somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের দিনগুলো (পর্ব 04) : অবশেষে দিল্লী

২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেবযানীর সঙ্গে বেশ জমে গেল মধ্যদুপুরে। রোমেলও বেশ খাতির করে নিয়েছে। শুধু রোমেলের বন্ধুটা একটু চুপচাপ। দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় দেবযানী বাড়ি থেকে আনা পটলের একরকম তরকারিও সেধেছিল আমাদের। যদিও আমরা কেউ খাইনি। সবাই ঠিকানা অদলবদল করলাম। দেবযানী আসলে থাকে বারাণাসীতে। শুনে আমি বেশ মজা পেলাম। ওকে বললাম, কোনো একদিন নিশ্চয়ই যাব। দেবযানীও আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখল। দেশে থাকতে শুনেছিলাম বারাণাসীতে নাকি অতি উৎকৃষ্ট প্রকারের বাঈজী নাচ হয়। দেখার খুব শখ ছিল। অবশ্য দেবযানীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করিনি।

বারাণাসী চলে এলে দেবযানী নেমে পড়ে। বেশ করে টা টা দিলাম ওকে। জানালা দিয়ে অনেকক্ষণ মুখ বাড়িয়ে ছিলাম। আর কি কখনো দেখা হবে? সন্ধ্যার দিকে আলীগড় চলে এলো ট্রেন। রোমেল বিদায় নিল আমার কাছ থেকে। ঠিকানা আগেই নিয়ে রেখেছিলাম। বললাম, ফোন করব তোকে। দিল্লী থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা দূর। চলেও আসতে পারি।

রোমেল চলে গেলে একদম একা হয়ে গেলাম। আক্ষরিক অর্থেই একা। খায়েঙ্গা, যায়েঙ্গা টাইপের হিন্দিদৌরাত্ম নিয়ে আমি পড়ে গেলাম মুশকিলে। এতোক্ষণ বুঝতে পারিনি ভিনদেশী অঞ্চলে আছি আমি। আমার বুকে ভয় ধরিয়ে কালকা থামল পুরোনো দিল্লী স্টেশনে। রাত তখন হয়তো আটটা হবে। কিছুই চিনি না। শুধু জানি পাহাড়গঞ্জ যেতে হবে। একটা অটো ঠিক করে চলেও এলাম। তবে রাতের অন্ধকারে বুঝতে পারিনি পুরোনো দিল্লী দেখতে কেমন?

বেশ ভালোই খাওয়া হলো দিল্লীকা লাড্ডু। 350/400 টাকার নিচে রুম পাচ্ছি না। আর আমার মাত্র এক রাতের জন্য দরকার। কেননা পরদিনই তো ইনস্টিটিউটে চলে যাব। ওইখানে হস্টেলে থাকব। যাই হোক 250 টাকায় একটা রুম পেয়ে উঠে গেলাম। খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলাম আমি সেইখানে।

পরদিন ইনস্টিটিউটে গিয়ে ভর্তি হই। একজন ইনস্ট্রাক্টর আমাকে সবকিছু ঘুরিয়ে, দেখিয়ে নিয়ে গেল এডিটিং রুমে। এডিটিং মেশিনগুলো দেখে আমার পছন্দ হলো না (এইপ্রথম আমি এডিটিং মেশিন দেখছি, ঢাকায় থাকতে দেখিনি)। আমি ভাবছিলাম কমপিউটার জাতীয় কিছু হবে। ভয়ে ভয়ে বললাম, মেশিনগুলো তো খুব পুরোনো মনে হচ্ছে। এগুলো কাজ করে? ইনসট্রাক্টর আমার কথা শুনে হিন্দিতে বলে উঠল, কেয়া বাত কোরো ইয়ার! এ্যায়সা ঘটিয়া মেশিনমে কাম সিখো তো বেসিক স্ট্রং হো যায়েগা। সামঝা ?

আমি উসখুশ করে বেরিয়ে আসি। পুরো টাকাটাই পানিতে গেল ভাবতে ভাবতে ক্যান্টিনে গিয়ে বসি। একটা ছেলে এগিয়ে আসে। নাম হলো সা'দ। ফয়েজাবাদের ছেলে। ক্যামেরার কোর্সকরতে এসেছে। পরিচয় হতেই বলল, চল কিছু খেয়ে আসি।

কেএসসি-তে গেলাম। ঢাকাতে তখনো এতো বড় আর চেইন কোনো ফাস্টফুডের দোকান ছিল না। এতোসব চেইন শপ দেখে মাথাটা হালকা ঘুরাল। টাইট জিনস আর টি-শার্ট পরা মেয়েদের দেখে তিষ্ঠাতে না পেরে একটা সিগারেট ধরিয়ে ফেল্লাম। যাইহোক খাওয়া দাওয়া শেষে স্বাভাবিকভাবেই আমি বললাম, বিলটা আমি দেই। দেখলাম সা'দ অতি স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টা মেনে নিল। বিল দিয়ে বেরিয়ে এলাম।

রাতে হস্টেলে আরো অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো। হরিয়ানা রাজকুমার, দিল্লীর ভাষ্কর্য, নেপালের গৌতম আর ধীরাজ। গুজরাটের বিশাল, কানপুরের মুকুল। কিন্তু পরদিন পরিচয় হলো কলকাতার শ্বাশতী আর দিল্লীর রাধিকার সঙ্গে।

রাধিকা ছিল সবচেয়ে সুন্দরি (আসলেই সুন্দরি) এবং সে ছিল এডিটিংয়ে। আমার রোল 1 আর রাধিকার 2। আমাদের নিয়ম ছিল সবাই রোল নম্বর অনুযায়ী বসবে। নিয়মটা এজন্যে যে, যখন 1 নম্বর মেশিন চালাবে তখন তার ডানপাশে 2 নম্বর আর বাম পাশে 10 নম্বর (কেননা ব্যাচে 10জন ছাত্র ছিল) বসবে। যখন 2 নম্বর কাজ করবে তখন তার ডানপাশে 3 নম্বর আর বাম পাশে 1 নম্বর বসবে। আর একারণেই ক্লাসে আমি আর রাধিকা সবসময়ই পাশাপাশি বসতাম। তবে ব্রেকের সময় রাধিকা চলে যেত। ওর হাজব্যান্ড ইয়াতিন (ভাগবান, বাবুল ছবির চিফ এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) তখন ডিরেকশনের ক্লাস করতো। রাধিকা তার জন্য অপেক্ষা করত। এই ফাঁকে আমি তখন শ্বাশতীকে খুঁজতাম। কলকাতার মেয়ে শ্বাশতী। আমি ধরেই নিয়েছিলাম শ্বাশতীর সঙ্গে আমার একটা ইটিসপিটিস হয়ে যাবেই। কেননা ও-ও হস্টেলে থাকত। তখন দিল্লীতে প্রচন্ড শীত।আমি নিশ্চিত ছিলাম শ্বাশতীর নিশ্চয়ই কোনো এক শীতের রাতে আমায় দরকার হবে ...

... তখন পর্যন্ত কিন্তু দেবযানীকে আমার একদমই মনে পড়েনি।......(পর্ব চার সমাপ্ত.....চলতে পারে.....)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৮:৩৮
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×