somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাদিজার মৃত্যুশয্যা, বদরুলের চাপাতি, কোনোটাই তো থামছে না!!!

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বদরুল নিয়ে কী লিখব! এ দেশ বরং বদরুলদের হাতেই ছেড়ে দিয়ে চলুন চলে যাই। অভিবাসী হই। লোহিত সাগরে পাড়ি দিতে গিয়ে সলিল সমাধি হই। অথবা ইউরোপের তীরে ‍উঠে মানবিকতার রশি টানাটানিতে করুণায় পাত্র হই। লাঠিসোটা টিয়ার গ্যাস খাই, প্রচণ্ড শীতে তাবু খাটিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করি অথবা ভিনদেশিদের হাতে গলাধাক্কা খাই। ওরা অন্তত এভাবে কোপাতে জানে না। এমনিতেও আমাদের, খাদেজাদের, তনুদের এদেশে জায়গা নেই। একটা বদরুলের ফাঁসি হলে দুদিন পরই আরেকটা বদরুল পয়দা হয়। একটু খোঁজ-খবর নিলেই জানবেন, এই বদরুলদের নিয়েই তাদের পরিবার,দেশ-জাতি গর্ব করে। এদের পেছনে মানুষ হাঁটে। যেকজন মানুষ ফুঁসে উঠেছে তাঁদের হাজারবার সালাম, স্যালুট। কিন্তু আমি ফুঁসে উঠতে পারছি না। আমি লজ্জায়, কষ্টে, অপমানে, ঘুণায় আপনার পায়ে আপনি পদদলিত হচ্ছি। আমি জানি, এ সমাজে আমার কোনো দাম নাই। বদরুল এটা প্রকাশ্যে না ঘটিয়ে একটু ধৈর্য ধরে নীরবে নিভৃতে ঘটালে নিশ্চয়ই সমাজের উপরতলায় একটা জায়গা করে নিতে পারত। বড় নেতা হতে পারত, আরও বড় বড় জায়গায় ঠাঁই পেত! এভাবে কত বদরুল কত বড় হয়েছে, কজনের খবর আমরা জানি! কজনের চুলচেরা হিসেব আমরা রাখি! একজন জঙ্গিরও মূল্য পাঁচ লাখ টাকা! স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে বলে তার পুরস্কার এককালীন পাঁচ লাখ টাকা মাত্র ! অথচ একজন সাধারণ মানুষ যখন এদেশেরই অব্যবস্থার ফলে সড়কে হত্যার শিকার হয়, তখন তাঁর দাম ধরা হয় ১০,০০০ টাকা মাত্র। তাও হিসেবের খাতায় নাম তুলতে পারলে। বদরুল পশু, নাকি জানোয়ার, নাকি হায়েনা, তা বলতে পারব না তবে বদরুল ওটা না ঘটালে অনেক দূর যেতে পারত এটুকু জানি। খাদিজা, বোন আমার, তোর জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু করার কিছু নেই। তুই যখন চাপাতির কোপে খণ্ডবিখণ্ড হচ্ছিলি চারপাশে কত মানুষই না দেখলাম, হাঁ করে কী যেন দেখছিল, কেউ ভিডিও করছিল, হয়তো ভিডিওটা কিছুটা কাজে লেগেছে তবু মনে হচ্ছিল, ওরা যেন চিড়িয়াখানায় গেছিল, যেন ডিসকভারি চ্যানেলে হায়েনার পশুশিকার দেখছিল। এরা যেন টিভি দেখার মতোই উপভোগ করছিল। এত লোক কোপানো শেষ হলে সাহসী হয়ে উঠল। হলি আর্টিজানেও কিছু হায়েনা লোকচক্ষুর আড়ালে এভাবেই কুপিয়েছিল, কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল কিছু দেশি, বেশকিছু ভিনদেশি অতিথি। তাঁদেরই আত্মীয়-স্বজন এখন কেউ একজনও স্বাভাবিক জীবনে এলে কাড়ি কাড়ি টাকা পাচ্ছে! দুঃখ হয়, কষ্ট হয়, জঙ্গি হয়ে জন্মালেও এদেশে তার মূল্য কত! কিছুদিন দেখেছি, জঙ্গিদের চেহারা-ছবি টিভিতে প্রচার করে তাঁদের মা-বাবার ছবি দেখিয়ে অতি আদরের ধন আখ্যায়িত করে বাড়ি ফেরার বিজ্ঞাপন হচ্ছিল। যেন বাপ, তুই ফিরে আয়, কত আদরের ধন তুই, সোনামণি জাদুরে! জঙ্গি হলেও কতই না আদর! হয়তো সেটি তথাকথিত ভালো ভালো ঘরের ছেলেরা ওইকুপথে গিয়েছিল বলেই কিনা জানি না। তবে ওটা দেখে মনের ভিতর একটা আপত্তির মেঘ জমত। খচখচ করত। কেননা যে মানুষ হত্যা করে, যারা সভ্যতার বিনাশ ঘটায়, যারা এক একটি ঠাণ্ডা মাথার কসাই, তাদের জন্য এত দরদ দেখালে তারা তো আরও কত কিনা করবে কে জানে! চুরি, ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি, মস্তানি নিয়ে যে সমাজ সামনে অগ্রসর হয়, যে সমাজের আমি কে! সেখানে প্রচ্ছন্নভাবে চলবে সমস্ত অপকর্ম! আর আমরা আঙুল চুষব আর চাপাতির কোপে খাদিজা জখম হয়ে হাসপাতালের নিষ্ঠুর মৃত্যুশয্যায় বাহাত্তর ঘণ্টার আলটিমেটাম নিয়ে জীবনের যাবতীয় গরল পিয়ে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে থেকে সব কষ্ট শুষতে থাকবে!

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৩:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×