somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অগ্নিকুন্ড ও আমাদের নুসরাত

০৭ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-"ধুর ! ঘোড়ার ডিম !" "কিরে ভাই এত সকালে ফোন দিসস ক্যান ,কমন সেন্স নাই !"
-"ঐ হইছে থাম । কয়টা বাজে ?"
-"ক্যান কি হইছে ?"
-"আজকে ক্লাসে আবি না ?"
-"নারে দোস ভাল্লাগতেছে না "
-"আবি আবি !একটা কথা কইলেই দৌড়ায়া আয়া পড়বি"
-"কি ?"
-"মামা নুসরাত ক্লাসে আসছে কিন্তু "
-"ও আচ্ছা দেখি আসতে পারি কিনা বাই"

রিশাত আবার ঘুমাতে চেষ্টা করে কিন্তু তার ঘুম আসছে না ।বারবারই তার মনে উকি দিচ্ছে নুসরাতের কথা ।সে উঠে বসল । চুপচাপ কিছুক্ষন বসে থাকে ।তারপর উঠে ফ্রেশ হয়ে মাকে নাস্তা দিতে বলে ।
-"কি ব্যাপার আজকে এত সকাল সকাল ?"
-"আরে মা ক্লাস আছে"
মা রিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায় । রিশাত রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি নাস্তা সেরে বের হয়ে পড়ে ।একটা সিগারেট ধরিয়ে রিকশায় উঠে পড়ে ।সে যখন ভার্সিটিতে পৌঁছায় ততক্ষনে একটা ক্লাস শেষ ।সে ক্লাসে যায় দেখে যে যার মত গল্প করছে । সে নুসরাতকে খোঁজে । না পেয়ে রায়হানকে একটা চাটি মারে ।
-"শালা মিথ্যুক ! নুসরাত না আসছে ? "
-"হরে ভাই আসছে তো "
-"থাপড়ামু শালা "
পরের ক্লাসটা শুরু হতে দেরি আছে ।সে ভাবে ততক্ষনে একটা চা খেয়ে আসা যাক ।সে রায়হানকে নিয়ে নিচে ফারুক মামার টঙে যায় ।চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কথা বলছে হটাত্‍ তার চোখ গেল ফটোকপির দোকানের দিকে ।তার মনে হল সূর্যটা বোধহয় আজকে সব আলো শুধু নুসরাতের দিকেই ফেলছে ।সৌন্দর্য যদি কেনাবেচা হত তাহলে মনে হয় বিল গেটসও এই মেয়েটার সৌন্দর্য কিনতে পারত না ।রায়হানের কথায় হঠাত্‍ তার সম্বিত ফিরে আসে ।
-"কিরে শালা বলছিলাম না নুসরাত আসছে "
ফটোকপিওয়ালাকে টাকা দিয়ে নুসরাত পিছনে ঘুরতেই দেখে রিশাত হা করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ।সে রাগ করবে না হাসবে বুঝতে পারে না ।মনের একটা অংশ বলছে রাগ করতে আর আরেকটা অংশ বলছে হাসতে ।সে দুইটার একটাও করল না ।ক্লাসে চলে গেল ।এই রিশাত ছেলেটা আজকে অনেকদিন যাবত্‍ তাকে লক্ষ্য করছে ।মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগলেও খুব একটা যে খারাপ লাগে তাও না ।ক্লাস শেষ করে সোজা বাসায় যায় রিশাত ।ল্যাপটপটা বের করে নুসরাতকে খুঁজে বের করে ফেসবুকে ।সে নুসরাতকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় । তারপর কিছুক্ষন নিউজ ফিড ঘেটে সে ঘুমিয়ে পড়ে ।হঠাত্‍ তার ঘুম ভেঙে যায় ।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে আটটা বাজে ।রাত না সকাল বুঝার জন্য বাইরে তাকায় সে ।দেখে রাত হয়ে গেছে ।ল্যাপটপটার দিকে চোখ যায় তার ।দেখে ল্যাপটপটা এখনো চলছে ।সে ল্যাপটপ বন্ধ করতে যাবে হঠাত্‍ নটিফিকেশন বারের দিকে খেয়াল করে সে ।অনেকগুলো নটিফিকেশন ।এরমধ্যে "nusrat bristy accepted your friend request" ও ছিল ।আনন্দে লাফ দিয়ে উঠে সে ।বেশ কিছুক্ষন তার প্রোফাইল ঘাটায় সে । ভয়ে ভয়ে নক করে সে নুসরাতকে ।সেদিন অনেকক্ষন কথা হয়েছিল ওদের ।পরদিন ভার্সিটিতে নুসরাতের সাথে দেখা হয় তার ।এই প্রথম সে নুসরাতের সাথে কথা বলে ।বেশ কিছুদিন কেটে যায় ।এরমধ্যে রায়হান ফেসবুকে দেখে
"Rishat ahamed is in a relationship with Nusrat bristy"
আজকে নুসরাতকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে রিশাত ।অনেক ঘুরে সারাদিন ।অনেক জায়গায় যায় তারা ।সন্ধ্যা হয়ে যায় ।রিশাত নুসরাতকে কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে আসে । তারপর সে বাসে উঠে ।

নুসরাত রিকশা করে বাসায় যাচ্ছে ।বাসায় পৌছেই সে রিশাতের ফোন পায় ।
-"হ্যা জানু বল ।"
-"হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম ।এই মোবাইলটা যার সে কি আপনার আত্নীয় ? "
-"জ্বী কেন"
-" জ্বী আপনি এখনই বকশীবাজার চলে আসুন "
-"কেন কি হয়েছে ?"
-"আপনি আসুন তারপর সব বলছি"
নুসরাত ভাবে হয়ত মোবাইলটা হারিয়ে গেছে কোন সত্‍ লোক ফোনটা পেয়েছে ।তারপরও মনে একটা শঙ্কা ঠিকই থাকে তার ।যাই হোক সে বকশীবাজার এসে রিশাতের মোবাইলে ফোন দেয় ।
নুসরাত লোকটিকে দেখতে পায় ।লোকটি তাকে যা বলে তার সারমর্ম এরকম যে রিশাত বাসে করে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওদের বাসে পেট্রোল বোমা মারে কেউ একজন ।এতে তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায় ।

নুসরাতের দুনিয়া ঘুরে উঠে ।এবার সে বুঝতে পারে লোকটি কেন তাকে ঢাকা মেডিকেল না বলে বকশীবাজার বলেছে ।সে দৌড়ে লোকটির সাথে বার্ন ইউনিটে যায় ।লোকটি তাকে একটি বেড দেখিয়ে দেয় । নুসরাত দেখে পোড়া শরীরের উপর সাদা ক্রিমের আস্তরন ।সে চেহারাটার দিকে তাকায় ।চেহারা বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই এই পোড়া মানুষটির ।নুসরাত বিশ্বাস করতে পারে না এটা রিশাত ।"ধুর ! এটা রিশাত হয় ক্যামনে ! ধুর !"
"এই রিশাত !
রিশাত!
জান তুমি কই"
"দেখো না ওরা আমাকে বোকা বানাইতেছে"
"বলতেছে এইটা নাকি তুমি! "
"রিশাত এই রিশাত"

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×