somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয়েকবছর পূর্বের কয়েক'টি কবিতা

১৫ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানীং চেষ্টা করেও কবিতা লিখতে পারিনা। কথাগুলো ক্যামন যেনো গদ্যের মতো হয়ে যায়। আগে নিয়মিত লিখতাম বা ভালো লিখতাম, সেটা বলছি না। তবে মাঝেমধ্যে মন চাইলে অবলীলায় দু'চার লাইন লিখতে পারতাম। সেই হিসেবে, এখন তো আরো ভালো কিছু লিখতে পারার কথা! ☺

কয়েকবছর পূর্বের (ফেইসবুক এবং বাংলা-কবিতা" নামক সাইটে পোস্ট করা) কয়েকটি কবিতা।



® সন্দেহ

প্রিয়, তোমায় বলছি শোন-
যদি কখনো বিশ্বাসের গাঢ় আস্তরণ ভেদ করে
বিন্দু মাত্র সন্দেহ উদিত হয় তোমার হৃদয়ে।
তবে তা কভূ চাপা রেখ না!
চিত্তের ক্ষেত্রে সন্দেহের বৃত্তরেখা এঁকো না।
জানিও মোরে তা কি সেই অকারণ!
যার জন্য তোমার আকাশে দ্বিধা ঘনের বিচরন।
নিমিষেই দূর করে দেব সব দ্বিধা-সংশয় সত্যের সজীবতায়,
তোমার হৃদয় সংকুলান হবে প্রেমের পূর্ণতায়।

২০ এপ্রিল ২০১৫, সকাল।



® তোমার প্রত্যাবর্তন

প্রিয়....
তোমার প্রত্যাবর্তনে আজ আমি ফের ফিরে পেয়েছি-
সোনালি আলোয় স্নাত ঝলমলে সকাল;
নূপুরেরধ্বনিতে মুখরিত চঞ্চলা দুপুর, পড়ন্ত বিকাল।
চাঁদ-তারার আলোয় স্ফুরিত নিরব রাত;
শিশির ভেজা শান্ত পাখিডাকা প্রভাত।
চিত্তের ভূখণ্ডে পুনরাগমন ঘটেছে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের;
অবসান ঘটেছে এক রাশ দীর্ঘ অপেক্ষার।

১৫ মে ২০১৫, রাত।



® স্বপ্নগুলো উড়িয়ে দিলাম

মেয়ে, তুমি কি শুনতে পাওনা-
মোর চিত্তের বৃত্তে বন্দি অলীক স্বপ্নগুলোর আর্তনাদ?
ওরা মুক্তি চায়!
উড়ে যেতে চায় অসীম আকাশে; মিশে একাকার হতে চায় বাতাসে।
হয়তবা জৈষ্ঠ কিংবা চৈত্রের কাঠফাটা দুপুরে উড়ো মেঘ হয়ে ছায়া দিতে চায় তোমায়,
দক্ষিণা বাতাসে হয়ে মোহিত করতে চায়
তোমার ক্লান্ত শরীর।
তাই আজ স্বেচ্ছায় স্বপ্নগুলো নীল আকাশে উড়িয়ে দিলাম।
০৭ জুন ২০১৫,দুপুর।


® একটা কিছু

তোমার সাথে কখনো-
নির্জন স্থানে বসে গল্প করতে করতে
সময় কাটাইনি। হাতে হাত রেখে কোনো পথ ধরে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটিনি।
রাতের পর রাত, জেগেজেগে কথা বলিনি।
বস্তুত আমাদের দূরত্ব শুরু থেকেই!
নিয়ত দেখা করা, হাতে হাত রেখে হাঁটা-চলা কিম্বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা... -ওসব কিছুই ছিলো না আমাদের সম্পর্কে। তবে একটা কিছু ছিলো: যার জন্য টের পেতাম না এ দূরত্ব।
ইদানীং মনে হয় আমাদের দূরত্ব অনেক!দেখা নেই, স্পর্শ নেই, কথা নেই... বলে নয়।
মনে হয়, সেই "একটা কিছু" হারিয়ে গেছে!
প্রিয়, কেন এমন মনে হয়(?) বলতে পারো।

২৭ নভেম্বর ১৫, সকাল।


® সময় সাক্ষী

গীটার বাজে!অভিতপ্ত সুরে...
বেলা অবেলায়, মনের বারান্দায় জমায়েত হয়
বিদঘুটে লাল-নীল কষ্ট'রা।
বেলা বাড়ে...
নিষ্প্রাণ স্বপ্ন-বৃক্ষের ডালে করুণ স্বরে চপলপক্ষী গান ধরে।
তোমায় হারানোর শোকে 'আমার কাটে বিনিদ্র রজনী!!'
স্পর্শের বাহিরে,অযাচিত কালো মেঘের আড়ালে
আসন পাতে সকালের সোনালি রোদ্দুর।
নিয়ম মাফিক কালের কালিতে
বিষণ্ণতার সাক্ষর ফেলে যাত্রা করে নতুন ভোর।
সময় সাক্ষী! ইদানীং, এভাবেই যাচ্ছে আমার দিনকাল।
১০ জানুয়ারি, ১৬।


® ভাসমান

প্রচণ্ড বৃষ্টির পর,
আমাদের ছোট্ট নদে 'একগঙ্গা জল নামতো'
ঘোলাটে পাহাড়ি জল:
বাড়ির সামনের ব্রিজ দিয়ে- কুণ্ডলী বেধে, ঘুরে ঘুরে।
আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম-
বৃত্তের মতো সৃষ্ট জলের কুণ্ডলী ঘিরে
ভাসমান খড়কুটোর ক্ষণিক ঘূর্ণন;
অতঃপর, জলে মিলিয়ে যাওয়া।
এখন মাঝেমাঝে নিজেকে কুণ্ডলীর উপর ভাসমান খড়কুটোর মতো মনে হয়;
আর প্রেমকে কুণ্ডলী, যার স্থায়িত্ব ক্ষণিক।


® ইদানীং

নির্জন নিশিতে
যখন পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে যায়;
তখন তোমার প্রতিটি স্মৃতি হয়ে ওঠে
- 'একেকটি কয়লার টুকরা'
অস্তিমান সময় দিয়াশলাই!
রাতভর ব্যর্থতার অনলে জ্বলে -আমার ভেতরবাড়ি-
ছাই উড়ে, বেলা বাড়ে....
চোখের কোণে নোনাজল জমতে জমতে রচিত হয় কাব্য।
ইদানীং রাতজেগে কাব্য লিখি--
ঘুমহীন রাতের এলোমেলো কাব্য।

০৮ এপ্রিল, ১৬।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:৩২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার 'নতুন গ্রাম আন্দোলন'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



বাংলাদেশের উন্নতি হতে হলে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। গত ৫৬ বছরে আমাদের দেশের গ্রামবাসীদের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে। সেখানকার মানুষ অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নিম্ন সেলারির জব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×