somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

এই অবক্ষয়ের শেষ কোথায়…?

১৪ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই অবক্ষয়ের শেষ কোথায়…?

গতকাল এক বিচারকের কিশোর সন্তান নির্মমভাবে খুন হলো। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিচারকের স্ত্রীও। আর হত্যাকারী- স্ত্রীর বখাটে প্রেমিক। সমাজের এই গভীর পতনের প্রতিটি ঘটনা যেন আমাদের মুখের ওপরে সপাটে চপেটাঘাত করে।

মনে হয় মানুষের ভেতরের মানবিক প্রবৃত্তিও করোনাভাইরাসের মতোই মিউটেশন ঘটাচ্ছে- নতুন নতুন বিকৃত রূপে ফিরে আসছে। কয়েক বছর আগেও মানুষের মনোজগৎ এতটা হিংস্র, এতটা কদর্য ছিল না। তখন হৃদয়ে আলো ছিল, বিশ্বাসের এক নির্দিষ্ট পরিধি ছিল- যা সহজে কেউ অতিক্রম করত না। কেউ টপকালেই সমাজের তিরস্কারের চাবুক তার ওপর আছড়ে পড়ত।

মানুষ তখন নিন্দাকে ভয় পেত।
সৎ পথে থাকার এক নীরব গর্ব ছিল।
সম্মান, শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস ছিল সম্পর্কের সেতুবন্ধন- যৌনতার নয়।

সেই সব দিন কোথায় হারিয়ে গেল?
একসময় সম্পর্কের আয়ু ছিল দীর্ঘ- এক জীবনের মতো। ধীরে ধীরে পরিচয় হতো, ধীরে ধীরে বিশ্বাস জন্মাত, সময়ের সঙ্গে অনুভূতি গভীর হতো। আর এখন? দু’জন দু’জনকে ঠিকমতো জানার আগেই সবকিছু শেষ।

আগে ছিল মনের চর্চা-
আর আজ শুধু শরীরের চর্চা।

সম্পর্কের শুরুই হয় যৌনতা ফিয়ে। তারপর একসময় সেই যৌনতা একাধিক জনের দিকে গড়িয়ে যায়। আর পুরোনো সম্পর্ক খসে পড়ে মৃত চুলের মতো- নিঃশব্দে, নিঃশেষে।

মানুষের এই চরিত্রবদলের মূলেই আছে আমাদেরই উদাসীনতা। অন্যায়কে অন্যায় বলতে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের। চারপাশের প্রতিটি অস্বাভাবিকতাকেই আমরা নীরবে মেনে নিচ্ছি। ফলে মানুষের মনে আগাছা জন্মায়, ছড়িয়ে পড়ছে- কিন্তু সাফ করার কেউ নেই। কারণ বেশিরভাগ মানুষই আজ অপপ্রবৃত্তির রোগে আক্রান্ত।
তাহলে প্রশ্ন- কে কার নোংরা পরিষ্কার করবে?

তবুও মনে একটাই প্রশ্ন জাগে-
আমরা কি সেই স্বর্ণময় দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারি না?

সেই রোমান্টিকতার নরম আলো,
সেই চোখে চোখে প্রথম দেখা বিস্ময়,
সেই স্নিগ্ধ সারল্য,
সেই পবিত্রতার মাদকতা,
সেই প্রেমের শিহরণ-
সবই কি চিরতরে হারিয়ে গেছে?
নাকি এখনো কোথাও, আমাদের ভেতরেই, তা পুনর্জন্মের অপেক্ষায় আছে…?

---
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×