somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবি

১৯ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটা সফর সেরে বাড়ি যাচ্ছি। এখনও ৫ থেকে ৬ ঘন্টার পথ বাকি। বসে বসে কিভাবে সময় কাটবে সেটাই ভাবছি।

আইলের ওপাশে এক মহিলা একটা ছবি আঁকছেন। এখন আবার ভাবছেন। একটা ডাইরি নিয়ে আর কিছু রং পেন্সিল সাথেই ছিল। একটু ভেবে এবার আঁকছেন। এখনো বুঝতে পারিনি কি আকছেন। সিটে পা উঠিয়ে বসেছেন। সাধারণত পথে সবাই ঘুমান, কিন্তু উনি, ব্যতিক্রম। একটা গোলাপী সুয়েটার পরা, পঞ্চাশের মধ্যে বয়স হবে। নাম দিলাম গোলাপী।

আমার পাশে ইয়া মোটা এক লোক বসেছেে। হাফ পেন্ট পরা। রোমশ পা প্রায় লেগে যাচ্ছে। খুবই অসস্থিকর অবস্হা। দেখে মনে হচ্ছে নেটিভ ইনডিয়ান। ওরা সবাই একটু বড়সর। দুই সিটের দেড়টাই ওনার দখলে। আমার অবস্থা খুবই কাহিল।

ওইদিকে গোলাপী বেগমর ছবিটি একটি কঠামোতে চলে এসেছে। গোলাপীর পিছনে এক ভদ্রলোক বসেছেন। নীল শার্ট পরা ঐ ভদ্রলোক একটা কঠিন বই পরছেন। বইয়ের মলাট দেখে মনে হচ্ছে ইতিহাসের উপর কোন বই হবে। ওনাকে দেখেই মনে হচ্ছে অনেক দ্য়ার শরীর। নাম দেয়া যাক দয়াল বাবা। দয়াল বাবার অনেক বয়স হবে।

গোলাপী বেগম এখন পানি পান করছেন আর হাসি হাসি মুখে বসে আছেন। এদিকে পাশের মোটা দেখি একটা ল্যাপটপ বের করে দেখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বেচারা এতই বড় যে সামনের সিটের মঝে ঐ গ্যাপটুকু ও নেই। এখন কি একটা অফিসিয়াল রিপোর্ট পড়ে দেখছে।

প্লেনটা বেশ দুলছে। কি জানি কি ব্যাপার। বাইরে বেশ বাতাস হবে। আচ্ছা ভারি ঠান্ডা বাতাস নিচে নামলে, গরম বাতাস উপরে উঠে। এভাবেই তো ঝড় তৌরি হয়, ভাবার চেস্টা করছি, মাথা কাজ করছে না। কেবিনের এসি ঠিক মত কাজ করছে না হয়ত। একটু গরম লাগছে। পাইলট সাহেব বারাবার দুঃখ প্রকাশ করছেন।

পরীর মত সুন্দরী একজন নারী খাবার পরিবেশন করছেন। সুন্দর মেয়েরা রাগী রাগী হয় না। এই ভদ্রমহিলার কাজই হচ্ছে হাসি হাসি মুখে খাবার দেয়া, কিন্তু উনি কেন যেন রেগে আছেন।

গোলাপী বেগমের ছবিটা একটা এবিষ্ট্রেক ছবিই হবে। ভাল আর্টিস্ট মনে হয়। বাদবাকি সব লোকেরা চোখ বন্ধ করে মরার মত ঘুমাচ্ছে ।
গোলাপী বেগম জিজ্ঞাসা করলাম, কি আঁকছেন। উনি বললেন তেমন কিছু না, জাস্ট প্লেইং। দয়াল বাবার বই পড়া ভালোই চলছে। কোনদিকে খেয়েল নেই। এই দিকে মোটু আমার সাইটের জায়গা দখল করে বসে আছে। গায়ে পরে মোটুর সাথে ভাব জমালাম। সে একটা
ন্যটিভ ইনডিয়ান এরিয়ার এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার। কোথায় যেন একটা ট্রেনিং দিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। বেশ আলাপী মানুষ।

কিছুক্ষণ পরে প্ল্যান ল্যান্ড করবে। ঘুমের ঘোর থেকে জেগে উঠছে সবাই। প্লেনের নাচা নাচি একটু কমেছে।

গোলাপী বেগম আমাকে ছবিটা দিয়ে দিল। আমি বললাম এটা কি একেঁছে। বললো -এলোমেলো ভাবে ছবিটা একেছে, কোন মানে নেই। ভদ্রমহিলাকে আমার অনেক মহান মনে হল।

এদিকে পরীর মত সুন্দরী আমাদের দিকে এসে হাসি উপহার দিয়ে গ্লাস ইত্যাদী সংগ্রহ করে চলে গেলেন। মনে হয় ওনার মন ভাল হয়ে গেছে।

সবাই একটু পরে ব্যাস্ত হয়ে যাবে, ব্যাগ নিয়ে চলে যাবে নিজের ঠকানায়। কারো সাথেই আর দেখা হবে না। আমাদের জীবনটা অনেকটা এই আটসাটো কেবিনে কিছূ সময় কাটানোর মত। এই ছোট্ট জীবনে কেউ জীবনকে সার্থকতা দেয় কাজ করে। আর বেশিরভাগ আমজনতা শুধু ঘুমায়। নাক ডেকে ডেকে ঘুমায়।

আরো কিছু ছবি নিচে দিলাম। উপরের হেডিং ছবিটি গোলাপী বেগমের।








সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৯ ভোর ৫:৫১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×