অনেকদিন পরে কারমাইকেল কলেজের চূড়াটা খবরের কাগজে দেখে মনটা এক বিষন্নতায় ভরে গেল। মনে হল আমার ধড়টা এখানে অসাড় হয়ে পড়ে আছে আর মনটা চলে গেছে ওখানে। অবারিত সবুজ আর সারি সারি ইউক্লিপটাস গাছের মাঝে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে কত ভালইনা লাগত। সেই ছোট ছোট মেহগনি গাছের চারা গুলো নিশ্চয়ই অনেক বড় হয়ে গেছে; জানিনা হয়তো সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে পুরা ক্যাম্পাস। নতুন নতুন ছাত্র ছাত্রীর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে আছে সর্বক্ষণ। পিছন ফিরে তাকালে চোখে ভেসে ওঠে...............
মহিলা হোস্টেলের দুষ্টু মেয়েদের ক্ষেত থেকে আলু চুরি করে রান্না করা আর ছেলেদের কাঁঠাল চুরি করে খাওয়ার সেই অনাবিল আনন্দের দিনগুলোর কথা। সেই দিনগুলো কি আর কোন দিন ফিরে আসবে? জানি আসবে না, তবুও স্মৃতি চরণ করে আনন্দ পাই, বেজায় আনন্দ। এমনই একদিনের ঘটনা;
আমি ছিলাম কাঁঠাল চোর বন্ধুদের সর্দার। সন্ধা হলে চার পাঁচ জনের একটা বেপরোয়া টিম নিয়ে ক্যাম্পাসের সব থেকে বড় কাঁঠাল চুরি করতে। একরাতে বস্তায় পুরে পনের বিশটি কাঁঠাল চুরি করে খাটের নীচে রেখে দিতাম। খাটের নীচে সর্বদা কাঁঠালের স্টক থাকত। কাঁচা কাঁঠাল পাকতে সাধারণত দুই তিনদিন সময় লাগত; তবে পাকা শুরু হলে এক সাথে চার পাঁচটা পেকে যেত। আমি ছিলাম বিখ্যাত কাঁঠাল খাদক, প্রতিদন্দি হিসাবে পেয়ে গেলাম বাদশাকে। বাদশা যেমন ছিল নামে ঠিক তেমন ছিল কামে। আফ্রিকার এমব্রোসের মতো দেখতে যে বাদশা তার সাথে টক্কর লাগানো চারটিখানি কথা না। একমাত্র হিম্মতওয়ালা ছাড়া বাদশাকে পেছনে ফেলার কথা কেউ ভাবত না।
শুরু হল আমাদের মাঝে কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগীতা। আমি কাঁঠালের বিচির সাথে জড়িয়ে থাকা কালো আঁশ ফেলে ধীরে ধীরে খেয়ে চললাম। বাদশার সেই সময়টুকু ছিল না, আমাকে টক্কর মারতে অনর্গল কাঁঠালের কোয়া মুখে পুরে আর কুলের আঠি ফেলার মতো বিচি ফেলে দেয়। চোখের পলকে ওর সামনে বিচির পাহাড় জমে গেল। সবার চোখ তখন ওর দিকে কারন ওই হতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন। আমি কচ্ছপের গতিতে খেয়ে চলেছি। ওকে দেখে হাসি পাচ্ছে। এমন জঙ্গি খাদক আমি পূর্বে কখনো দেখি নাই।
একটা কাঁঠাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ বাদশা থেমে গেল, মুখটা ক্যামন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে কারন ওর ভিতর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। কাঁঠালের বিচির সাথে লেগে থাকা কালো পর্দা যে ব্যাটা খাবে তার কপালে নির্ঘাত দুঃখ আছে। আমি খেয়েই চললাম, বাদশা বমি করার জন্য উঠে গেল। প্রচন্ড পেট ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে বাদশার। বন্ধুরা হাসাহাসি করছে বাহাদুরের রণেভঙ্গ দেবার দৃশ্য দেখে। অবশেষে টপকে গেল বাদশার বিচির পাহাড়। সবাই আমাকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ানের খেতাব দিল।
আহ সেই দিনের কথা মনে পড়লে দু চোখ গড়িয়ে পানি ঝরে পড়ে। বুকের মাঝে একটা ঘন্টা হাতুড়ি পেটানো শব্দে ঢং ঢং করে.........................।
আলোচিত ব্লগ
"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....
"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....
ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন
সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন
কথার বুলেট ছুড়ি

ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।
এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরি - ১৯৫

আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি
আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।