somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিবাদহীন বর্তমান বাংলা গান, বিদ্রোহ নেই আছে প্রচন্ড রুমান্টিসিজম

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে কোন সমাজে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার অন্যতম মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে গান ও কবিতা। এটি যে কোন সৃষ্টিশীল ও সুস্থ সমাজের একটি বহিঃপ্রকাশও বটে। ইতিহাসের প্রতিটি ক্লান্তিকালে গান ও কবিতা এনেছে প্রাণ। আমাদের মহান মুক্তি যুদ্ধে গাওয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গানগুলোই তার প্রমান। গানের ক্ষেত্রে বলা – আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয় দুর্দিনে দেশের জনগন কে একটি প্লাটফর্ম দাড় করাবার মত গান সৃষ্টি হয়নি। যা দু একটা হয়েছে সেটা সময় ও চাহিদার অনুপাতে না হওয়ারই মত। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে অংশ প্রচুর গান শুনে তাদের কে উৎসাহিত, আলোড়িত করার মত কোন গানই এ যাবত কালে সৃষ্টি হয়নি। বয়সের রোমান্টিকতাকে প্রাধান্য দিয়েই আধিকাংস শিল্পী নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছেন। যা দু একটা করেছেন সেটা দেশাত্ববোধক বলে যেটা বুজি সেই রকম। প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ মুলক গান নেই বললেই চলে। অর্থ্যাৎ আমাদের ‘আধুনিক গান’ বা ‘নতুন প্রজন্মের গান’ যারা শুনে তারা এই বিশাল শুন্যতা নিয়ে নিজেদের রুচিকে শানিত করছে। তাই আজকাল রুমান্টিক গান তরুণ-তরুণীদেরদের মুখে ও এয়ারফোনে যে পরিমানে উপস্থিত দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে, বাস্তব জীবন সংশ্লিষ্ট গানগুলো নাই বললেই চলে। আর এই শুন্যতা আজ কাল আমরা আমাদের উঠতি বয়সি তরুন তরুণীদের আঁচার আচরনে সেই অভাবটা একটু করুনভাবেই দেখছি। আসলে এ নিয়ে আরো অনেক কিছু বলার আছে, লিখার আছে। স্বল্প পরিসরে সেগুলো বলা বা ব্যাখ্যা করাও সম্ভব নয়।
না, একদম হতাশ হওয়ারও আমাদের কিছু নেই। এই তরুন-তরুনীদের আরেকটি অংশ কিন্তু পেয়েছে। বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত নামে যে নতুন ধারা, সে ধারাতেই আমারা শুনেছি অনেকগুলো সফল বিদ্রোহী- প্রতিবাদী গান। সে অর্থে আমাদের ব্যান্ড সংগীত দেশ ও সামজের অবক্ষয়মুলক দিকগুলো তুলে আনতে অন্যতম প্রধান ভুমিকা রেখেছে। একটা সময় ছিল এই সঙ্গীতের প্রতি মোটামুটি সবার একটা নাক সিটকানোভাব ছিল। তাই প্রাথমিক দিকে যে সকল ব্যান্ড দল ও শিল্পী অনেকটা সাধারণের পছন্দের বাহিরে ছিল। সাধারনত প্রধান কিছু বড় বড় শহুরে পরিবেশে ব্যান্ড গানগুলো সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সেটা মোটামুটি সকল মফঃস্বল শহরেরই স্ট্যাটাস। যাদের গানগুলো কলেজ – ভার্সিটি পড়ুয়াদের টুঠে শুনা যেত তাদের গানই এক সময় চলে আসল হাই স্কুল পড়ুয়াদের টুঠে। (ব্যাক্তিগতভাবে আমি এই শ্রেনীর।) ব্যান্ড সঙ্গীতের নাড়িয়ে দেবার, আলোড়িত করার ক্ষমতা কিন্তু এক দিনে হয় নি, একজনের দ্ধারাও হয়নি। তাই সেই ইতিহাস আপাতত এখানে টানছিনা।
বর্তমানে যে সকল ব্যান্ড রয়েছে তাদের কাছ থেকেও আসছে প্রচুর বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান।
ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে বর্তমানে যারা সংযুক্ত তাদের কেউ কেউ নিজেদের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড হিসেবে প্রচার ও বলতে দেখা যায়। তবে এখানে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। আছে বিতর্কও। তারপরও তাদের কেউ কেউ চরম কিছু বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান গাচ্ছে; যদিও তাদের নাম বা ব্যান্ডের নাম সাধারন শ্রুতা বলতে যা বুজায়, তাদের কাছে সম্পুর্ন অপরিচিত। বর্তমানে সেটা আরো প্রকট। এটা হয়ত শ্রোতা শ্রেনীর বিভাজন কে মেনে নিয়েই হয়ত।
একটা ব্যাপার এই ফাঁকে বলে নেয়া অযুক্তিক হবে না যে, ব্যান্ড এর গান আর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গাওয়া গান এক ব্যাপার না। এবং এটা মনে রাখা দরকার যে বর্তমানে যারা অত্যাধুনিক মিউজিক সিস্টেম ব্যবহার করে গান তৈরী করছেন, ভিবিন্ন শিল্পীকে প্রমোট করেছেন, তারাও কিন্তু ব্যান্ড শিল্পী নন, নয় তাদের গানও। বর্তমান ব্যান্ড দল ও ব্যান্ড শিল্পীকে এই বিষয়ে আরো মনযোগ দেয়া উচিৎ, উচিৎ নিজেদের অবস্থার ও অবস্থানের স্বকীয়তাকে রক্ষা করা।
আমার লেখাটা কিছু অগুছালো জানি। মাকসুদ ও ঢাকা (এক্স ফিডব্যাক)এর একটি গান গুলো শুনে চার পাঁচ লাইন লিখব নেটবুক খোলা।
(ছয় বছরেরও উপর প্রবাশে, নিয়মিত তাদের গান শুনা হয়না, কিন্তু ইন্টারনেট ঘেটে যে সব গান শুনে আসছি ও সংগ্রহ করছি, সে অভিজ্ঞটা থেকেই লেখা।, ফাকঁ বা জানার, শুনার ফাঁক কিছু থাকবেই, আপনারাও ব্যাপারটা সহজভাবে নিবেন আশা করি।)
যে গানটি শুনে এই লেখার চিন্তা সেটার লিং দিচ্ছে, আপনারাও বুজতে পারবেন পুরো ব্যাপারটা।(আমার দৃষ্টিতে এই একটি প্রায় পুরো এ্যালবামে দেশ, সমাজ ও রাস্ট্রের কুৎসিত দিক গুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছে, এর আগে কেউ এইরকম হইনি, সাম্নেতে হবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

Click This Link

এবং
ইউটিউব লিং
https://www.youtube.com/watch?v=YEnTtQPwhh8

অথবা Viemo -তে

http://vimeo.com/64030743

সবাই কে শুভেচ্ছা
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×