somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ট্রাম্পের দর্পচূর্ণ করে দিয়েছেন জোহরান মামডানী...

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রাম্পের দর্পচূর্ণ করে দিয়েছেন জোহরান মামডানী...

নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামডানী/ মাদানি হাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে, এটা নিয়ে ট্রাম্প থেকে শুরু করে সকল ইয়াহু গুষ্টি মিডিয়া তাকে তুলা ধুনা করছে! বলছে- 'সে এখনো সভ্য হয়নাই, বর্বর রয়ে গেছে, টারজানের মত এখনো হাত দিয়ে খাবার খায়, ওকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দাও"- ইত্যাদি।


অবশ্য ভারত উপমহাদেশের ১.৪ বিলিয়ন লোক, সাথে সমগ্র আরব দেশের লোকজন তাকে সাপোর্ট দিচ্ছে কারণ, এরা সবাই হাত দিয়ে খায় এবং এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ এশিয়ানদের কালচার।‌

কিন্তু জায়োনিস্ট গোষ্ঠী একজন মুসলিম মেয়র হোক সেটা চায়নি, তাই একযোগে এটাক করছে। জোহরান মাদানীর পক্ষেও অনেক কমেন্ট পরেছে। যেমন একজন লিখছে-
* আমেরিকা এত সভ্য হয়েছে যে পিজ্জাও কাঁটা চামচ দিয়ে খাইতে চায়!

* আরেকজন লিখেছে, হট ডগ কী ফর্ক দিয়ে খায় নাকি হাত দিয়ে? এখন থেকে চিপস (ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ ) ফর্ক দিয়ে খাইও বন্ধু!

তবে সবচেয়ে বেশি যেটা ভালো লেগেছে, একজন লিখছে - "পশ্চিমারা ফর্ক দিয়ে খাবার খায়, কারণ তোমরা হেগে হাত ধোও না ! ফলে তোমাদের গান্ধা হাত, নাক মুখের থেকে দূরে রাখার জন্যই তোমাগো কাটা চামচ লাগে!"

এই হাত দিয়ে খাবার খাওয়া নিয়ে বিলাতের রাণী যখন মারা যায় তখন এক বাংলাদেশী ফুড ভ্লগার আফসোস করে লিখেছিলেন- "আহা, বেচারী আজ মরে গেল, কিন্তু ৯৬ বছর বেঁচেও কোন খাবারের সম্পূর্ণ স্বাদ নিতে পারে নাই, কারণ সে কোনদিন হাত দিয়ে খাবার খায় নাই।‌ এমনকি কলাও কাটা চামচ দিয়ে খেয়েছেন সারাজীবন। একটি পাকা কলা হাত দিয়ে ধরতে কেমন সেই অনুভূতি কোনদিন পায় নাই রাণী।"

স্পর্শ বিহীন খাবারে কোন টেস্ট নেই!
হাত দিয়ে বিরিয়ানী না খেলে বিরিয়ানীর আসল স্বাদ কোনদিন পাওয়া যায় না। পান্তা-ইলিশ হাত দিয়ে না খেলে তো বাংগালীয়ানা আর "হাজার বছরের ঐতিহ্য"ই মাটি হয়ে যাবে! নরম মোলায়েম কেক যে হাত দিয়ে না খেয়েছে তার জীবন বৃথা। আমি শিওর রাণীর জীবন বৃথা ছিল নির্ঘাত!

মানুষের পঞ্চম ইন্দ্রিয়ের মধ্যে অন্যতম হলো স্পর্শ।
মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে বা আপন মনে করে তখন তাকে স্পর্শ করে তার ফিলিংস গ্রহণ করে এবং প্রকাশ করে। কেউ তার সঙ্গীর সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে হাতে গ্লাভস পরে না, কারণ স্পর্শ না হলে কেউ স্বর্গীয় সুখ পায় না! তেমনি হাতের স্পর্শ ছাড়া খাবারের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না তা- ট্রাম্প সাহেবকে কে বোঝাবে।

আমার স্বল্পকালীন বিলেত জীবনে আমার রুমমেট ছিল দুজন পশ্চিমা। 'বিলেতে এসেছি'- তাই তাদের সামনে হাত দিয়ে খাবার খেতাম না (যদিও আমরা ক্যাডেট কলেজ জীবন থেকেই কাটা চামচে খেতেই অভ্যস্ত তবুও বাড়িতে চামচ-হাত যৌথ ব্যবহার করতাম। কিন্তু ইউরোপীয়দের সামনে নিজ জাত্যাভিমান আর বাংলাদেশের ইজ্জত রক্ষার্থে হাত দিয়ে খেতাম না)!

কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝতে পারলাম আমি শুকিয়ে যাচ্ছি! ওয়েটলস হচ্ছে দ্রুত। বুঝলাম হাত দিয়ে ভালো করে খেতে পারছিনা বলে! তখন এক বুদ্ধি বের করলাম-
তাদের সামনে ডিনার করতাম না, তবে তখন যদি তারা ডাইনিং রুমে ঘুরা ঘুরি করতো বা টিভি দেখতো, তখন আমি তাদের দিকে পিছন ফিরে বসে খাবার খেতাম এবং
বা-হাতে একটি ফর্ক দিয়ে প্লেটে টুংটাং শব্দ করতাম। ঐ শব্দ শুনলে মনে হতো আমি খাবার খাচ্ছি। আসলে আমি ডান হাত দিয়ে বাঙালি স্টাইললে কব্জি ডুবিয়ে ভাত খাচ্ছি!

জোহরান মামদানির জন্ম ১৯৯১ সালে, উগান্ডার কাম্পালায়। তার বাবা প্রফেসর মাহমুদ মামদানি- বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ। মা মীরা নায়ার- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, মনসুন ওয়েডিং ও দ্য নেমসেক-
এর নির্মাতা।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই দম্পতির ছেলে বড় হয়েছে নানা দেশে, নানা সংস্কৃতির ভেতর। জোহরান পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের Bowdoin College-এ, “Africana Studies” বিষয়ে। ছোটবেলা থেকেই মানুষের গল্প, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো- এই দুই ছিল তার প্রেরণা।

আজ তিনি নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির নির্বাচিত সদস্য (ডিস্ট্রিক্ট ৩৬, কুইন্স)। তাঁর রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর- সাশ্রয়ী বাসস্থান, ন্যায্য মজুরি, গণপরিবহন।
নরম স্বভাব, দৃঢ় আদর্শ- এই দুই মিশে আছে জোহরানের কাজে ও কথায়।

শুভ কামনা জোহরান মামডানী।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×