somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কামিল আল আশিক
আমি অসম্ভব কল্পনাপ্রবণ একজন ছেলে। বিদ্রোহী হতে ভালোবাসি, বিদ্রোহীদের ভালোবাসি। আর দশজনের মত ধরাবাঁধা নিয়ম নীতি থেকে যতদুর সম্ভব দূরে থাকতে ভালোবাসি। প্রচন্ড কৌতুহল আমার মনে। সব কিছু নিয়ে জানবার ইচ্ছা প্রবল। তাই দূর আকাশ নিয়ে রচিত বই থেকে প্রাণের সৃষ্টি

ইতুর হাতে একটি নীল ডায়েরী

১১ ই জুন, ২০১৫ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-আপনি ইতু?
- হ্যাঁ, আমিই ইতু। কখন হল এসব?
- আন্দাজ করা যায় আধা ঘন্টা আগে। যতদুর শুনেছি লোকের মুখে গাড়ির সামনে হঠাৎ করে পড়ায় ব্রেক কষেও লাভ হয় নাই, পিষে গিয়েছে, স্পট ডেড।
ঝাপসা চোখ ইতুর। এই তো মাত্র ক ঘন্টা আগেই কথা হল ছেলেটার সাথে। হাসি হাসি মুখে কথা বলছিল, ইতু ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয়ও করিয়ে দিল ছেলেটাকে। আজই আবার ছেলেটার জন্মদিন। ছেলেটা আসিফ, ইতুর ক্লোজেস্ট কেউ একজন,ফ্রেন্ডের চেয়েও বেশি কিছু। একসাথে আসিফ, ইতু আর ইতুর বয়ফ্রেন্ড ক্যাপ্রিকন্স এ বসে ঘন্টা খানেক আড্ডা দিল। এরপর পরই এই ঘটনা। আসিফ আর নেই! ভাবতেই অবাক লাগে ইতুর। আসিফের ফোন থেকে সর্বশেষ করা কল ইতুর নাম্বারে হওয়ায় তাকেই সবার আগে জানিয়েছে পুলিশ।
-এই যে ম্যাডাম, ডেড বডির পাশে এই ডায়েরীটা পাওয়া গিয়েছে। উনার ব্যাগ চেক করার সময় পেয়েছি। চাইলে রাখতে পারেন।
ইতু আসিফের ডায়েরীটা নিল। অনেক চেনা ডায়েরী ইতুর। ক্লাসের অফ পিরিয়ডে সবাই যখন আড্ডায় মশগুল, আসিফ বসে বসে এই ডায়েরীটা লিখত। কতবার ইতু পড়তে চেয়েছে, আসিফ দেয় নি পড়তে। সেই ডায়েরীটা ইতুর হাতে, সে কি আসিফের গোপন ডায়েরীটা পড়বে? ইতু শুনেছিল বেদনার রং নাকি নীল। সে কারণেই ডায়রীটার রং কি নীল?


বাসার বারান্দায় হালকা আলোয় ডায়েরীটা নিয়ে বসেছে ইতু। আসিফের ডেড বডির ছবিটা মাথা থেকে কিছুতের যাচ্ছে না। মনযোগ তাই অন্য দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে সে। ডায়েরীটা অগোছালো ভাবে লিখা, বলাই বাহুল্য অসমাপ্ত ডায়েরী। পৃষ্ঠা ওল্টাতে ওল্টাতে এক যায়গায় থমকে গেল সে। পাতার ওপরে লিখা,"ইতু"
""আজ ছিল ভার্সিটিতে আমাদের নবীন বরণের দিন। এলোমেলো কোঁকড়ানো চুলের একটা মেয়ে একেবারে পাশেই বসেছিল। নাম ইতু, ওর আইডিতে লিখা ছিল। সাধারণভাবে সেঁজেছে, শুধু চোখে একটু বেশি করে কাঁজল দিয়ে। মেয়েটা দেখতে অপরুপা, যে কারোই ভালো লাগবে। জানালা দিয়ে আসা বাতাস বার বার চুল গুলোকে ঠেলে চোখের সামনে নিয়ে যাচ্ছিল আর ইতু সেগুলো কানের পেছনে নেবার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল। নবীন বরণে সিনিয়রদের লেকচার শোনার চেয়ে ইতুর চুল নিয়ে বাতাসের সাথে যুদ্ধ আমাকে বেশি টানছিল। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে দেখছিলাম আমি। মেয়েটার চেহারায় মায়া আছে, স্ট্যান্ডার্ড ভাষায় যাকে বলে কিউট। সেদিন প্রথম বার দেখেই ওর প্রতি একধরণের আসক্তি বোধ করি। যে কোন ধরণের আসক্তিই খারাপ শুনেছিলাম। ইতুর প্রতি আসক্তিও কি এর মাঝেই পড়বে?""


