এটা খুবই সাধারন কথা যে ছেলে বাপের মতো হবে। কথাটা সবাই জানি, সবাই বুঝি কিন্তু এমনটা হতে পারে ভেবে দেখি না। নিজের মধ্যেই একটু একটু করে গড়ে উঠে পিতার একটা প্রতিচ্ছবি। আমার মা প্রায়ই বলে আমি নাকি তাঁর মতো হয়েছি। প্রমানও দেয়, শান্তু স্বভাবের (তাই বলে আমার বাপ অশান্ত নয় ... হাহাহাহাহা .... ), সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালবাসি ইত্যাদি ইত্যাদি।
অন্য আর দশটা ছেলেমেয়ের মতো আমারও মায়ের সাথেই বেশি খাতির, কারন হয়তো ছোটবেলা থেকে আব্বার হালকা টাইপের গম্ভীরতাকে ভয় পেতাম। যদিও বড় হয়ে বুঝেছি যে ভালবাসাই অন্য একটা রূপ তবুও মায়ের মতো অমন ঘনিষ্টতা হয়ে ওঠে নাই।যখন ক্যাডেট কলেজের ছুটিতে আম্মার কাছে টাকা চাইতাম, আম্মা বলত তোর বাপের কাছে চাস না কেন? তোর বাপ তো প্রায়ই বলে ওরা তোমার কাছে টাকা চায়, আমার কাছে চাইলেই তো পারে? ধীরে ধীরে অনেকটা কেটে গিয়েছিল।
আব্বার অনেকগুলো স্বভাবই এখন নিজের মধ্যে খুঁজে পাই। ছোটবেলা থেকেই দেখতার আব্বা আর কিছু না হোক, প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যেও দিনে অন্তত একটা কোন না কোন সংবাদ শুনবে। সকালে অফিসে যাবার আগে খবরের কাগজে একবার তাঁকে চোখ বুলাতেই হবে। আমার বন্ধুরা তো বলে - টেলিভিশনের সংবাদ খুবই বোরিং জিনিস, এরচেয়ে ধুম ধারাক্কা গান শোনা শতগুনে ভাল। কিন্তু আমি বাপু হয়তো আমার বাপের মতো হয়ে গেছি, ঘন্টার পর ঘন্টা খবরের কাগজে মুখ ডুবিয়ে থাকতে পারি, কিংবা টিভি চ্যানেলে চোখ লাগিয়ে রাখি।
ছোটবেলা থেকেই দেখতাম, বাজারে কোনো শাকসবজি দেখলেই তাঁকে কিনে আনতে হবেই হবে। আমরা শাকসবজি তেমন একটা পছন্দ করতাম না, তবুও আনতো এই ভেবে যদি নতুন সবজি মনে করে দু-এক টুকরো মুখে দেই। এই দেশে আমার বন্ধুদের মতো আমিও দিনের পর দিন বেবী চিকেন কিংবা স্বাদহীন ভেড়ার মাংস খেয়েই দিন উজাড় করতে পারি। কিন্তু সপ্তাহের দুই দিন ভার্সিটিতে ফেরা পথে যখন হোয়াইট চ্যাপেলের সবজির পসরাগুলো দেখতে পাই, তখন কেন জানি একটা দুইটা সবজি না কিনে থাকতে পারি না। মনে পড়ে যায়, একসময় আব্বা অনেক চেষ্টা করেছিল আমাদের সবজি খাওয়াতে, খাইনি। এখন তো কিনে খেতে পারি। দূরে থাকলেও আব্বার মনে শান্তি হবে। শুধু মনে হয় কবে ফিরে যাবো দেশে, আব্বা যেমন করে পরম আদরে আমাদের জন্য বাজারের শ্রেষ্ট জিনিসগুলো নিয়ে আসতেন, একদিন আমিও তার জন্য শ্রেষ্টগুলো নিয়ে আসবো। তাঁর ভালবাসার ঋণ তো কখনোও শোধ করতে পারবো না, তবুও মনে তৃপ্ততার স্বাদ খুঁজে পাব।
এই দূরদেশে মা, বাবা, ভাই, বোন ু ভুলে থাকা যায়। আবার মনে পড়লে থাকাটা খুবই কষ্টের হয়ে উঠে। ওদেরকে যে খুব মিস করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



