somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

"বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী".....

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী".....

ভারতীয় উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর বৃটিশদের অধীনে ছিলো। দীর্ঘ বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান হলে আমরা পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেলাম। আবার দুই যুগ পাকিস্তানী দুঃশাসনের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সনে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। স্বৈরাচার এরশাদের সামরিক সরকার ১৯৮২ সালে দেশের ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল; তারপর ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে তার পতন হয়। ২০০৭ সালে শুরু হয় সেনা-তত্বাবধায়ক স্বৈরশাসন। তারপর দীর্ঘ পনেরো বছরে বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের গুম খুন, ক্রসফায়ার, গায়েবী মামলা-হামলা, খোদ শেখ হাসিনা পরিবারের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় সম্পদের হরিলুট মচ্ছব। শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার পাচার। ৩৬ জুলাই ২০২৪ সালে অজস্র প্রাণের বিনিময়ে ছাত্রজনতার গণ আন্দোলনে দুনিয়ার ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্ট, ঘৃন্য ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও রেখে গিয়েছে তার তৈরী ফ্যাসিবাদের দোসরদের। এভাবে আমরা স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেলাম। মুক্তি পাবার এমন হাজারো উদাহরণ দেয়া যায় যা কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কখনো গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আবার কখনো জাতিকেন্দ্রিক। বৃহত্তর পরিসরে শোষণ-বঞ্চনা-অবিচার-অসাম্য, অন্যায়-অমানবিক আচরণ, কাঙ্খিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চা সীমাবদ্ধকরণ, নৃতাত্ত্বিক-ধর্মীয়-ভাষা-জাতি-গোষ্ঠীগত বিচারে দলন-নিষ্পেষণ, চিন্তা-ভাষার স্বাধীন বিকাশের ও চর্চার পথরুদ্ধকরণ, সাধারণকে মানবিক-নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতকরণ ইত্যাদি অন্যায় থেকে মুক্তি লাভের নিমিত্তে স্বতঃস্ফুর্ত, ব্যাপক ও সার্বিক যুদ্ধই মুক্তিযুদ্ধ।

ভারতীয় গোলাম পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। তার প্রভু নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে আমাদের দেশটাকে অশান্তি আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। কাজেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এবারের যুদ্ধ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ।
রাতের শেষে ভোর জেনেও কেউই অন্ধকারে বসে সূর্যের অপেক্ষা করে না৷ আলো জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করে। সে আলো সূর্যের মতো না হলেও আমাদের একেবারে অন্ধ করে রাখে না। আমরা ঠিকই পথ চলতে পারি।

তাহলে দুঃখ শেষেই শান্তি এই আশায় সময় নষ্ট করা কেন? দুঃখের সময়টাকেও সহনীয় করে নেয়া উচিত। সুখের সময় আসবার আগ অব্দি আমরা যেন মৃতের মতো পড়ে না থাকি৷আলোর মতো কোন কাজ, কোন মানুষ, কোন ভালো অভ্যাস জীবনে থাকলে কখন ভোর হবে, কখন শান্তি আসবে তবেই বেঁচে উঠবো -এই অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি মেলে!

সূর্য তার সময়ে উঠুক, শান্তি নিজের গতিতে আসুক! আমরা জীবনকে থামিয়ে না রেখে এগিয়ে যাই সূর্যের কাছে ,শান্তি'র কাছে! জীবনের সাধ্য মানুষের চেয়ে কখনোই বেশি না! জীবন মানুষকে কতবার ভাঙ্গবে? ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়া একজন মানুষ চাইলেই হাজারবার উঠে দাঁড়াতে পারে! হার না মানা সেই যোদ্ধা'র কাছে আলো নিজেই ছুটে আসবে!

আমি অতি সাধারণ ভীতসন্ত্রস্ত একজন মানুষ!
চৌকিদার-কনস্টবল এমনকি বাসাবাড়ির সিকিউরিটি গার্ডদেরও ভয় পাই, সেখানে রাষ্ট্রীয়/সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নানান বাহিনী এবং রাজনৈতিক দুর্বিত্ত্বদের কথা মনে পরলেই পানিশুণ্যতায়ই শুধু নয়- রক্তশুণ্যতায় ভুগি!

কারোর কোনো অনৈতিকতা প্রতিহত করার শক্তি আমার নাই, ফেসবুকে হুংকার করার মতো ফাটাকেষ্টও আমি নই। আমি শুধু প্রতিবাদ ও ঘৃণা করতে পারি এবং সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেটাই করেছি গত পনেরো ষোলো বছর। আমি আমার ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে প্রস্তুত দেশমাতৃকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শত্রুদের মোকাবেলা করার জন্য....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ৯:২২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন বিচার পাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো সাইকো সম্রাটের ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৪


সাভার থানা থেকে মাত্র একশো গজ দূরে, পাশে সরকারি কলেজ, দূরে সেনা ক্যাম্প, চারদিকে মানুষের ব্যস্ততা: এই পরিচিত পরিবেশের মাঝে একটা পরিত্যক্ত ভবন ছিল, যেখানে আলো পৌঁছাত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×