somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকরা জানেন তারা কিছুই জানেন না

০২ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে প্রথমে উদাহরন দিয়ে শুরু করিঃ
হতে পারে এক-অদ্বিতীয় ঈশ্বর সত্যিই আছেন এবং তিনি সচেতন তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে। সময়ে সময়ে তিনি তাঁর সৃষ্টিকে ‘সঠিক পথে’ পরিচালনা করার ‘চেষ্টা’ করেন। তিনি হয়ত একাই তা করেন অথবা এই পরিচালনা করতে তার হয়ত ফেরেশতা, নবী, উপদেবতা কিংবা অবতারের সহায়তা নিতে হয়।
হতে পারে, এই এক-অদ্বিতীয় ঈশ্বর আছেন এবং সৃষ্টির ব্যাপারে সচেতন ও দেখছেন সবকিছু কিন্তু তাতে নাক গলাতে পছন্দ করেন না মোটেই।

এমনকি এও হতে পারে, এই এক-অদ্বিতীয় ঈশ্বর আছেন কিন্ত তিনি উদাসীন তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে। সৃষ্টি করাতেই তাঁর আনন্দ, এরপরে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। তাঁর মত বিশাল সত্ত্বা এই ক্ষুদ্র সৃষ্টিকে নিয়ে সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না।

হতে পারে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর একজন নন, দুইজন। জাপানিজ মিথলোজির সেই ‘ইন-ইয়াং’ এর মত। একজন ভালোকে প্রতিনিধিত্ব করে আর একজন খারাপকে। একজন আলো, একজন অন্ধকার। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ নন, দুইয়ে মিলে দ্বন্দ্ব চলছে সেই আবহমান কাল থেকে। সেই কারণেই কখনো অন্ধকার জেতে আর কখনও আলো। এ কারণেই হয়ত প্রকৃতিতে শৃঙ্খলার পাশাপাশি এত বিশৃঙ্খলা, এনট্রপির বৃদ্ধি। আনন্দের পাশাপাশি এত দুঃখ। বিজ্ঞানও নিজেও কিন্তু আজকাল এমন কিছুই বলছে, পজেটীভ-নেগেটিভ এনার্জি, ম্যাটার-এন্টিম্যাটার এইসব।

ইসলাম সহ বাকি আব্রাহামিক ধর্মগুলোতে প্রায় কাছাকাছি কনসেপ্ট আমরা পাই, ঈশ্বর আর শয়তান। যদিও এ ধর্মগুলোতে ধরে নেয়া হয়েছে শয়তান নিজেও ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং সবশেষে ঈশ্বরই জিতবেন।

এমনও হতে পারে, ঈশ্বর আসলে একাধিক। সেই একাধিক ঈশ্বরেরা আবার সৃষ্টি সম্পর্কে সচেতন হতেও পারেন নাও পারেন। যদি সচেতন হন সেক্ষেত্রে কিন্তু হতে পারে আরও বিভাজন। হয় তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটাভুটি করে দুনিয়াটা চালাচ্ছেন, অথবা তাদের মাঝেও চলে একনায়কতন্ত্র। বিভিন্ন মিথলোজিতে ওডিন, জিউস সহ আরও অনেক একনায়ক কিন্তু আমরা পেয়েছি।। সন্দেহবাদীরা বলবেন, এমন হলে তো তাদের মাঝে মতের অমিল হবে, ঝগড়া হবে, সৃষ্টির ভাগ্য হবে বিপন্ন। হয়ত কথাটা ঠিকও। তাদের মাঝে মতের অমিল হয় বলেই হয়ত এসব ভূমিকম্প, সুনামি আমরা দেখি।

অথবা এমন হতে পারে, প্রকৃতি নিজেই ঈশ্বর। আবার এই প্রকৃতি রূপী ঈশ্বর হতে পারেন চিরকালীন ধরে অবস্থান করা কোনও সচেতন সত্ত্বা অথবা মস্তিষ্ক না থাকা অসচেতন সত্ত্বা। হতে পারে প্রকৃতির কোনও স্রষ্টা নেই, সে নিজেই আদি থেকে অন্ততে ছিলো-আছে-থাকবে।

আমরা হয়ত, সৃষ্টির সৃষ্টি। স্রষ্টা হয়ত এমন একদল প্রাণী তৈরি করেছিলেন বহুকাল আগে। সেই মহাজাগতিক প্রাণীগুলো বিবর্তিত হতে হতে প্রচন্ড বুদ্ধিমান হয়ে এক পর্যায়ে এসে তৈরি করেছে আমাদেরকে। আমরা আসলে গবেষণার বস্তু, ল্যাব-র‍্যাট, গিনিপিগ। তারা আসলে আমাদের মাধ্যমে বুঝতে চায় তাদেরকে সৃষ্টির মূল রহস্য। এবং এই প্রাণীগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অথবা শুধু পর্যবেক্ষণ করে যেতে পারে।

আমরা হতে পারি, এক বা একাধিক ঈশ্বরের স্বপ্নে ভিতরে বিচরণ করা প্রাণী, ঘুম ভেঙ্গে গেলেই কেয়ামত নামবে। অথবা হতে পারি, সেই ম্যাট্রিক্স সিনেমাটার মত কম্পিউটার সিমুলেশন।

উদাহরণ বাড়িয়ে পাঠককে আর বিরক্ত করতে চাচ্ছিনা। বিরুদ্ধবাদীরা হয়ত বলবেন কিসব গাঁজাখুরি লিখছি। কিন্তু সত্যিটা এইটাই। ঈশ্বর যদি থেকেও থাকেন তবে এই অনুমানগুলোর যে কোনটাই হতে পারেন। অথবা তিনি এমন কিছু যা আমাদের অনুমানের বাইরে।

পৃথিবীতে চার হাজারের উপর ধর্ম রয়েছে, অর্থাৎ ঈশ্বরের ব্যাপারে চার হাজার কাছাকাছি মডেল আমদের হাতে রয়েছে। এর মাঝে কোনটা সঠিক কে জানে? সবাই নিজ নিজ পরিবারে প্রচলিত ধর্মকেই গ্রহণ করে ভাবে যে সে সত্যিকারের ঈশ্বরের উপাসনা করছে, বাকি ধর্মগুলো সব ভন্ডদের কারবার, যত্তসব বুজরুকি। কিন্তু না জেনেশুনে এইভাবে গ্রহণ-বর্জন বিজ্ঞানমনস্কতা নয়। ঈশ্বরের এত রকম হাইপোথিসিস থেকে যারা কোনও প্রকার প্রমাণ ব্যতীত এক-অদ্বিতীয়-সচেতন ঈশ্বর মডেলকে সত্য বলে মানছেন ও যত্রতত্র প্রচার করছেন তারা সকলেই অন্তত এই ব্যাপারে অন্ধবিশ্বাসী।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১০:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×