি নির্ভর করে লিখছি তাই অনেকটাই এলোমেলো হলেও মূল বক্তব্য আমার মতো করে প্রকাশ করছিঃ-

* অপাত্রে দান করবে না। দুর্জনের উপকার করবেনা। মূর্খকে উপদেশ দিতে যাবেনা। অবাধ্য লোককে কিছু করতে বলা নিরর্থক। জড় প্রকৃতির লোককে সৎ বুদ্ধি দান নিষ্ফল। যে নদী প্রবল স্রোতস্বিনী একমাত্র সেই নদীকে বাঁধ দিয়েই জল বিদ্যুৎ তৈরী করা যায়। লোহাকেই ইস্পাতে পরিণত করা যায়, কিন্তু সোনাকে নয়।

* ভীরুর মধ্যে যদি সাহস না থাকে তাহলে তার হাতে শত অস্ত্র তুলে দিলেও সে ব্যবহার করতে পারবেনা। কারো মধ্যে যদি মূল্যবোধ না জন্মায় তাহলে তাকে ন্যায় নীতি ধর্ম কথা বলা নিরর্থক।

* শূন্য থেকে কিছুই নব জন্ম নিতে পারেনা। জন্ম সূত্রে জেনেটিক উত্তরাধিকার না নিয়ে জন্মালে অথবা সদ গুরুর সান্নিধ্যে এসে আত্ম সচেতনতা লাভ না করলে বৃষ্টির ধারার মত জ্ঞান কারো ওপর বর্ষিত হলেও তা মানুষ মুছে ফেলে।

* একমাত্র বদলে যেতে ইচ্ছুক মানুষ ছাড়া কোনো মানুষকে বদলানো যায়না। আপনি ইচ্ছা করলে কাউকে ক্ষমতায়িত করতে পারবেন না, যদিনা তার মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা জাগে। তৈল ধারনক্ষম প্রদীপেই তেল দিতে হয়ে। মাটিতে তেল দিয়ে লাভ হয়না। সমুদ্রই বৃষ্টির পানি অক্লেশে ধারণ করতে পারে। খানা ডোবায় সে পানি উপছে পড়ে চারিদিকের রাস্তা ঘাট ডুবিয়ে দেয়।

* প্রকৃতির রাজ্যে একই মাটি পানি বাতাস পেয়েও ভিন্ন ভিন্ন বৃক্ষ হয় কেন? কেন সব বৃক্ষ ফল দেয়না? ফল দিলেও সমান সুস্বাদু হয়না কেন সব ফল? রাষ্ট্র সবাইকে স্বাক্ষর করা শিখাতে পারে, কিন্তু শিক্ষিত নিজেকে হতে হয়। অপাবিদ্যা সবাই লাভ করতে পারে, কিন্তু পরাবিদ্যা গুরুর কাছে লাভ করতে হয়।

* প্রতিভা সৃষ্টিকর্তার দান। তা সবার মধ্যেই কম বেশী আছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কাউকে যোগ্য করে পাঠান না। যোগ্যতা অর্জন করতে হয় । সবার আগে যোগ্য হয়ে উঠতে হয় আত্ম জ্ঞানের জন্য।

* একজন ক্ষৌরকর্মী, আমরা যারা প্রচলিত ভাবে নাপিত বলি। মহাত্মা গান্ধী তাঁদের নাম দিয়েছিলেন- নরসুন্দর। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরকে আমরা মেথর বলি, মহাত্মা গান্ধী তাঁদের সম্মান দিয়েছিলেন 'হরিজন' বলে। নাপিত একটা বংশ পদমর্যাদা হলেও "নাপিতের ষোল চুংগা বুদ্ধি" বলে গ্রামবাংলায় একটা প্রবাদ আছে। নাপিতের 'ষোল চুংগা বুদ্ধি' আছে কিনা জানা নাই, তবে আমাদের সমাজে 'নাপিত' শব্দটা গালি হিসেবেও ব্যবহার করতে দেখি। পেশাদারী কাজের সময় একজন ক্ষৌরকর্মী যদি রাজার কান ধরে কানের পাশের চুল কিম্বা কানের লোম পরিস্কার করে বলে- "আমি রাজার কান মলে দিয়েছি" সেটা নিতান্তই বাঁদর সুলভ কাজ বৈ অন্যকিছু না। সেই বাঁদর সুলভ স্বভাবের এক শ্রেণীর মানুষ আমাদের সমাজে আছে- যারা বিদ্যান, জ্ঞানী-গুণী মানুষের নামে নিন্দা করে, অসম্মান জনক মন্তব্য করে নিজেকে প্রচারণায় রাখতে পছন্দ করে- তারা মূলত ক্ষৌরকর্মীও নয়, স্রেফ নাপিত!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সকাল ১০:২১
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকতারা

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১



তুমি আমাকে যে জায়গায় রেখে গিয়েছিলে, সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে একটা ভূগোল হয়ে গেছে। সেখানে সময়ের নিজস্ব কোনো ঘড়ি নেই, ঋতুর আলাদা নাম নেই, কেবল স্থিরতা আছে, যেন দুপুরবেলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×