১। প্রতিদিন ৩০ মিনিট কথা বললেই আপনাকে কল করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তাই যত খুশি কথা বলুন আর রিসিভ করুন তামিমের কল। (শর্ত প্রযোজ্য)
বিজ্ঞাপন দেখেই শুরু করলাম কথা। তামিম ইকবাল কল করবে, যেমন তেমন কথাতো নয়। ৩০ মিনিট কথা বলার পর হঠাৎ মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। রিসিভ করতেই উপার থেকে- হাই, আমি তামিম ইকবাল। কেমন আছেন, নিশ্চয় ভাল। এখন থেকে আমি আছি আপনাদের সাথে, তাই যত খুশি কথা বলুন। আমিও কথা বলতে শুরু করলাম-ভাই, আমি আপনার বড় একজন ফ্যান। আমি আপনার কল পেয়ে মহা আনন্দিত। আমি কি আপনার সাথে একবার দেখা করতে পারি? বেশি কিছু না, একটি ছবি তুলব শুধু। কিন্তু ওপার থেকে আর কোন সাড়া নাই। বুঝতে পারলাম কম্পিউটার কল ছিল। কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলাম।
আমিঃ ভাই, তামিম ইকবাল আমাকে কল করেছিল কিন্তু তাঁর সাথে কথা বলতে পারি নি, কেন?
কাস্টমার কেয়ারঃ তিনিতো শুধু বলবেন, শুনবেন না।
আমিঃ তাহলে সেটা আপনারা প্যাকেজে বলে দেন নি কেন?
কাস্টমার কেয়ারঃ কেন, আপনি শর্ত প্রযোজ্য পড়েন নি? এটাই ছিল শর্ত।
২। ৫০ টাকা রিচার্জ করেই জিতে নিন মেসি’র সাথে দেখা করার সুযোগ। যতখুশি রিচার্জ করুন আর দেখা করুন মেসি’র সাথে। (শর্ত প্রযোজ্য)
ওহ!!! মেসি।। মেসি’র সাথে দেখা করতে পারবো!!! কি আনন্দ!!! ৫০ টাকা কেন ৫০০ টাকা বললেওতো কোন ব্যাপার না। সাথে সাথে ৫০ টাকা রিচার্জ। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই। আরো ৫০ টাকা রিচার্জ করলাম। কিন্তু এবারও না। মনে হয় কম টাকায় মেসি খুশি হয় নি। এবার ১০০ টাকা। অবস্থা আগের মতোই। অবশেষে কাস্টমার কেয়ার।
আমিঃ ভাই ৫০ টাকার জায়গায় এ পর্যন্ত ২০০ টাকা রিচার্জ করে ফেললাম। কিন্তু মেসি’র সাথে দেখা করার জন্য কোন মেসেজ-টেসেজ পেলাম না কেন?
কাস্টমার কেয়ারঃ ও, তাই? আসলে আমরা মেসি’র সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদেরকে চিনেনই না। তাই দেখা করতে চাচ্ছেন না।
আমিঃ তাহলে আপনারা এরকম প্যাকেজ ছাড়লেন কেন? ওটা বলে দিলেই হতো।
কাস্টমার কেয়ারঃ কেন ভাই? আমরাতো শর্ত প্রযোজ্য দিয়েছি। আর শর্তটি হলো- মেসি চায়লেই যোগাযোগ করা যাবে, অন্যথায় নয়।
উপরের দুটি প্যাকেজ আসলে কোন মোবাইল কোম্পানি এখনো ছাড়ে নি। তবে ভবিষ্যতে ছাড়তে পারে। কিন্তু এরকম অগণিত প্যাকেজের ভিতরে আমরা ঘোরপাক খাচ্ছি সবসময়। মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন প্যাকেজ নিয়ে আসে অসংখ্য মেসেজ, কখনো বা কল। একবার নিলেই আর রক্ষা নেই। কখনো অপারেটররা নিজেদের থেকেই বিভিন্ন সার্ভিস চালু করে দেয়। বন্ধ করতে হলে গ্রাহককে যেতে হবে কাস্টমার কেয়ারে। যারা একটু ব্যস্থ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে অনেক দূরে তারা কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার সুযোগ পান না। ফলে তাঁদের কাছে টাকা রিচার্জ করাটা একটি ভীতিকর ব্যাপার। এই বুঝি টাকাটা কেটে নিল। অপারেটরগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। কাউকে প্রিয় খেলোয়াড়, কাউকে নায়ক/নায়িকা, গায়ক/গায়িকা, কাউকে বা ধর্মীয় সুবিধা, বিনোদন ইত্যাদি’র অফার দিচ্ছে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অভিযোগ করারও কোন সুযোগ নেই। কারণ আছে শর্ত প্রযোজ্য। আপনি না যেনে সার্ভিস চালু করেছেন কেন? যত চালু ব্যক্তিই হোক না কেন কাস্টমার কেয়ারে গেলেই মাথা নাড়ানো ছাড়া উপায় থাকে না। অনেক সময় কিছু মুখস্থ করে গেলে তাও সেখানে গিয়ে ভুলে যায়।
এভাবে গ্রাহকরা আর কত দিন প্রতারিত হবে সেটা আমাদের মত সাধারণদের জানা নেই। কিন্তু শিক্ষিত, সচেতন, বিজ্ঞ-জ্ঞানী সবাইতো মোবাইল নামের যন্ত্রটা ব্যবহার করে। তারা কেন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




