বৈশাখের রৌদ্র দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিলো একটি ফুটফুটে শিশু। সামাজিকভাবে বেশ ঘটা করে অনেক নাম তার রাখা হলো। কিন্তু সর্বজনকর্তৃক স্বীকৃতি পেলো সাদ্দাম নামটি।
জন্মলগ্নে মাতাপিতার আশা ছিলো ছেলে ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হবে। কিন্তু বাঁধ সাধলো তার দাদীর কথায়। পান চিবিয়ে গলাবাজি করে তিনি বললেন− “নাতি আমার একপিছ, ও বড় মৌলভী হবে।” যেই কথা সেই কাজ। স্থানীয় একটি মাদরাসায় তাকে ভর্তি করানো হয়েছিলো বটে, তবে অল্প বয়সেই সেখানে তিনি ‘বিশ্বপ্রেমিক’ খেতাব অর্জন করায় সসম্মানে বহিষ্কৃত হতে বাধ্য হলেন। চাপাবাজ, বাটপার, কৃপণ ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলির কথা না হয় না-ই বললাম।
টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্ট ছেলেটি এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। কিন্তু ও যে কী করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলো, তা নির্ণয় করার জন্য ত্রিকোণমিতি, বলবিদ্যা, ম্যাট্রিক্সের মতো অনেক জটিল গাণিতিকি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করেছি, তথাপি প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো কাগজের অপচয় হয়েছে, নয়তো ঘুমাতে হয়েছে প্যারাসিটামল কিংবা নাপা এক্সট্রা খেয়ে।
সামাজিক স্তর বিন্যাসের মিডট্রাম এক্সামে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ও ক্লাসে প্রায় তারকা বনে গিয়েছিলো। তারপর কত কথা− কত ভাবনা− আমাদের তো তখন মনে হয়েছিলো অক্সফোর্ড, স্টামফোর্ড, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি বুঝি ওর বাড়ির পাশে। নকল ছাড়া কিংবা না-দেখে ও কোনো এক্সাম দিয়েছে− এরকম এভিডিয়েন্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আছে কি না, সেটা দেশের কাছে প্রশ্ন রইলো। ওর ইংরেজি উচ্চারণ শুনে আপনারা হয়তো শেক্সপিয়র কিংবা হোমারের কবিতায় ভুল ধরতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে শুধু ‘বাবরমন্ত্রী’র সেই ‘বাংলিশ’ উপাধীই আপনাদের ভাগ্যে জুটবে। ওর লিখিত ‘আওয়ার ইউনিভার্সিটি’ প্যারাগ্রাফটি মাননির্ণয় করতে গিয়ে আমাদের এক শিক্ষক মহোদয়ের সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরের ব্যাটারির মুমূর্ষু অবস্থা।
জীবনে অনেক মেয়েকে সে প্রস্তাব দিয়েছে তবে ওপার থেকে কোনোদিন রিপ্লে আসে নি। আর আসবে কী করে ! কারণ ওর যা ‘ছিরি’, তাতে একমাত্র মনুষ্য-প্রাণী হিসেবে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান পাওয়ার কথা।
তবে আশার কথা হলো, সামনের কোনো এক উৎসবে তার অভিনীত ‘ম্যাঁয় হোঁ ক্ষ্যাত’ মুভিটি বক্স অফিসে ব্যাপক হিট তুলতে পারে বলে বোদ্ধারা ধারণা করছেন। যদিও সমালোচকেরা মনে করেন, মুভিটি বাংলা সিনেমা-শিল্পের জন্য ১১ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত ডেকে আনবে। কারণ সেখানে নাচরূপী কতক উচ্চলাফ ও দীর্ঘলাফ রয়েছে। উপর্যুপরি নায়িকার সাথে পাল্লা দিয়ে আন্ডারপ্যান্ট পরে বিশ্বকে জানান দিয়েছে− আমরা অনেক আধুনিক ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষ। তাই আমাদের আর শীতবস্ত্র দরকার নেই।
বিশ্বায়নের ছোঁয়া সমগ্র দেশপটে আসলেও সে নাকি এখনো প্লেন দেখে নি ! তাই তো কোনো এক দিবালোকে মোবাইলে প্লেন উড়ে যাবার দৃশ্য ধারণ করে গলা উঁচিয়ে বলেছিলো− “দেখেছো, আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে প্লেন উড়ে যায় !”
পরিশেষে, শ্রেণীকক্ষের সম্মানীত বন্ধুদের প্রতি উপদেশ, দয়া করে তোমাদের কলমটির নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখো। কেননা, সাদু যে ক্লাসে থাকবে, সে ক্লাসে তোমরা কলম দিয়ে লিখবে, এটা জাতি আশা করে না। এই তো কিছুদিন আগে রনির একটি মানিব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিলো। তখন আকাশে-বাতাসে কেবল ওর নামটিই ধ্বনিত হয়। যদিও মানিব্যাগটি কিন্তু আমাদের ক্লাসেরই বোরকা পরিহিতা ঠাকুরগাঁয়ের এক ভদ্র আপামণির নিকট হইতে উদ্ধারিত হয়। ওই যে কথায় আছে না− “যত দোষ- নন্দ ঘোষ”।
তবে বন্ধুরা, ওর আচরণে কেউ কষ্ট পাবে না। কারণ ছেলেটি গ্রাম থেকে আসছে তো ! শুধু মনে রেখো−
ভাবিয়া করিও কাজ,
করিয়া ভাবিও না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


