
- এইগলা তো তোমার আর মা’র কাপড়। মোর কাপড় কোনটে?
- আছে বেটা আছে! ঈদের কাপড় আগে দেখলে পুরান হয়া যায়। তাই তোমার মায়ে নুকি থুছি।
ছেলেকে মিথ্যা বলেন সিদ্দিক মিয়া। অবুঝ ছেলেটা সেই মিথ্যাটাকে সত্য ভেবে ঈদ আনন্দে বাকবাকুম করতে করতে চলে যায়।
সিদ্দিক মিয়ার খশখশে গাল বেয়ে কয়েক ফোটা উষ্ণ পানি গড়িয়ে পড়ে। জলিল হাজী শাড়ি-লুঙি না দিয়ে যদি একটা হাফ প্যান্ট আর গেঞ্জি দিতেন! হাজীর উপর রাগ হয় সিদ্দিক মিয়ার। ‘হাজী ক্যান ছোট বাচ্চাদের জন্য কিছু দেয় না?’ ভারি একটা দীর্ঘঃস্বাস ছাড়েন সিদ্দিক মিয়া। রাত পোহালেই সকাল হবে। আর সকাল হলে কি করবেন তিনি?
গলা খখারি দিয়ে দুটো ছেলে ঘরে ঢোকে। আবছা আলোয় ছেলে দুটোকে চিনতে পারেন না সিদ্দিক মিয়া। একটা ছেলের হাতে থাকা পলিথিনের ব্যাগটি হঠাত কড়মড় করে ওঠে।
‘আমরা এসেছি ‘প্রোজেক্টঃ নতুন জামা’ থেকে। সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের লক্ষ্য। নিন, এটা আপনার ছেলের জন্য।’
ছেলেটাকে এবার চিনতে পারে সিদ্দিক মিয়া। মঞ্জু মাস্টারের ছোট ছেলে মিজান। ভার্সিটি না কোথায় যেন পড়ে। সিদ্দিক মিয়া ছেলে দুটোকে কিছু বলতে চায়। ঠোঁট দুটো কেঁপে ওঠে, শব্দ হয়না। দু’চোখ দিয়ে অঝোরে কিছু গরম পানি ঝরতে থাকে শুধু।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




