somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নববর্ষের কুত্তা ২.৫

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই নববর্ষের অনুষ্ঠানে উপভোগ্য অনেক কিছুই পেলাম, যা অন্যবার পাইনি। প্রতিবারের মত এবারো কেউ আটকাতে পারেনি চারুকলা তথা ইউনিভার্সিটি এরিয়া ভ্রমনে। মনে আছে, অষ্টম শ্রেনী থেকে যাওয়া শুরু, বাদ পরেনি কোনবার কেবল মাত্র ইউনিভার্সিটির পাঁচ + সেশন জটের এক বছর ছাড়া। হাস্যকর, অনেকে বলবেন, মিয়া ভাই ছয় বছর-ই তো নাই আবার কন প্রতিবার। আসলে তখন ওই এরিয়ার সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে ছিলাম, অভাবটা তাই বোধ করিনি। যাই হোক, প্রথম যখন যেতাম তখন দেখতাম ডুগডুগির শব্দ, ঢোলের বাজনা, বাউল গানের আসর, নাটক, দেশজ সংস্কৃতি, চারুকলার মুখোশ প্রদর্শনী ও বিক্রি, মুখে চারুকলার কৌশলীদের তুলির আচড়, দেশজ ধারার চর্চা আর দেশজ খানা খাদ্যের মেলা আর আধুনিকতার ছোয়ায় বামবা-র কনসার্ট। দিনকে দিন পরিবর্তন আসবে, এইটাই স্বাভাবিক, তাকে আমন্ত্রন জানাবো সেটাও স্বাভাবিক, নতুন-ই তো ভবিষ্যত আর নতুন-ই বর্তমান।এত ভাললাগার মাঝে যখন ছিলাম তখনো ভীড় ঠেলে টিএসসি আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে এতটুকু খারাপ লাগেনি। শত বিরক্তিতেও কাউকে মন্দ বলতে মনে চায়নি বরং ভালো লেগেছে।

এখন আসি আসল কথায়, খারাপ লাগার অংশটায়। সত্যি বলছি, অনেক কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছি। বিগত কয়েক বছর ধরেই আমি যাচ্ছি ওই এরিয়াতে নতুন করে। বয়স হয়েছে, নিজে উপভোগ করার চেয়ে গার্ডিয়ান রোলটাই এখন প্লে করতে হচ্ছে। এখন যাই মামা হয়ে নিজের ভাগ্নে ভাগ্নিদের নিয়ে আগে যেখানে মুল সঙ্গী ছিল বন্ধুরা আর বিয়ের পর পর ছিল বউ। যাই হোক এবারো গিয়েছি আর গিয়ে আগের অভিজ্ঞতা আর এখনকার মধ্যে যে পার্থক্যগুলো উপলব্ধি করলাম, সেগুলো এইরকম-

