বিদেশি অতিথিদের আমরা বাঁচাতে পারলাম না! ব্যবসায়ের উদ্দেশে তাঁরা সুদূর ইটালি, জাপান, কোরিয়া, শ্রীলংকা থেকে এসেছিলেন আমাদের দেশে। নিরাপদ পরিবেশ আছে মনে করে বিদেশ-বিভূঁই এই বাংলাদেশে এসেছিলেন তাঁরা। তাঁদের লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। এ তো চরম লজ্জার কথা, ঘৃণার কথা, আত্মপীড়নের কথা! ভাবলে গা্ শিউরে ওঠে! আমাদের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। শরীরে জড়তা আসছে, নেতিয়ে পড়ছি আমরা। চিন্তা জেঁকে বসেছে। চল্লিশেই দুইহাঁটুর মাঝখানে মাথা ঢলে পড়ছে। অনেক কিছুতেই এখন পরাজয় মেনে নিচ্ছি! কিছুদিন আগেই ইটালীয় নাগরিক তাবেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারপরে রংপুরে একজন জাপানি নাগরিক। যে জাপান আমাদের এত সহযেগিতা করে তাঁদের নাগরিককে আমরা হত্যা করছি! যে ইউরোপ আমাদের এতটা উন্নয়ন সহযোগী, তাদের নাগরিক একের পর এক হত্যা করছি!
বাংলাদেশের মাটি তো অতিথিপরায়ন! এখানে তো কোনো অতিথি হত্যার সুযোগ নেই। কেনো করছি আমরা এইসব! কোন্ কুশিক্ষা নিচ্ছি আমরা! এরা কাদের সন্তান! এরা কোথায় পড়ালেখা করে? কাদের সঙ্গে মেশে? রাষ্ট্র তো বলেই যাচ্ছে, এখানে কোনো জঙ্গি নেই! কিন্তু একের পর এক কী হচ্ছে এসব! কোন্ প্রতিশোধ খেলায় মেতে উঠছি আমরা! কোনো উত্তর নেই!
আমার কাছে মনে হয় না, আমরা সফল হয়েছি। বিদেশি হত্যা হয় যেখানে সে মাটি সফল থাকে না। আমার ধারণা, আমাদের দেশমাতৃকার নির্মাণ পুনর্নির্মাণে গলদ আছে। আমাদের শিক্ষায় গলদ আছে। নজরদারিতে গলদ আছে। কিন্তু সে নিয়ে উপযুক্ত এবং সাহসী উদ্যোগ নেই। আমরা জোড়াতালি দিয়ে যেনতেনভাবে দেশকে গড়ার চেষ্টা করছি না তো! আমরা যারা মোহ ত্যাগ করে সততা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই করছি, অন্তত জীবন-যাপনে তারা তো কবেই হেরে বসে আছি! সে নিয়ে দুঃখ নেই। এখন কি গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রই হেরে যাবে?

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


