somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু স্মৃতি আজো হেসে বেড়ায় হৃদয় ক্যানভাসে

২২ শে মে, ২০১৪ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহুরে জীবনে কোনো স্বাদ নেই, তৃপ্তি নেই । আছে শুধু একরাশ প্রত্যাশার আবর্জনা । শহরের যান্ত্রিকতা আমরা সবাই কাজে লাগাই । কেউ নিরেট ভালোবাসি না । তাই সারাদিন কর্মব্যস্ত জীবনের ইতি টেনে রাত্রিকালীন নিদ্রালয়ে কিছুটা সময় হলেও ফিরে যাই গ্রামের জন্মস্থানে । যার ধূলিতে আছে অসংখ্য মধুমাখা স্মৃতি । পরতে পরতে রয়েছে কিছু বাস্তব স্বপ্নের অভিজ্ঞতা ।
স্কুল জীবনে ভালো কিছু বন্ধু ছিলো । দু’জনের কথা না বললেই নয়- মাহফুজ ও আলী আকবর । আমরা এই তিনজনই স্কুলের বখাটে রিয়েলিটি শোতে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হতাম । আর ছিলো দুর্বল মাহতাব । সারাদিন খুব জ্ঞানী জ্ঞানী লেকচার দিতো । এই জন্য মাহতাবকে প্রতিদিন না মারতে পারলে কেমন যেনো পড়ালেখায় আমাদের মন বসতো না । আরো একজন ছিলো- সুস্মিতা । খুব পছন্দ করতা, কিন্তু বলতে পারি নি । তবে যার সাথে প্রেম ছিলো শুনেছি কিছুদিন আগে তার নিকা সম্পাদিত হয়েছে । দোয়া করি, তিনি যেনো সুখী হন এবং আমায় প্রতি তার প্রদত্ত অভিশাপখানা আল্লাহ যেনো নিজগুণে ক্ষমা করেন, মাফ করেন । গোপনে বলে রাখি, স্কুলের মেয়েদের কনডমের সাথে পরিচিতি দান সম্ভবত আমরা তিনি বন্ধুই প্রথম দিয়েছিলাম । তবে শুধুই পরিচিতি; হাতে কলমে নয় ।
লেখাপড়ায় খুবই চমৎকার ছিলাম । দাঁড়িয়ে কিংবা বসে পড়া বলেছি, এমন কখনো হয় নি । স্যারেরা তাই বিরক্তিভরে নিয়মিত আব্বুর কাছে নালিশ দিতো,
-স্যার, আপনার ছেলে নেতা হইছে ।
-বাগানে বসে সিগারেট ধরাইছে ।
-অনেক ছেলেমেয়েকেই তো মানুষ করলেন । কিন্তু নিজের একমাত্র ছেলেটাকে বোধ হয় আর পারলেন না ।
আব্বু বাড়িতে এসে বিভিন্ন ভার্সিটি, মেডিকেল পড়ুয়া ছেলেদের সাথে আমার তুলনা করে যথোপযুক্ত উত্তম মাধ্যম দিয়ে হপ্তাখানেকের জন্য খেলাধূলা ও মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করতেন । কিন্তু আম্মু পুরোনো কথাগুলো নতুন রেকর্ডেই বাজাতেন । নির্লজ্জ, বাড়ি থেকে বের হ । আর সহ্য হয় না, যার ছেলেপুলে নাই, সে-ই ভালো আছে । অত:পর টেবিল থেকে কতক গ্রামার বই পাশের পুকুরে নিক্ষেপ করে রাতের খাবারের ওপর কারফিউ জারি করতেন । তবে আমার চাচাচাচি সুকৌশলে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে রাত্রিবেলার সেই মিলটি খাওয়াতে কোনোদিনই ভুল করেন নি । দাদু যেদিন বাসায় থাকতো, সেদিন আব্বু-আম্মু কিছু বলার সাহস পেতো না । খুবই রোমান্টিক ধাচের মানুষ । বয়স শত ছুঁই ছুঁই । অথচ এখনো আমার বউ দেখার স্বপ্ন দেখেন ।
