ক্রস কান্ট্রি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের নাম, অন্তত আমার মতো ফাঁকিবাজদের জন্য। আগে বলে নেই এইটা কি জিনিস, মাথায় দেয় না না গায়ে মাখে?
ক্রস কান্ট্রি অনেকটাই ম্যারাথনের শর্ট ভার্সন। প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয়, সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কেবল মাত্র অসুস্থ ব্যক্তিরা বাদ যাবে। ছোট গ্রুপে 3.5 মাইল আর বড়দের গ্রুপে 5 মাইল দৌড়।
সেইবার, 1998 বোধ হয়। আগে ছিলাম জুনিয়র গ্রুপে, 3.5 মাইলের উপর দিয়ে খুব কষ্টে পার করেছি। কিন্তু এইবার 5 মাইল, ভাবলেই গাঁয়ে কাটা দিয়ে ওঠে। আল্লাহ বাঁচাও।
ক্রস কান্ট্রি থেকে বাঁচার একটাই উপায় অসুস্থ হতে হবে, কিন্তু যেন তেন অসুখ হলে হবে না। বড় টাইপের অসুখ হতে হবে, নয়তো ক্রস কান্ট্রির আগের রাতে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করে দেবে।
তখন মাম্পসের খুব উপদ্রব চলছে কলেজে, যাদের অভিজ্ঞতা নাই তাদের বলছি ... খুবই ভয়াবহ ছোঁয়াচে এবং কষ্টের অসুখ। গায়ের দু'পাশে ফুলে যায়, মুখ হাঁ করতে কষ্ট হয়, কিছুই খাওয়া, প্রচন্ড জ্বর ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করলাম আল্লাহ আমাকে ক্রস কান্টির হাত থেকে বাঁচাও, দরকার হলে আমাকে মাম্পস দাও। অলমোষ্ট বিকাল হয়ে গেছে ... তখন কোন অসুখের লক্ষন নাই। আমি তো হতাশ ... আগামীকাল দৌড়াইতেই হবে। আহারে ভাবলেই ভয় লাগছে কিভাবে 5 মাইল দৌড়াবো। সিনিয়র হয়ে গিয়েছিলাম তাই পিটির সময় ফাঁকি দিতাম দৌড়াইতাম না। এইবার তো মাফ নাই!!!
বিকালের দিকে একটু একটু গা গরম মনে হচ্ছিল। আমি তো দৌড়ে হাসপাতালে ... কম্পাউন্ডাররা তো বলল সামান্য জ্বর ঔষধ খেয়ে একটা ঘুম দাও, তারপর হাউজে ফিরে যাবে। আগামীকাল কোন মাফ নাই ...। কি আর করবো ... শালারাও টের পেয়ে গেছে আমি ফাঁকি দেওয়ার ধান্ধা করছি।
যাই হোক ঘুম থেকে উঠলাম মুখে ব্যথা নিয়ে ... আয়নার সামনে তাকিয়ে দেখি গালের দু'পাশ ফুলে ঢোল । প্রচন্ড ব্যথা তার মধ্যেও চিৎকার করে উঠলাম ইয়াহু.....।
বিঃদ্রঃ সেইবার ক্রস কান্ট্রি থেকে রেহাই পেয়েছিলাম আর মাম্পস খুব ভুগিয়ে ছিল, প্রায় 20 দিনের মতো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। চিবাতে যেন না হয় তাই প্রতিদিন স্যুপ নামে অখাদ্য পান করতে হতো তিন বেলা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

