somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেড়েদে শয়তান... তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না

১৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিকই ধরেছেন, আজকের টপিক “শয়তান”... আমাদের সবচেয়ে কাছের একজন।
Philosophical Post... ইন্টারেস্ট না থাকলে Just Skip.

শয়তান এমন একটা সুক্ষ দেহধারী জীব যে মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলাচল করতে পারে এবং তার টেকনোলজি এতটাই আধুনিক আর উন্নত যে সে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে প্রতি পদে পদে বোকা বানাচ্ছে... মানুষ তার কিছুই টের পাচ্ছে না। মানুষ সৃষ্টির সেরা হয়েও তার থেকে নিম্নমানের এক জীবের কাছে প্রতিনিয়ত হেরে যাচ্ছে। কখনও কখনও সেটা বুঝতেও পারছে তবে কিছুই করতে পারছে না। এর থেকে খারাপ আর কি হতে পারে?

আমরা মানুষ ! হ্যা... আপনাদের সবার কথা বলতে পারবো না, তবে আমার নিজেকে মানুষ বলেই মনে হয়। আর মানুষের সব চেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে শয়তান। এটা কোন মুসলমান অস্বীকার করলে তার “মুসলমান” এর একাউন্টই ব্লক হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, আমাদের একদম বেস্ট ফ্রেইন্ড এর যায়গা দখল করে নিয়েছে শয়তান। শুধু তার ফেসবুকে ভেরিফাইড একাউন্ট থেকে ফ্রেইন্ড রিকোয়েস্টটা পাঠানো বাকি আছে। অদূর ভবিষ্যতে সেটাও আর বাকি থাকবে বলে মনে হয়না... তার কথায় আমরা উঠি, তার কথায় আমরা বসি। তার মাস্টারপ্ল্যান এর কাছে মানুষ আজ বড়ই অসহায়। কিন্তু সমস্যা একটায়... মানুষ... মানে আমরা আরকি... সেটা বুঝতে পারি না।

শয়তানকে ফিচারিং করে এতো কিছু বলছি কেন জানেন? কারণ শয়তান খুব হার্ড ওয়ার্কিং একটা পারসন। দিন নাই রাত নাই কঠোরভাবে সবসময় পরিশ্রম করেই চলেছে। মানুষ তার থেকে শ্রেষ্ঠ হলেও এখনকার যুগে কয়জন মানুষ এমনটা করতে পারবে বলুনতো? ওদিকে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলেও শয়তান কিন্তু আল্লাহ্-কে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসেবে অস্বীকার করেনি। বরং আল্লাহ্ যখন তাকে অভিশাপ দিয়ে জান্নাত থেকে চিরদিনের মত বিতাড়িত করলেন, তখন সে আল্লাহ্-কে রব হিসেবে সম্বোধন করে প্রার্থনা করলো, হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ্ তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। তখন সে বললোঃ হে আমার পালনকর্তা আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তেমনি আমি মানুষকে পৃথিবীতে নানারূপ সৌন্দর্যে প্রলুব্ধ করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেব। তবে যারা আপনার একনিষ্ঠ বান্দা তাদের ব্যতীত। সেই যে শুরু হলো তার মিশন, যা আজো সমানভাবে চলছে। এক মুহুর্তের জন্যও সে থেমে নেই। তার লক্ষ একটাই... সমগ্র মানবজাতিকে নিয়ে সে জাহান্নামে সুখে শান্তিতে একসাথে বসবাস করবে। আর আমরা মানুষরা সব কিছু জেনে বুঝে চুপচাপ বসে আছি তার মজা দেখার জন্য। আসলে শয়তানই অপেক্ষা করছে আমাদের মজা দেখার জন্য।

সেদিন শয়তান আমাকে বললো, তোরা মানুষরা এতো বোকা কেন বলতো? আমি বললাম, কি রকম? একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হতো... সে বললোঃ তোরা কোন হিসেবে জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিস? জান্নাতে যাওয়ার কোন যোগ্যতা আছে তোদের? তোদেরকে তোদের ভাষাতেই বোঝায়, ধর একটা মানুষ সারা মাস চাকরি করে গরুর মতো খেটে পনের হাজারটাকা বেতন পেল। সেই টাকাটা দিয়ে তোদের এই দুনিয়াতেই মাত্র একবতল ব্র্যান্ডেড স্কচ বা হুইস্কি পাওয়া যাবে। তার মানে দাড়ালো তোরা একবতল মদের মূল্য অর্জনের জন্য সারা মাস হাড়ভাংগা পরিশ্রম করতে পারিস। আর আমি নিজে চোখে দেখে এসেছি জান্নাতিদের দেওয়ার জন্য এর থেকেও লক্ষকোটি গুন দামী মদের পুরা নদী আল্লাহ্ সেখানে প্রবাহিত করে রেখেছেন। তাহলে ভেবে দেখ, সেটার দামই বা কতো হতে পারে আর তা পাওয়ার জন্য তোদের কিইবা করা উচিৎ? আর তোরা কি করিস...

তার কথা শুনে আমি তো পুরাই স্পিকার হয়ে গেলাম। আসলেই তার কথার যুক্তি আছে। আমি আর বেশী কিছু না বলে চুপচাপ ওখানথেকে কেটে পড়লাম। যায়হোক সেদিনের পরে থেকে শয়তান আমারসাথে ডাইরেক্ট কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, এখন শুধু ইনডাইরেক্টলি মস্তিষ্কে উল্টা-পাল্টা সিগন্যাল পাঠায়। আমার রিসিভার মাঝে মধ্যে সেটা রিসিভ করে ডিকোড করার চেষ্টা করে। আবার মাঝে মধ্যে রিসিভ করেই ডিলিট করে দেয়। কিন্তু তাইবলে শয়তান সিগন্যাল পাঠানো কখনও বন্ধ করেনি।

শেষে একটা কথাই বলতে চাই, শয়তান জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হলেও মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে ধোকা দেওয়ার আর বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা আল্লাহ্ তাকে দিয়েছিলেন। আর এটা ছিল মানুষের পরীক্ষার জন্য। শয়তানের ধোকার বিরুদ্ধে জিততে পারলেই মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে পারবে। আর তা না পারলে যদি শয়তানই মানুষের থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় তবে মানুষের জান্নাতে যাওয়ার কোন অধিকার আছে বলে আমার মনে হয়না ।।।

ফেসবুকে আমিঃ Káñàk The-Bøss
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৪৭
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×