somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধবাজির ফান্ড বনাম আর্ত মানবতার সাহায্যের ফান্ড

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম থেকে উঠলাম সকাল ৭ টায়। রেসিশান বা মন্দা আক্রান্ত এই কর্ম বাজারে কাজের ব্যাস্ততা কম। খরচ করার মতন টাকা কড়ির যোগানও সেই সংগে তাল মিলিয়ে। রিক্রিয়েশন বলতে আছে একমাত্র ইন্টারনেট। ব্লগে ঘুরি ফিরি, টরেন্ট দিয়া ফিল্ম নামায়া সেইগুলা দেখি, টুকটাক রান্না-খাওয়া ব্যাস এই হচ্ছে ইদানিংকার জীবনচিত্র। টিভি দেখিনা, ছেড়ে দিয়েছি অনেক দিন হলো। লক্ষ্য করছিলাম যে টিভি দেখার ব্যাপারটা আমাকে খুব উত্তেজিত করে তুলছিল। তাই একটু রিলাক্সড থাকার জন্য ছেড়ে দিলাম ঐটা। এখন অনেক ভালো আছি। রাজনিতি, সমাজ, যুদ্ধ বিগ্রহ, টেরোরিজম, কনসুমিজম ইত্যাদি থেকে এখন অনেক দুরে আছি। তবে সমস্যা এই যে তড়িৎ গতিতে কোনো খবর বার্তা মিলে না। এই যে অল্প কয়েকদিন আগে হাইতিতে ভূমিকম্প হয়ে গেলো তার খবর আমি জানতেই পারতাম না বা অনেক পরে জানতাম যদি ঐ সময় আমি দেশে না থাকতাম। শুরুর দিকে বলা হচ্ছিল ৮ / ১০ হাজার মানুসের কথা। এখন ধীরে ধীরে সেটা এই দশকের শুরুরদিকে ঘটে যাওয়া গুজরাট ভূমিকম্পের রূপ ধারন করছে। মনে পরে সেবার ভিকটিমের সংখ্যা দু'লাখ ছাড়িয়েছিল। তখন নিয়মিত টিভি দেখতাম। নিয়মিত খবর দেখার পাশাপাশি নানান হাবিজাবি টকশো আর ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন। মনে খুব খটকা লাগতো এই দেখে যে একদিকে যুদ্ধবাজির জন্য টাকাপয়সার যোগানের কোনো কমতি নাই। অথচ কোনো দুর্গত দেশ ও জাতিকে সাহায্যের প্রশ্ন উঠলেই জনগনের পকেট হাতড়ায় সরকার। এই চালচিত্রের সাথে বোধকরি তথাকথিত উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে বসবাসকারী সকলেই পরিচিত। একি অবস্থার পুনরাবৃত্তি দেখলাম ৎসুনামির সময়, ইরানে ভূমিকম্পের সময়, ইত্যাদি ইত্যাদি। পাশাপাশি বছরজুড়ে বিভিন্ন অজুহাতে ইউনেস্কো সহ নানান সংস্থার ফান্ড রাইজিংতো চলছেই। তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে অন্ন জোগান থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা, এইডস আক্রান্ত আফ্রিকানদের সহায়তা - হেন ইস্যু বাদ নাই যার জন্য মানুষের পকেট হাতড়ানো হচ্ছেনা। এর পাশাপাশি ডিসট্যান্স এডাপশনতো আছেই। আবার খুব সূক্ষভাবে কিছু ভাবনা বা বিশ্বাস এই সাহায্যকারি সংস্থাগুলি উন্নত বিশ্বের আম নাগরিকদের ভিতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সেটা হলো এইরূপ ভাবনা বা বিশ্বাস যে, তারা (উন্নত বিশ্বের নাগরিকরা) মহান আর আমরা (৩য় বিশ্ববাসীরা) অধম। আমরা তাদের সাহায্য ছারা অথৈ সাগরে ডুবে যাবো। এবং তাদের দেশ সমূহ আমাদের দেশগুলাকে সাহায্য করা ছারা অন্য কিছুই করছে না। এহেন আম নাগরিককে আপনি শুধু বলার চেস্টা করে দেখেন যে আমাদের (৩য় বিশ্বের) দেশগুলিতে মানুষের দুঃখ দুর্দশার প্রধান কারন হচ্ছে তাদের (উন্নত বিশ্বের) দেশগুলির ফরেন পলিসি, আপনাকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করা হবে। এইটা বুঝতে তারা পুরাই নারাজ। কারন তারা দেখে আসছে কারনে অকারনে, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তাদের দেশগুলির সাহায্যকারী সংস্থাসমূহ ও সরকার তাদেরই কাছে আমাদের জন্য হাত পাতছে এই বলে " দাও ভাই.... তোমার একটা কফি খাওয়ার পয়সায় অমুক দেশের একটা আস্ত পরিবার দুইবেলা ভরপেট খেতে পারবে" এবং এহেন আবেদনে তারা হরদম সারা দিচ্ছে এবং আত্মপ্রসাদ লাভ করছে এই ভেবে যে ঠিকাছে বাঁচুক ঐ ছাড়পোকাগুলি আমার এঁটোকাঁটা খেয়ে।
............. ................... .....................
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×