গত মাসকয়েকের প্রকান্ড রোদে প্রকৃতির রঙ শুকিয়ে যাচ্ছিলো প্রায়। বেহায়া লতার ডগা, পূর্ণবয়স্ক কদমের মগডালের সদ্য ফোটা কদমের ফুল, অহিসাবি কৃষ্ণচূড়া সবকিছু একসাথে যে এত্ত সুন্দর তা গতরাতের কালবৈশাখী ঝড়ের সাহায্য ছাড়া টের পাওয়াই মুশকিল ছিলো...!
প্রকান্ড বর্ষনে প্রকৃতিটা যেন রুপচর্চা করেছে, সেজেছে তার স্বভাবজাত সৌন্দর্য্যে! সে যেন এমনটাই স্বপ্ন বুনেছিলো দীর্ঘদিন ধরে..
বিলের ধারে সারিবাঁধা তাল গাছগুলো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এ যেন সবাই মিলে নিঃসঙ্গতার মিছিলের সম্মুখ লাইনে, গগনচুম্বী চাম্বল গাছের ডগায় একা বকে যাচ্ছে তৃষ্ণাত্ব কোকিল, অদূরে অনাবাদী জমির মাঝে জীর্ণশীর্ণ কাকতাড়ুয়াটা ফসলের অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে একলা দাঁড়িয়ে... পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীর এক ভিন্ন, স্থির অবয়ব সে...ভয় দেখানো পাখিজগত ই যেন কাকতাড়ুয়াটির মৌসুমি বন্ধু।
কি অবাক তাইনা? পাখিদের ভয় দেখানো এই প্রতিকৃতিটা পাখিদের ছাড়া একা.. অদ্ভুত!
ভিজে গেছে কাকতাড়ুয়াটি... শুধু এই অনিমন্ত্রিত বর্ষনেই তার উপর একটু বর্ষার ছোঁয়া পরে বাকিটা সময় সে অস্পর্শা, অবাধ দাঁড়িয়ে থাকে পাখির জন্য, পাখি তাড়াবে বলে... হাত, পা, মাথা এই আপাদমস্তক অবয়বটি যেন সমাজের কিছু স্থবির মানুষের প্রতিকৃতি.... নিত্য পরিবর্তিত পরিবেশের মধ্যে থেকেও এক অপরিবর্তিত সত্তা...! তারা বদলায় না বদলে যাবার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়..

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



