লন্ডনে আমি একজন লোককে চিনি, যার কিছুদিনের মধ্যে তালাক হয়ে যাচ্ছে। পাকিস্থান বংশোদ্ভুত এই ব্যক্তি বিয়ে করেছিলেন তার চেয়ে বেশি বয়সী এক মহিলাকে, হয়তো সম্পত্তির লোভে। যাক সে কথা, এটা আমার গল্পের অংশ নয়।
তার একটা ছোট্ট মেয়ে আছে। খুব সুন্দর, মেয়েটির কোন এক শারীরিক সমস্যার কারনে তার অর্ধেক শরীর গজ-ফিতা দিয়ে মোড়ানো। খুবই খুবই কষ্টের, তবুও মেয়েটির হাস্যোজ্জ্বল মুখটি আজ আমাকে দুঃখ ভারাক্রানত করেছে। আজকেই প্রথম মেয়েটির ছবি দেখলাম। মেয়েটি তার মায়ের সাথে থাকে।
হঠাৎ করে কিছুদিন ধরেই লোকটিকে তার মেয়ের গল্প বলতে শুনছি, আগে একেবারেই শুনতাম না। আজ আমার মেয়েকে এই জিনিস পাঠাচ্ছি, তো কাল সেই জিনিস পাঠাচ্ছি। নানান কথা। আমি মনে করলাম মেয়ের অনুপস্থিতি অনুভব করছে। আজকে একটা গ্রিটিং কার্ড(বাংলা মনে করতে পারছি না) দেখিয়ে বলল এটা আমার মেয়েকে পাঠাচ্ছি। আমার খুব ভাল লাগল। হঠাৎ দেখি সে কার্ডটা ফটোকপি করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেনো? উত্তরে যা বলল তা শুনে আমি চরম অবাক হয়ে গেছি। সে বলল তার স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে তার বিরুদ্ধে নাশিল করেছে যে সে তার মেয়ের কোন খোঁজ খবর রাখেনা। তাই সে তার মেয়েকে কার্ড পাঠাচ্ছে এবং সেটা ফটোকপি করে রাখছে। যাতে পরবতর্ীতে আদালতে সেটা প্রমানস্বরুপ দেখানো যায়।
আমি কিছুক্ষনের জন্য হলেও তাকে কিছু বলার ভাষা হারিয়েছিলাম। এত সুন্দর একটা মেয়ে, যখন কষ্টে কাতর ছিল, তখন সে তার খবর রাখেনি আর যখন আদালতের সামনে হাজির হতে হচ্ছে, তার দরদ উছলে পড়ছে।
আমি জানি না, এই ভালবাসাকে কি বলা যায়? ভালবাসা কি শেষপযনর্্ত আইনের কাছে পরাজিত হল?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