"" ইতু অনেক সিক। জানলাম ওর সাইনাসের সমস্যাটা বেড়ে গিয়েছে। বাইরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল, অনেক জোরে। কি করলে সাইনাস এর সমস্যা আমারো হবে জানা ছিল না, ছাদে গিয়েছিলাম। গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছি প্রায় ঘন্টা খানেক। এরপর সেই বৃষ্টির পানি আমার গায়েই শুকিয়ে গিয়েছে। আর ফলাফল? পুরো গা জ্বরে কাঁপছে ভাইব্রেশন হওয়া মোবাইলের মত। অনেক ভালো ফিল করছি। সম্ভবত আমিই প্রথম ব্যক্তি যে কিনা ১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও ডায়েরী লিখে চলেছি আর অনেক হ্যাপি। আমি হ্যাপি এই কারণে না যে আমি জ্বরের মাঝে ডায়েরী লিখা প্রথম ব্যক্তি। আমি হ্যাপি অনেক, কারণ আমারো ইতুর মতই অনেক কষ্ট হচ্ছে। ওর কষ্ট যেহেতু কমাতে পারছি না, তাই আমি নিজেই ওর মত কষ্ট পেয়ে সমান সমান করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।""


""ইতু আজ জানিয়েছে ওর নাকি বেস্ট ফ্রেন্ড আমি। ঘটনা তেমন কিছুই না, আমি জানি ও পড়াশুনায় তেমন কেয়ার করেনা। তাই ঠিক মত আসাইনমেন্টটাও করবে না। তাই আমি আগে ভাগেই দুইটা রিপোর্ট রেডি করে রেখেছিলাম আজকের ক্লাসের জন্য। একটা ওর একটা আমার। আসলে আমি যা কিছু করি সব কিছুই দুই ভাগ করে নেই। খাবার সময়ও অর্ধেক টা রেখে দিই ওর জন্য, আবার ঘুমানোর সময় বিছানার অর্ধেক অংশ মাঝখানে বালিশ দিয়ে আলাদা করে রাখি। অনুভব করি, ও ওই পাশে ঘুমোচ্ছে। কল্পনা করি আমি, অনেক তৃপ্তি পাই কল্পনা করে! কারণ? কারণ আমি যে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।""


আজ আমার জন্মদিন। আসলে জন্মদিন তবুও "ইতু" শিরোনাম দিয়ে আলাদা করা স্থানে এটি লিখলাম কারণ, এই জন্মদিনটা অনেক স্পেশাল, এই জন্মদিনটা হয়তবা হতে চলেছে 'ইতুময়'। কারণ আমি আজ ওকে বলতে চলেছি, "আমি তোমাকে ভালোবাসি ইতু, অনেক ভালোবাসি! তুমি কি আমার হবে?"
ইতু বলেছে ও আমাকে স্পেশাল কিছু জানাবে, অনেক স্পেশাল আর সিক্রেট! আমি আজ অনেক এক্সাইটেড! ভোর হবে কখন?"


ইতুর সাথে দেখা হয়েছিল। তবে ইতু একা আসে নাই। ওর সাথে ছিল ওর বয়ফ্রেন্ড অর্ক! হ্যাঁ, এটাই ছিল ইতুর সেই গোপন কথা যা সে আমাকে জানাতে চেয়েছিল।
আমি একটা লাল টুকটুকে গোলাপ নিয়ে গিয়েছিলাম ক্যাম্পাসে। ইতুকে দেখে যখন ওটা পেছনের পকেট থেকে বের করব, ঠিক সে সময়ই ওর হাতটা এসে ধরল অর্ক! আমার মায়াপরীকে কেড়ে নিয়ে গেলো। সাথে সম্ভবত হ্যাঁচকা টানে নিয়ে গেলো আমার প্রাণটাও। ইতু যখন এসে বলছিল,"আসিফ, এই যে সেই সিক্রেট! আমার বয়ফ্রেন্ড অর্ক। খুব শিঘ্রয় হয়ত বিয়েটাও সেরে ফেলব" ওর মুখ থেকে মুক্তোর মত হাসি ঝড়ছিল। ফুলটা পেছনের পকেটে রেখেই ইতুর বয়ফ্রেন্ড অর্কের দেওয়া ট্রিট পেতে গিয়েছি সুন্দর করে সাজানো 'ক্যাপ্রিকন্স ' এ। কিন্তু আমার সব কিছু যে এক মুহুর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে গেলো?

একা একা বাসায় ফিরছিলাম, রিকশা নিতে ইচ্ছে করছিল না। দেখি এক বাচ্চা মেয়ে ফুল বিক্রি করছে। আমার দাঁড়িয়ে থাকা দেখে জিজ্ঞেস করল,"অ স্যার, ফুল নিবেন?" হাসলাম হালকা। মানিব্যাগটা দিয়ে দিয়েছি পিচ্চিটাকে, লাইফের খারাপ সময়ে ভালো কিছু করার দরকার। সাথে শুকিয়ে আমার মুখের মত অবস্থা হয়ে যাওয়া গোলাপটা দিয়ে বলেছি,"আই লাভ ইউ পিচ্চি! ভালো থেকো!"
বিনিময়ে একটা হাসি দিয়ে সে দৌড় দিয়েছে, হয়ত তার পিতার কাছে, যে কিনা পঙ্গু অবস্থায় পড়ে আছে অথবা তার মার কাছে যে কিনা অন্যের বাসায় কাজ করে খায়। পিচ্চিটা সবাইকে বলে বলে আমার কাহিনী শোনাবে, হয়তবা অনেক কিছু বানিয়েওও বলবে, "জানিস, সেই মানুষটা না, ইয়া বড় আলখাল্লা পরা ছিল,জ্বীনের মত, এক্কেরে!"
আর ভাবতে পারছিনা। "ইতু" এর জন্য দেওয়া স্থানটায় আজিব সব জিনিস লিখছি। আজকের মত এখানেই থাকুক। এখন আমি হাটব,যতদুর মন চায়! শুধু ভাবব আর হাটব।""


চোখ দুটো ভিজে গিয়েছে ইতুর। কি কারণে সে নিজেও জানেনা। আসলেই, মেয়েরা বড়ই রহস্যময়!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৫ রাত ১০:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×