৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?
১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ সরকার। তিন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭ নভেম্বর পালন করেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।
ইতিহাসের কোনো ঘটনা শুধু যা ঘটেছে, তা দিয়েই মূল্যায়ন করা যায় না; কখনো কখনো যা ঘটতে পারত, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর আমরা বিজয়ের কথা বলি। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলোচক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দিনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, মাহাত্ম্য ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। কিন্তু একটি প্রশ্ন খুব কমই আলোচনায় আসছে- ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যদি না ঘটত, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস কোন পথে এগোত?
আমরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছি, তারা প্রত্যক্ষ করেছি- স্বাধীনতার পর থেকেই দেশজুড়ে একটা ভয়াবহ সময়। তারপর এলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। তারপর বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিলো উৎকন্ঠা, রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল অস্থিরতা, সেনাবাহিনীর ভেতরে ছিল বিভক্তি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে।
প্রশ্ন হলো, সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন হলে রাষ্ট্রের ক্ষমতা কার হাতে যেত? সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত কি আরও ভয়াবহ রূপ নিত? বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোত? ইতিহাসে এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই, তবে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।
৭ নভেম্বরের মূল্যায়ন করতে হলে শুধু সেদিনের স্লোগান, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক বিজয়ের বর্ণনা যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠনে এই ঘটনার কী প্রভাব পড়েছিল। একই সঙ্গে এর বিতর্কিত দিকগুলোও ইতিহাসের আলোচনায় থাকা প্রয়োজন।
ইতিহাস কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়। ইতিহাসকে বুঝতে হলে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন নির্মোহ বিশ্লেষণ, প্রেক্ষাপটের উপলব্ধি এবং বিকল্প সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা।
আমরা যেমন ইতিহাসের বিজয়গাথা শোনাতে চাই, শুনতে চাই, তেমনি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কিভাবে নির্মাণ করতে চাই- সেই বিষয়েও আলোকপাত করা উচিৎ।
ইতিহাসের মাহাত্ম্য শুধু অতীতের গৌরবে নয়; ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা নিহিত থাকে তার ঘটনা, পরিণতি এবং অনুচ্চারিত সম্ভাবনাগুলো বোঝাতে এবং বুঝতে পারার মধ্যে।
৭ নভেম্বর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হোক। একই সাথে- ৭ নভেম্বর না ঘটলে বাংলাদেশ আজ কোন অবস্থায় থাকতো সেটাও সবাইকে অনুধাবন করে সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করা হোক- যাতে আরেকটা ১/১১ না আসে, আবারও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




