somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কামিল আল আশিক
আমি অসম্ভব কল্পনাপ্রবণ একজন ছেলে। বিদ্রোহী হতে ভালোবাসি, বিদ্রোহীদের ভালোবাসি। আর দশজনের মত ধরাবাঁধা নিয়ম নীতি থেকে যতদুর সম্ভব দূরে থাকতে ভালোবাসি। প্রচন্ড কৌতুহল আমার মনে। সব কিছু নিয়ে জানবার ইচ্ছা প্রবল। তাই দূর আকাশ নিয়ে রচিত বই থেকে প্রাণের সৃষ্টি

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুর্ভাগা প্লেয়ার!

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গ্লাসগোর হ্যাম্পডেন পার্কের ঘটনার এই ছবিটি গত দশকের অন্যতম সেরা মুহুর্তের একটি। এখানে দেখা যাচ্ছে লিজেন্ড জিদান দুর্দান্ত এক ভলি করছেন। উল্লেখ্য এই ভলিই সেই চ্যাম্পিয়নস লীগ ২০০২ ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে। রবার্তো কার্লোসের ক্রসে অপ্রতিরোধ্য ভলিতে গোল করেন জিদান।

শটের সময় জিদানের বালেন্স আর শট পাওয়ারও ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু ছবিটি দেখতে বলেছি জিদানের জন্য নয়, জিদানের সাথে আরেকজনকে দেখা যাচ্ছে এখানে তার জন্য।
জিদানের থেকে দুই ধাপ দুরে দাড়িয়ে থাকা মানুষটির 'O' আকৃতির মুখ দেখে আন্দাজ করা যায়, তার পৌঁছাতে যে দেরি হয়ে গিয়েছে একটু এটা তিনি বুঝতে পেরেছেন।

মাইকেল বালাক, জিদানের শটের সময় বলের কাছে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি। প্রাণপনেই হয়ত দৌড়েছিলেন, কিন্তু বলের কাছে পৌঁছেছিলেন দ্বিতীয় জন হিসেবে। আর যখন পৌঁছেছেন, ইতিমধ্যে জিদান বাঁ পায়ে দুর্দান্ত শট নিয়ে ফেলেছেন। এখান থেকেই শুরু ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে দুর্ভাগা ফুটবলারের দ্বিতীয় হওয়ার চক্র।

বালাক কেমন প্লেয়ার ছিলেন?
৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা মানুষটি বাঁ পায়ে যেমন খেলতেন, ঠিক তেমনি চলত তার ডান পাও। ছিলেন একজন ধারাবাহিক গোল স্কোরার, তার ট্যাকল ছিল পার্ফেক্ট, সাথে এরিয়েলে ছিলেন বিপক্ষ দলের জন্য হুমকি। মুল কথা, মিডফিল্ডের ফুল প্যাকেজ। তাকে আপনি চাইলে এটাকিং মিডফিল্ডে খেলাতে পারেন, সেন্টার তার ন্যাচারাল পজিশন আবার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেও অসাধারণ। সবচেয়ে বড় কথা মাইকেল বালাক আজীবন খেলে গেছেন দলের জন্য, যখন যেভাবে প্রয়োজন সার্ভিস দিয়েছেন। একজন আদর্শ লিডার, যিনি ক্যারিয়ারের শুরুর লগ্নেই খ্যাতি পেয়েছিলেন 'ছোট কাইজার(রাজা)' নামে, যিনি দলের ড্রেসিংরুমকে সদা হাস্যোজ্বল রাখতেন, তাকে মানুষের ভালো না লেগে কিভাবে পারে? শুধু মাত্র বিপক্ষ দলের প্লেয়ার বলে? নাকি তার খেলায় হিংসা করে?