১) এবার অন্যান্যবারের চেয়ে মনে হল ভীড়টা কিঞ্চিত কম। যাবার সময় এবং আসার সময় রিক্সাও পেয়ে গেলাম খুব সহজে আর ধাক্কা ধাক্কিটাও খুব একটা করতে হয়নি। সম্ভবতঃ মার্কেট খোলা থাকা এবং হাতির ঝিলের কল্যানে এইদিকে ধাক্কাটা একটু কম এসেছে।
২) চারূকলার ছাত্রদের জায়গায় বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখছি বাইরের কিছু ছক্কা পাঞ্জা পোলাপান রঙ আর তুলি নিয়ে ঝাপিয়ে পরছে আর মুখে আঁকা নিয়ে রীতিমত দর কসাকসি আর বাক বিতন্ডা। অথচ আগে ব্যপারটা ছিল অত্যান্ত শোভনীয় এবং চারুকলার ১ম বর্ষের ছাত্রদের তত্বাবধানে যারা মুখে নঁকশা একে দিত তারা একে দেয়ার পর কখনো দাম হাঁকতো না। তবে খুশী হয়ে কেউ কম-ও দিত না। এখন আঁকিয়ে চারুকলার হোক আর নাই হোক দাম-ও হাকছে, বাক বিতন্ডাও হচ্ছে। স্পেশাল এফেক্টঁ আর মাল্টিমিডিয়ার যুগে চারুকলার ছাত্রদের এখন ভালোই ডিমান্ড তা তাদের অঙ্কন মূল্য, বানিজ্যিকিকরন , মুখোশ বিক্রির ধারা আর আচরনগত পার্থক্যে এখন ভালোই ধরা পরে। নববর্ষ এখন উতকর্ষতার ধারক বাহক হওয়ার চেয়ে মোটামুটি সিজনাল ব্যবসার আভিজাত্যে পরিনত হয়েছে।
৩) এত সুন্দর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে এই সরকার বাবার নাম রাখতে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে বাপের নাম ভুলিয়ে ছেড়েছে সেটাযে এখনো ওই এলাকার শোভা বাড়িয়ে যাচ্ছে তা আসলেই অবাক হওয়ার মত ব্যপার।
৪) বাউল গানের আসর আর বামবার কন্সার্টের কথা বাদ-ই দিলাম কারন তারা আর ফ্রিতে গান-ও গায় না আর এতো পয়সা দিয়ে তাদের আনার মত আগ্রহ-ও এখন আর কেউ দেখায় না। ডাকসুর ইলেকশনটা হলে হয়তঃ ভালো কিছু পাওয়া যেত।
৫) দেশজ পন্য অনেক খোজাখুজি করেছি। পাইনি যে তা না তবে চোখে পরার মত নয় তবে চোখে পরার মত ব্যপার হল এই মেলাতেও চাইনিজ থান কাপড় আর চাইনিজ প্লাষ্টিক পন্যের ছড়াছড়ি। আমার এই ব্যপারটা খুব-ই অবাক লেগেছে, আপনাদের লাগেনি?
৬) আগে দেশ হয়ত এতো আধুনিক ছিল-ও না, তাই হয়তঃ আমরা দেখিওনি। মেলায় হাটার সময় পশ্চাৎ দেশে পিঁপ, টিঁট, প্যাঁপ অসহ্যকর মোটর বাইকের কুত্তার বাচ্চারা আপনাকে বিরক্ত করেনি? কখনো পারলে কি কারো গায়ে উঠিয়ে দেয়নি? কেউ যদি আমার এই ভাষায় রেগে গিয়ে থাকেন, তাহলে জ্বি আমি আপনাকেই বলছি আপনিই হলেন এই নববর্ষের কুত্তা ভার্সন ১।
৭) এইবার আসি ভার্সন ২ এর কথায়। আগে মেলায় গেলে কোন শব্দটা বেশি শোনা যেত মনে আছে? হাঃ আমার মনে আছে ডূগডুগির শব্দ টাররররর টারররর....... আর এইবার যারা গিয়েছেন কি শুনেছেন? ভুভুজেলার ভুভু জ্বালায় একমাত্র ওই অশিক্ষিতের দলরা ছাড়া আর কেউ মুগ্ধ হয়েছিল? নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী ডুগডুগি, ঢোলের আর বাঁশের বাঁশির সাথে কোন মিল খুজে পান আপনারা? মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া এই যন্ত্রনা আজ আপনাকে কিনেছে কাল আপনার মাকেও কিনে নেবে, তা জেনেও যারা আপনারা ভুভু জ্বালা বাজিয়ে এই প্রানের মেলাটার ১২ টা বাজিয়েছেন তারা আমার ভাষায় কুত্তা ভার্সন ২।
৮) এইবার আসি তাদের বাচ্চাদের কথায়। যারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে গাফিলতি করে ওই এলাকায় মোটর বাইক আর ভুভু জ্বালা-কে নিয়ন্ত্রন করেন নাই তাদেরকে এই তত্ত্ব অনুযায়ী পূর্ন বয়স্ক না হলেও বাচ্চা কুকুরের মর্যাদা দিতে ছাড়ব না। তাই আপনাদের জন্য হাফ টিকেট কুত্তা ভার্সন 0.৫।

মোটামুটি এই হচ্ছে আমার ভাষায় এই ১৪২১ নববর্ষের কুত্তার পাল। অনেক অপ্রাসঙ্গিক, অনৈতিক, ভ্রষ্ট আর দেশ ও জাতির জন্য অকল্যানকর ব্যপার দেখেছি কিন্তু স্বজ্ঞানে আর সুস্থ মস্তিষ্কে যারা প্রানের হৃদস্পন্দনে বাধার সৃষ্টি করেন তাদেরকে সামনে গিয়ে জুতা পেটা করতে না পারি মুখ, কলম আর ব্লগের ভাষাতো কারো বাবার জাইয়গির নয়, তাই না? তাই যারা এইটা পরে রেগে গিয়েছেন অথবা রাগ করবেন এইটা তাদের জন্য-ই। আমি আবারো বলছি আপনারা কুত্তা, ইন টোটাল ১৪২১ এর কুত্তা ভার্সন ২.৫- স্বজ্ঞানে এবং স্বদিচ্ছায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:২৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×