somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

একজন আদর্শ শিক্ষক.....

১৭ ই নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৪:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন আদর্শ শিক্ষক...........

একজন তরুণ এক বয়োজ্যেষ্ঠর সাথে দেখা করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: “স্যার, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?”
বয়োজ্যেষ্ঠ বললেন, “না।”
তারপর যুবকটি তাঁকে বললেন যে তিনি তাঁর ছাত্র ছিলেন এবং শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন: “তুমি এখন কী করো?”

যুবক উত্তর দেন: “স্যার, আমিও আপনার মতো একজন শিক্ষক হয়েছি।”
“বেশ, বেশ! খুব ভালো! আজকাল তরুণরা শিক্ষক হতেই চায় না।” বয়োজ্যেষ্ঠ মন্তব্য করলেন।

“হ্যাঁ স্যার। আমিও ছোটবেলায় শিক্ষক হতে চাইনি। আমি একজন শিক্ষক হয়েছি, কারণ আপনি আমাকে আপনার মতো হতে অনুপ্রাণিত করেছেন।”

বয়োজ্যেষ্ঠ কৌতূহলী হয়ে যুবকটিকে জিজ্ঞেস করেন, 'কোন সময়ে তিনি শিক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন'?

যুবকটি তাঁকে বলেন: “একদিন আমার এক সহপাঠী বন্ধু ক্লাসে একটি সুন্দর পকেট ঘড়ি নিয়ে এসেছিল। ঘড়িটা দেখে আমার লোভ হলো- এমন একটি ঘড়ি আমার চাই। আমি ঘড়িটি তার পকেট থেকে চুরি করি।”
কিছুক্ষণ পরে, আমার বন্ধু তার ঘড়ি না পেয়ে ক্লাস টিচারের কাছে অভিযোগ করে, আর আপনিই ছিলেন সেই ক্লাস টিচার।

আপনি ক্লাসে সবার উদ্দেশ্যে বললেন, “আজ ক্লাস চলাকালীন এই ছাত্রের ঘড়িটি চুরি হয়েছে। যে চুরি করেছে, দয়া করে ফিরিয়ে দাও। আমি তাকে কোনো শাস্তিই দিবো না।” তবুও আমি ঘড়িটা ফেরত দেইনি। প্রথম কারণ, এটা আমার খুবই ভালো লেগেছিলো। দ্বিতীয় কারণ, ঘড়িটা ফেরত দিলে সবাই আমাকে চোর বলে তিরস্কার করবে..."!

তারপর আপনি দরজা বন্ধ করে আমাদের সবাইকে উঠে দাঁড়িয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করতে বলেছিলেন। ঘড়িটি না পাওয়া পর্যন্ত আপনি এক এক করে আমাদের সবার পকেট তল্লাশি করেছিলেন।
তল্লাশির সময় আপনি আমাদের চোখ বন্ধ করতে বলেছেন। আমরা আপনার নির্দেশ মেনে চোখ বন্ধ করেছিলাম।

আপনি সবার পকেটে হাত দিলেন এবং আমার পকেট থেকে ঘড়িটি খুঁজে পেয়েছিলেন।

ঘড়িটি পাওয়ার পরও আপনি অন্য সবার পকেট অনুসন্ধান করতে থাকেন এবং সবার পকেটে খোঁজা শেষ হলে আপনি বলেছিলেন, “সবাই চোখ খোলো। আমি ঘড়িটি পেয়েছি।”

আপনি আমাকে কিছুই বলেননি এবং কেবল সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “চুরি করা খারাপ কাজ।”

সবাই জানতে চেয়েছিলো, ঘড়িটি কে চুরি করেছে, কিন্তু আপনি নাম বলেননি। সেদিন আপনি আমার সম্মান রক্ষা করেছিলেন। ওটা আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক দিন ছিল।

কিন্তু ওই দিনেই সিদ্ধান্ত নিই, আমি আর কোনোদিন চুরি করবো না, খারাপ মানুষ হবো না।

এই ঘটনার পর আপনি কখনই আমাকে কিছু বলেননি, এমনকি আপনি আমাকে তিরস্কারও করেননি কিংবা নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়েও কিছু বলেননি।

আমার কাছে মনে হয়েছে, আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা মানুষ। আর সেরা মানুষেরাই শিক্ষক হন। আমিও সবসময় সেরা হতে চেয়েছি। এজন্য শিক্ষক হতে চেয়েছি। আপনাকে ধন্যবাদ স্যার। আপনার কারণেই আমি শিক্ষক হতে পেরেছি।

স্যার, আপনার কি সেই ঘড়ি চুরির কথা মনে আছে?
শিক্ষক উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, চুরি যাওয়া ঘড়ির কথা আমার মনে আছে। আমি সবার পকেটে খুঁজেছিলাম। খুঁজে পাওয়ার পরও আমি অন্যদের পকেটও খুঁজি! যেন কেউ বুঝতে না পারে, কে চুরি করেছে! তুমি না বললে আমি কোনোদিনই জানতাম না, তুমিই এটি করেছিলে। কারণ সবার পকেট তল্লাশির সময় আমিও চোখ বন্ধ রেখেছিলাম- যাতে আমি নিজেও না জানি, আমার কোন ছাত্রটি ঘড়িটা চুরি করেছে।”


(গল্পের পটভূমি শোনা, একটু গুছিয়ে উপস্থাপন করেছি পাঠকদের সুবিধার্থে)

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৪:৪০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×