পড়ালেখার ব্যাপারে আব্বু শুধু একটা কথাই বলতেন, গ্রামার পড়, আর সূত্র মুখস্ত কর । আরো কতগুলো বিখ্যাত উক্তি ছিলো । খালি মুখস্ত করিস না, একটু বুঝেও পড় । কী বাহারি হাতের লেখা, সব বানান ভুল । স্কুল টিচার সেলিম স্যারও কম যান নি । সব সময় শুধু ‍উপদেশ দিয়েই যেতেন । কামরুল, বাইরুম বাইরুম একটু কম করো । ঐ সব ছাড়ো । ভবিষ্যত অন্ধকার । স্যারের অঙ্কের হাততত্ত্ব কিংবা দেলোয়ার স্যারের মাছকাহিনী এখনো খুব মিস করি ।স্যারেরা প্রতিবছর দুর্নীতি করে প্রতিবছর আমাকেই ফার্স্ট বানাতো এবং বোর্ডের অশেষ কৃপায় স্কুলের একমাত্র জিপিএ-৫ টি আমিই পেয়েছিলাম ।
স্কুলের পাট চুটিয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে নেতামি ভাবটা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলো । কলেজেরে প্রথম বর্ষটা পার করেছি শুধু বাড়িঅলা আন্টির মেয়ের প্রেমকাব্য শুনে । কোন মাফিলে খিচুড়ি দিবে, কোন ক্ষেতের তরমুজ মোটা হইছে কিংবা কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, তা বের করতে কোনোদিনই ভুল হয় নি । কলেজের স্মরণীয় বরণীয় কিছু মারামারিতে পার্টিসিপিয়েট করার সৌভাগৗ জীবনে হয়েছে । প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় সর্ববিষয়ে ফেল করে খুশিতে বন্ধুবান্ধব মিলে রুমে পার্টি দিয়েছিলাম । সেই পার্টিতে স্যারের মুর্গি চুরি করে তার মেয়েকে নিমতন্ন দিয়ে কী যে ভুল করেছিলাম, তা আজো ভাবি ।
আলাদিনের চেরাগ হাতে নিয়ে অঘটন ঘটন পটীয়সী হয়ে এইচএসসিতেও কী করে যে জিপিএ-৫টা বাগিয়ে নিলুম, তা কল্পনা অতীত । সে স্যার খাতা দেখেছেন, পাইলে হয়তো জিজ্ঞেস করতাম, মামুর ব্যাটা, মানুষ আর পাইলি না । খাতা কি তুই দেখেছো না বউকে দিয়ে দেখিয়েছো । কী এমন মহত্ত্ব লিখেছি যে, আমার মতো ছাত্র এ প্লাস পাবে ?
কলেজ লাইফে খাইরুল ভাইর জন্য খুব কষ্ট হতো । বেচারা দু’শো পঞ্চাশটি প্যারাগ্রাফ আর ছিয়ানব্বুইটি রচনা পড়েও কোনোদিন পরীক্ষায় ‘মাইমাদার’ কমন বাজাতে পারে নি । কষ্ট করে তাকে ডাকতে হতো, ‘প্যারাগ্রাফ খাইরুল’ ।
কলেজের সভাপতির কথা যে এতো সত্য হবে কে জানতো ! কলেজে মেয়েলি এক বিচারে আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, হয় তুমি শীর্ষ টেররিস্ট হবা, নয়তো কেনো স্বনামধন্য ভার্সিটিতে চান্স পাবা । মাঝে মাঝে ভাবি, এতো ভালো স্টুডেন্টদের মাঝে কী করে জগন্নাথ ভার্সিটিতে চান্স পেলাম ? আর আমার মতো ছত্রের ভর্সিটিতে চান্স পেলে দেশের শিক্ষাব্যাবস্থার কী হবে ? রনি, শ্রাবণ, সাদ্দাম, সাব্বির, সবুজ, শাহাদাত, অলক, মাসুদ, করিম- ওদের মতো বন্ধু পেয়েছি জীবনে, যারা সবসময় আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায় । তাদের আলোয় আলোকিত হতে পারে এই অধমের জীবনটা ।
তবে আমি বলতে চাই, আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে কোনো স্বার্থপরতা থাকবে না । নি:স্বার্থতার যে বীজ বপন করেছি, তা ফুলে ফুলে বিকশিত হয়ে সুরভী ছড়াবে হাজার বছর...অনন্তকাল ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×