somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতিকথন ও উপদেশনামা

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেকোনো দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, মাত্রাজ্ঞান ধারণ করা। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ক্ষেত্রে তো এটা অতি জরুরি এক গুণ। কিন্তু এদেশে ব্যাপকভাবে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।

বিচারপতি হিসেবে কোনো পদে নিয়োগ পেলে অনেকেই সব বিষয়ে দিনের পর দিন উপদেশ দিয়ে যান, যেন বিচারপতি হয়েছেন বলে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতাসেলাই পর্যন্ত সবকিছুর সেরাটা শুধু উনারাই জানেন।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি সাম্প্রতিককালে অন্তহীনভাবে যেসব উপদেশ বর্ষন করে গেছেন তার একটি হলো, অবসরের পর রায় প্রদান করা অসাংবিধানিক।
বিএনপি নামক দলটি এ কথাটি লুফে নিয়ে খুব আগডুম-বাগডুম গাইছে।

অবসরের পর রায় প্রদান করা অবশ্যই অসাংবিধানিক কিন্তু যে নির্দিষ্ট রায় নিয়ে কথা হচ্ছে তার রায় তো বিচারপতি অবসর নেয়ার পর দেয়া হয় নি। রায় দেয়া আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা কি এক বিষয়?

আপিল বিভাগ যখন তত্ত্বাবধারক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দিয়েছিল তখন এবিএম খায়রুল হক ছিলেন প্রধান বিচারপতি। সেদিনই এ রায়ে তত্ত্বাবধারক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে উচ্চ আদালতের মূল অভিমত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল সংক্ষিপ্ত এক আদেশে। এরপর সময়ের দাবিতে অনিবার্যভাবে এবিএম খায়রুল হক অবসর নিয়েছেন।

বাধ্য হয়ে তিনি কয়েকশত পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে অবসর পরবর্তী সময়কে কাজে লাগিয়েছেন। এটা কীভাবে অসাংবিধানিক হয়?

পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে সময় লাগে এবং উচ্চ আদালত রায় প্রদানের পর সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন - এটা উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত হয়ে আসা একটি বিষয়।

তাছাড়া কোনো বিচারপতি যেদিন অবসর নিবেন সেদিন যে রায় দিবেন তার পূর্ণাঙ্গ আকার অর্থাৎ কয়েকশত পৃষ্ঠার পুরো রায় সেদিনই তিনি কোন অলৌকিক উপায়ে প্রকাশ করবেন?

বর্তমান প্রধান বিচারপতি নিজেই তো ২০১৩ সালে সাইদীর মামলায় যে রায় দিয়েছিলেন তার পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ করেছেন ২০১৫ সালে।

এদিকে বিএনপি তাদের আমলের বিচারপতিদের অবসরের পর প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ রায়গুলি নিয়ে তখন যেমন নীরব ছিল তেমনি এখনো কিছু বলে নি। তাদের মাথাব্যথা শুধু খায়রুল হকের রায় নিয়ে।

বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ব্যাপারটা আসলে খায়রুল হকের প্রতি আক্রোশ মেটানো। যেহেতু এই খায়রুল হকই বিএনপির প্রতিস্টাতা দেশের প্রথম সামরিক স্বৈরাচার জিয়ার শাসনামলকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন।

যে মামলায় এ রায় দেয়া হয়েছিল সেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল জিয়ার আমলে। পরে হাইকোর্ট এর রায়ও দিয়েছিল খালেদার শাসনামলে।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×