৩৬ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক চড়াই উতড়াই এদেশের মানুষ দেখেছে। মুজিব হত্যা, জেলে চার বুদ্ধিজীবির হত্যা, জিয়ার আগমন, জিয়ার হ্ত্যা, এরশাদের আগমন, নব্বুইয়ের গনঅভ্যুত্থান ৃ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এখন দেখছে সম্পূর্ন ভিন্ন একটা প্রেক্ষাপট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দূর্নীতি আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান।
আসলে বিগত সরকারের শাসনামলেও আমি দেশ নিয়ে খুবই হতাশায় ছিলাম। আমি খুব করেই চাচ্ছিলাম, দেশে একটা পরিবর্তন আসুক। কারন, দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় এসেছে। গরীব আরোও গরীব হয়েছে, বড়লোকের ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে বহুগুনে আর দূর্নীতি, সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যতে ছেয়ে গেছে দেশটা।
যে মূর্হুতে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়লো আর দেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি হল, আমার তো আশংকা হচ্ছিল যে দেশে গৃহযুদ্ধ না লেগে যায়। যাই হোক, সেই অবস্থা থেকে রেহাই পেয়েছি আর পদ্মার জল অনেক গড়েছে, সেই কথার পুনরাবৃত্তি আর নাই বা করলাম।
বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকারে একের পর এক বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদকে ধরে জেলে পুরতে থাকা আর সন্ত্রাস আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান দেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বুকে আশার সঞ্চার করছে। যা কখনও স্বপ্নেও কেউ কল্পনা করেনি, এই প্রবাসে প্রতিদিনের পত্রিকা আর টেলিভিশনে দেখে দেখে শিহরিত হয়ে উঠছি। দু:খ হচ্ছে কেন এই মূহুর্তে দেশে থেকে এমন একটা ক্রান্তিকালের সাক্ষী হতে পারলাম না।
সর্বশেষ আকর্ষন, যুবরাজ ধরা পড়েছে। দূর্নীতির গডফাদার তারেক জিয়াকে আটকের মধ্য দিয়ে হয়তো নিরবেই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নিসন্দেহে এই ঘটনা দূর্নীতি আর অপশক্তির মায়াজালে জর্জরিত বাংলাদেশে এনে দিয়েছে স্বস্থির আশ্বাস। সবাই চাচ্ছিল তারেক জিয়া ধরা পড়ুক, সবাই তাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে মনে করছিল। তা ভুল প্রমানিত হল।
জানি না গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর সুষ্টু বিচার হবে কিনা, জানিনা এতসব ঘটনা কি কেবলই রাজনৈতিক ষ্ট্যান্টবাজি নাকি দু:স্বপ্নের পর সুন্দর একটা সকালে আরম্ভ। অনেকেই হয়তো এরশাদের মতো হালকার উপর দিয়ে পার পেয়ে যাবে। মন চাইছে তত্বাবধায় সরকারের এই কর্মসূচীগুলোতে ১০০ ভাগে বিশ্বাস করি। আবার আশঙ্কাও হচ্ছে, যেভাবে সশস্ত্র বাহিনীকে যেভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে এই সামরিক শাসন শুরু হলে এতটুকুও আশ্চর্য হব না। অনেক তো হল গনতন্ত্র, এইভাব সামরিক শাসন চেখে দেখতে ক্ষতি কি?
দেশকে নিয়ে নতুন করে ভাববার এটাই হয়তো সঠিক সময়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



