somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরে ব্যাচেলর দের জীবন

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরের ব্যাচেলর দের জীবন সবচেয়ে বৈচিত্রময় হয়। প্রথমেই বাসা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপার। একদল আপদ কেউ ঘরে আনতে চায় না।
তারা ঠিকমত ভাড়া দেয় না সময়মত। তারা একটা সিগারেট ৫ জনে খায়, ভাড়া কিভাবে দেবে?
রাত বিরাতে বের হয়, ঢোকে অনকে রাতে। একজন ব্যাচেলরের দশজন বন্ধু নয়তো আত্মীয়ের যাতায়াত তো কমন।
ব্যাচেলররা কিন্তু সাশ্রয়ী। তারা পানি অপরচয় করে না। গোছল করেনা প্রগৈতিহাসিক যুগ থেকে।
জামার ধোয়ার তেমন প্রয়োজন নেই। তিন দিন ঠিক ভাবে পড়ে, বাকি তিন দিন জামাটা উল্টো করে পড়লেই হয়ে যায়।
এক সাবানে সবার হয়ে যায়। অনেকের দুইটা টুথব্রাশে সাতজনের দাত মাজা হয়ে যায়। সবাই ভাবে এটাই আমার টুথব্রাশ।
বুয়া সাধারনত এক্সপেরিমেন্টাল রান্না করতে ব্যাচেলর দের বাসায় আসে। ধরুন আজ বৃষ্টি, খিচুরি রাধতে বললেন। সেই খিচুরি গুলো ইটের টুকরোর মত চাক্কা চাক্কা। গলা দিয়ে নামবে না।
রাতে সারা রাত কথা বলা রুমমেটের প্যারা খেতে হয়। নতুন স্কাইপ ভাইবার ব্যবহারকারী সাউন্ডবক্সে ল্যাপটপ লাগিয়েও কথা বলে।
উপরের তালার মেয়েটা বেশি সুন্দর না নীচের তালার ? এটা ভাবতে ভাবতে
এমন সময় রব ওঠে, উপরের ব্যাচেলর দের ফ্লাটে মেয়ে দেখা গেছে। অনেক অনুসন্ধান করার পর খোঁজ পাওয়া যায়, এটা নতুন বুয়া।
এক জামা বারো দিন পড়া পোলাপান আর এক টুথব্রাশে সবাই দাত মাজা পোলাপানের কাছে মেয়ে?? ব্যাপার টা রূপকথা।
এদের এক কাঁথায় তিনজন হয়ে যায়। রাতে কে কাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায় কেউ জানে না, জানতেও চায় না। কিছু কথা থাকনা গোপনে....
প্রেম হইছে? ব্রেক আপ ? ফেল করছোছ ? চল গলা ভিজাই..... সবাই একযোগে তাকায়। আমতা আমতা করে তখন বলা হয়, কোক কিংবা পেপসি দিয়ে.... পানি দিলেও হবে।
আর এই ব্যাচেলর ফ্লাটে সব কিছুই এশট্রে। গোল যে কোন কিছু। একবার মাউসের উপরের খাপ খুলে যাওয়াতে ওটা এশট্রে হয়ে গিয়েছিলো। খাটের চিপা, জানালা দিয়ে যে কোন জায়গায় এ্যাশ ফালানো যায়। পানির জগ... মগ....
অনেকের পানির মগ শুরুতে থাকলেও এখন জগ দিয়ে সরাসরি খায় পানি। মগ গ্লাস এখানে না রাখাই উত্তম।
পরীক্ষার আগের রাতে টুয়েন্টিনাইন জমে বেশি। আর একজন অবশ্যই থাকে যে সবচেয়েবেশী বায়ুদূষন করে। একজন বেশি খায়। সে পারলে হাড়ি পাতিল চিবিয়েও খেয়ে ফেলে।
আর বাথরুমের প্রায় সব কিছুই বিকল, কমোডের ফুটো ছাড়া, মাঝে মধ্যে ওটাও আটকে যায়। মগের কিনারা ফাটা থাকা আবশ্যক। বাথরুমের স্যান্ডেল শুরুতে থাকলেও পরে সেটা পড়ে কেউ ক্লাসে চলে যায়।
ছেলেগুলো বেশিরভাগই কিপটা। চায় বিড়ি খেয়ে দোকান থেকে আগে চলে আসে। নাইলে ১ হাজার নিয়ে বলে , ভাংতি তো নাই। অনেকে পারলে ভিসা মাস্টার কার্ডও বের করে ফেলতে পারে, অবাক হবার কিছু নেই।
মাসে একবার দেন দরবার হয়। সালিশে বড় ব্যাচেলর সব ঠিকঠাক করিয়ে বুক মিলিয়ে দেন। তারপর শুতে গিয়ে তার বালিশ কোন হারামজাদা নিছে তা নিয়ে কেওয়াজ করেন।
এই সব ফ্লাটে একটা জিনিষ অনেক। হেডফোন, চার্জার, মাল্টিপ্লাগ। তার আর তার চারিদিকে।
মোটা মোটা বই পড়ার জন্য কেনা হলেও পরবর্তীতে তা ল্যাপটপের নীচে দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। আর আরেকজনের ল্যাপটপে উল্টা পাল্টা জিনিষ দেখে ভাইরাস পূর্ন করার পর কিছু জানি না ভাব নিয়ে ঘোরা ফেরা করে।
সবাই পানি খায় ঠিকি, কিন্তু কেউ পানি ভরে না। আর একজন কখনই সিগারেট খায় না। সে কেউ সিগারেট ধরালে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। অত:পর সে বাকিটা টানে।
আর মাসের ২০ দিন খাবারে ডিমের তরকারি থাকে। বাকিটা আল্লার ইচ্ছা। সাথে পাইনা ডাল। কেউ প্লেট পায়, কেউ পাতিল পায়, কেউ অপেক্ষা পায় যে কখন কারো খাবার শেষ হবে।

তারপর..... একদিন শেষ হয় সবকিছুর। পাখিরা ফিরে যায় নিজ নিজ নীড়ে। পরে থাকে সেই এ্যাশট্রে। দেয়ালে সাটানো বব মার্লে কিংবা চে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৩:০২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×