
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
—— কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
আজ পহেলা বৈশাখ। নুতন বছরের প্রথম দিন। বাঙালি জাতি আজ মেতেছে আনন্দ উৎসবে। বৈশাখ আমাদের সংষ্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য! পোশাক-আশাক, খাওয়া-দাওয়া সব কিছুতেই আজ রঙের ছোঁয়া, উৎসবের আমেজ। প্রকৃতিতেও এসেছে বৈশাখী মাতম।
পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন উৎসব । সারা বিশ্বের বাঙালিরা এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীতের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে নতুন বছরটি যেন সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়।
বৈশাখ এসেছে নুতনের আনন্দ বার্তা নিয়ে। এক সময় পহেলা বৈশাখ শুধু কাগজে-কলমে আর সাংষ্কৃতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল। আজ, শহর ছেড়ে গহীন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে এ উৎসব। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, ধনী-গরীব সবাই মিলে একই রঙের সাদা-লাল পোশাক পড়ে মিলেছে আজ বর্ষবরণে। আমাদের গ্রামে দেখলাম, ঈদের মত মেয়ে-জামাই নাইয়োর যায় এই দিনে। নুতন জামা-কাপড় দেয়া নেয়া চলে।
পহেলা বৈশাখের খাবার হিসেবে পানতা ভাত খুব পরিচিতি পেয়েছে, সাথে ইলিশ মাছ ভাজা আর সরষে ইলিশ। আরো আছে হরেক রকমের ভর্তা, কাঁচা মরিচ আর কাঁচা পেঁয়াজ। এখন সাথে পোলাও-মাংস অথবা ভূনা খিঁচুড়ীও চলে।
এবারে বৈশাখ শুধু আনন্দ নিয়েই আসেনি, সাথে এনেছে হিংস্র কালবৈশাখীও। চৈত্র মাসেই কালবৈশাখী তার জানান দিয়ে গেছে। কত মানুষ প্রাণ দিয়েছে সেই হিংস্র থাবায়। বাদ পড়েনি নিস্পাপ হাজার হাজার পাখিও। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কালবৈশাখী ঝড় আর শিলার আঘাতে বিভিন্ন প্রজাতির সহস্রাধিক পাখি মারা গেছে। এর মধ্যে ছোটবড় অনেক পাখি রয়েছে। কী যে কষ্ট সেই নিষ্পাপ মৃত পাখিগুলোর ছবি দেখা!
এত কষ্টের পরেও আমরা বরণ করে নিচ্ছি নববর্ষকে, নেচে-গেয়ে, আনন্দে-উল্লাসে। আজকের এই আনন্দের দিনে সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন সারাবছর, সারাজীবন !!
বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া আসে মৃদুমন্দ।
আনে আমার মনের কোণে সেই চরণের ছন্দ।
স্বপ্নশেষের বাতায়নে হঠাৎ আসা ক্ষণে ক্ষণে
আধো ঘুমের প্রান্ত ছোঁওয়া বকুলমালার গন্ধ।
বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া বহে কিসের হর্ষ,
যেন রে সেই উড়ে পড়া এলো কেশের স্পর্শ।
চাঁপাবনের কাঁপন-ছলে লাগে আমার বুকের তলে
আরেক দিনের প্রভাত হতে হৃদয়দোলার স্পন্দ।
———কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




