জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে বাইশ হাজার ছাত্র-ছাত্রী । অথচ হল উদ্ধারের যৌক্তিক আন্দোলনে একহাজারজন মানুষও জোটে না । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আমরা অন্যায় বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো না- এটা কেমন কথা ? নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ঘরে বসে টিভি দেখে অপরের ক্যাম্পাসে আড্ডা দেবো আর কতকাল ?
একটা কথা শুরতেই বলে রাখি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একশভাগ ছাত্র-ছাত্রীই মেধাবী । অতএব নিজেকে স্বঘোষিত মেধাবী দাবী করে শুধু ক্লাসের চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকলে তো চলে না । মনে রাখবেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া ও আন্দোলন উভয় নীতির উপর ভিত্তি করেই খ্যাতি লাভ করে ।
যারা না জানেন, তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, আমাদের ২২টি হল ‘ভূমিদস্যুদের’ দখলে । দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বার্ষিক সবচে’ কম মাথাপিছু খরচ করা হয় আমাদের স্টুডেন্টদের জন্য । অথচ এবারের বিসিএস পরীক্ষায় আমাদের ৯০০জন ছাত্র-ছাত্রী ভাইভায় অংশ নিয়েছে । যেখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ভাইভা প্রার্থীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ১২০০ । তাহলে ফলাফল কী দাঁড়ালো ? অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, আমাদের যদি ওদের মতো সুযোগ-সুবিধা থাকতো, তাহলে সংখ্যাটা যে ওদের তুলনায় কত বেশি হতো তা সহজেই অনুমেয় ।
দেশের সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্ধকারে রেখে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সোনার আংটি পরিয়ে দেশের সার্বিক শিক্ষামানের উন্নতি সম্ভব নয় । মনে হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে একটা বুর্জোয়া শ্রেণী জেঁকে বসেছে । কুচক্রী এই মহলটা মনে করে, যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বসুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই শ্রেষ্ঠত্বের দাবী উঠবে নিশ্চিত । সেটা তো হয় না...হয় ?
বলতে দু:খ লাগে, ইডেন কলেজ সামান্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থেকেও সেখানে ১৮ তলা হল গজায় । অথচ, সরকার আসে, সরকার যায়, ভিসি আসে, ভিসি যায়, জগন্নাথের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না । মাঝেমধ্যে আন্দোলন হয়, একটু আশ্বাসের ঘ্রাণ আসে, ঈদের উৎসবের আমেজ আনতে জনতিরিশে মিলে একটু হলদিবস হয়, তারপর আন্দোলন শব্দটা রক্ষিত হয় জাদুঘরে । এই সংস্কৃতি চলছে আজ আট বছর ধরে । কিন্তু আর কতকাল ?
আসুন, দলমত নির্বিশেষে কে নেতৃত্ব দিল কে দিল না, এই কনসেপ্ট ভুলে হল আন্দোলনের এই যৌক্তিক দাবীতে আমরা ‘একাত্মতা’ প্রকাশ করি । নয়তো ঘরে বসে টিভি দেখে আবারও অপরের ক্যাম্পাসে আড্ডা দেই... কী বলেন .....?
রক্ত চাইলে রক্ত নে
তবু মোদের হল দে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


