somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

VVIP নিরাপত্তাঃ ‘ভিভিআইপি নিরাপত্তায় ‘সালাম’ও নিরাপত্তা ঝুঁকি- বাহ্যিক আচরণ দেখে হুমকি বিচার করা যায় না

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



VVIP নিরাপত্তাঃ ‘ভিভিআইপি নিরাপত্তায় ‘সালাম’ও নিরাপত্তা ঝুঁকি- বাহ্যিক আচরণ দেখে হুমকি বিচার করা যায় না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে একজন মোটরসাইকেল আরোহী প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পাশে গিয়ে সালাম দিয়েছেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। পুলিশ মামলা করেছে, তদন্ত চলছে- আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

এখন একশ্রেণীর সমালোচক এমনভাবে কথা বলছেন, যেন নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ ছিল ওই ব্যক্তিকে ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় দেওয়া!
‘সালাম দিতে ঢুকেছিল’- এই বর্ণনাটি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটিকে অযথা নিরীহ করে ফেলে। ভিভিআইপি নিরাপত্তায় ব্যক্তিটির উদ্দেশ্য কী ছিল, সেটি পরের বিষয়; প্রথম প্রশ্ন হলো- সে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এত কাছে পৌঁছাল?

রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ১৯৯১ সালে শ্রীপেরুমবুদুরে এক আত্মঘাতী হামলাকারী জনসমাবেশে ফুলের মালা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে তাঁর একেবারে কাছে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। অর্থাৎ ‘ফুলের মালা’, ‘শুভেচ্ছা’, ‘সালাম’- এসব বাহ্যিক আচরণ নিরাপত্তার ঝুঁকি নির্ধারণ করে না।

VVIP নিরাপত্তা কোনো আবেগের বিষয় নয়; এটা কঠোর প্রটোকল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়।
কারও উদ্দেশ্য ভালো ছিল কি না- নিরাপত্তা বাহিনীর সেটা বিবেচিত নয়। একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিরাপত্তা বলয় ভেঙে VVIP-এর গাড়ির একেবারে পাশে পৌঁছে গেলে সেটি প্রথমেই একটি security breach। দায়িত্বশীল নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যক্তির উদ্দেশ্য অনুমান করে ঝুঁকি নেওয়া নয়।

বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এ প্রধানমন্ত্রী ও VVIP-এর শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে SSF-এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব করা হয়েছে। একই আইনে নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে; গ্রেপ্তারে বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া বা পালানোর চেষ্টা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের বিধানও রয়েছে।

সুতরাং নিরাপত্তা বাহিনী কেন সঙ্গে সঙ্গে ‘সবকিছু বুঝে’ ব্যবস্থা নিল না- এই প্রশ্ন তোলার আগে একটি কথা মনে রাখা দরকারঃ
নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব কারও মনের কথা পড়া নয়; সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধ করা।

যদি ওই ব্যক্তি নিরীহ হন- আইনি প্রক্রিয়ায় সেটি প্রমাণিত হবে। কিন্তু তিনি যদি নিরীহ না হতেন?
তখন কি একই সমালোচকরা বলতেন-
“নিরাপত্তা বাহিনী এতক্ষণ কী করছিল?”

VVIP নিরাপত্তায় একটি ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক সময় অপূরনীয় হতে পারে। তাই নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে ফেসবুকি আবেগ নয়- পেশাদারিত্ব, সতর্কতা এবং বাস্তব ঝুঁকি মূল্যায়নই হওয়া উচিত শেষ কথা।
নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিন।
কারণ VVIP-এর নিরাপত্তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা(?) নিয়ে সম্ভবত এটা আমার ৫/৬ নম্বর পোস্ট। নিরাপত্তার প্রথম নীতি হলো- Threat assessment is based on access and opportunity, not on appearance or apparent intention.
প্রশ্ন তাই একটাই- সে কে ছিল, তা নয়; সে কীভাবে নিরাপত্তার এতগুলো স্তর অতিক্রম করে ভিভিআইপির এত কাছে পৌঁছাল?
ভিভিআইপি নিরাপত্তা বলয়ে একজন আগন্তুক ঢুকে পড়েছে- এটাই মূল ঘটনা; সে সালাম দিয়েছে কি ফুলের মালা দিয়েছে, সেটি নয়।

ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, হত্যাকারী কখনো হাতে অস্ত্র নিয়েই সামনে আসে না। কখনো সে আসে শুভেচ্ছা জানাতে, কখনো ফুলের মালা নিয়ে, কখনো সাধারণ মানুষের বেশে। রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড তার ভয়াবহ উদাহরণ। কোনো ব্যক্তি যদি ভিভিআইপির নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে গাড়ির একেবারে পাশে পৌঁছে যায়, তাহলে তার হাতে অস্ত্র দেখা যায়নি বা সে সালাম দিয়েছে- এই কারণে ঘটনাটিকে ‘নিরীহ আগন্তুকের সৌজন্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গাড়ির সামনে ছবিতে যে অতিতৎপর ক্যামেরা ম্যানকে দেখা যাচ্ছে- তাকেও আইনের আওতায় আনা উচিৎ ছিলো।

গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া পরবর্তী আইনি বিষয়। তার আগে প্রয়োজন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকটি শনাক্ত করা। কারণ একজন নিরীহ মানুষ সালাম দিতে এসে যদি নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে পারে, তাহলে একই পথ ব্যবহার করে একজন ঘাতকও ঢুকে পড়তে পারে।
ভিভিআইপি নিরাপত্তায় ‘সালাম’ কখনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র হতে পারে না।

Humayun Kabir
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাকতাড়ুয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৪



কৃষির সাথে আমার ও আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ফসলি জমিতে ভুত তৈরি করে দিতে হয়, ভুত বলতে বই পুস্তকের ভাষায় কাকতাড়ুয়া। ফসলি জমিতে ভুত থাকলে পাখি এসে ফসল নষ্ট করে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাক্টরগাজি → চাঁদগাজী → সোনাগাজী → জেনারেশন৭১ কে নিয়ে দুটি কথা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ব্লগার গাজী সাহেব জ্ঞানী কিন্তু তিনি কট্টরপন্থী তাঁর ছেড়া টাইপের মানুষ তবে আলাপচারীতার লোক হিবেবে উনি খারাপ না। আপনি যদি ওনার সংগে হিজড়া রানূ-র মতো জ্বীহুজুর জ্বীহুজুর বলেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×