ছিলেন একজন মিডফিল্ডার তবুও জাতীয় দলের হয়ে ৯৮ ম্যাচে তার গোল ৪২ টি। আবার বায়ার্ন মিউনিখ এর হয়ে ১০৭ ম্যাচ খেলে গোল ৪৪ টি।

২০০১-০২ সিজনে লিভারকুসেনের হয়ে জিততে পারতেন ট্রেবল। কিন্তু ভাগ্যের কাছেই হারতে হয় বালাককে। লীগ জিততে শেষ ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্টের দরকার ছিল, কিন্তু বালাকের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পরা লেভারকুসেন সেই ম্যাচে ২-০ তে হারে। চ্যাম্পিয়নস লীগ হারে মাদ্রিদের কাছে আর ডিভিবি পোকালে ফাইনাল ম্যাচে হেরে রানার্স আপ হতে হতে হয় শালকের কাছে।

২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানরা যেন নতুন রুপকথা লিখতে যাচ্ছিল। সাধারণ গড়পড়তা দল নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল গোলবারের অলিভার কান আর মিডফিল্ডে তরুণ বালাকের জন্যই।
দুর্ভাগ্য যে নিশ্চিত গোল বাঁচাতে ট্যাকল করতে গিয়ে হলুদ কার্ড পান বালাক। তখন ১৯৯০ বিশ্বকাপের পল গ্যাসকোয়েন এর দ্বিতীয় পর্ব দেখবেন ভেবেছিলেন হয়ত অনেকই। অনেকটা একই কারণে কার্ড পেয়ে ফাইনালে খেলতে পারবেন না জেনে ভেঙ্গে পরা গ্যাসকোয়েন দলকে ফাইনালে নিতে পারেন নি, হেরে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু মাইকেল বালাক হারেন নি। বরং দলের হয়ে উইনিং গোল করে নিয়ে যান ফাইনালে।

সেই দিনই জার্মানির কোচ রুডি ভোলার নাকি তাকে "ঈশ্বরের লীলা " বলে শান্তনা দিয়েছিলেন। আশার বাণী শুনিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে এই ত্যাগের জন্য ঈশ্বর তাকে ভালো কিছু উপহার দেবেন।

কিন্তু ঈশ্বরের কি মহিমা কে জানে? ২০০৮ সালে সেই ২০০২ সালেরই পুনরাবৃত্তি। চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে চেলসি বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ম্যাচ পেনাল্টিতে। কিন্তু পেনাল্টি কিকের সময় দুর্ভাগ্য জনিত জন টেরি স্লিপ করেন, গোল মিস হয়। রানার্স আপ হয়ে বিদায় নেয় চেলসি, আবারও দ্বিতীয় হয়ে বিদায় নেয় বালাক।
আবার সেই বছরেই ইউরো ০৮ এ জার্মানিকে গোল করে, গোল করিয়ে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু দ্বিতীয় হবার পালা যে তার তখনো শেষ হয়নি, তরেসের গোলে স্পেনের কাছে হেরে যায় জার্মানি। আবারো বালাকের স্বপ্ন ভঙ্গ, বড় আসরের ট্রফি তার অধরাই থেকে যায়।

বালাকের শেষটা অনেকটা দুঃখজনক, এফ এ কাপের ফাইনালে প্রিন্স বোয়েটেং এর করা ট্যাকল তার ক্যারিয়ারই শেষ করে দেয়। যেখানে ১০ বিশ্বকাপে দলের ক্যাপ্টেন হওয়ার কথা ছিল তার, সেখানে দর্শক হয়ে দেখলেন তরুন জার্মানির তৃতীয় হওয়া। পরে কোচ ইউয়াখিম ল্যোভ তাকে জাতীয় দলের হয়ে দুটি ফেয়ার ওয়েল ম্যাচ খেলে ১০০ টি ম্যাচ পূর্ণ করার জন্য আহবান জানালেও বালাক তা গ্রহণ করেনি। হয়ত দরকার ছিল না তার কোন ফেয়ারওয়েল ম্যাচের। কারণ বালাক নিজেও জানেন, এমন অনেকেই আছেন যাদের জন্য বালাক অনেক কিছু, আর তারা তাকে এমনিই মনে রাখবে তাদের অন্তরে। আর যাদের জন্য বালাক একজন আনফুলফিল্ড পার্সন, আজীবন দ্বিতীয় হওয়া লুজার, তারা তাকে কখনোয় ভালো ভাববে না।

আর এজন্যই ক্যারিয়ার শেষে বলেছেন,"Titles are sometimes overrated. Of course Lothar Matthäus is always going to be associated with the 1990 World Cup. But does everyone immediately remember what titles Günter Netzer, Johan Cruyff or Luís Figo won? Or do they also think about how those players played their football and how they led their teams? I hope that people will remember me as a special footballer."
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×