গত কিছুদিন টানটান উত্তেজনা ছিল, এখনও কিছুটা বিরাজ করছে। শায়খ আর বাংলা ভাই, ভাই না শালা শয়তান- ধরা পড়েছে। তারাই টক অব দ্যা টাউন। সূর্য দীঘল বাড়ি দেখতে লাখো লোকের ভিড়। রাস্তাঘাটে, অফিসে আদালতে, ঘরে-বাইরে সবতর্্র বিরাজ করছে তারা। বাংলাদেশি আইডল!!! হা হা হা।
সংসদে ও সংসদের বাইরে বিএনপি, আওয়ামী লীগের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে। সরকার বলছে 'অভূতপর্ূব সাফল্য' আর আওয়ামী লীগের কাছে 'সাজানো নাটক'। কিন্তু কে ঠিক আর কে বেঠিক জানি না? সাধারন নাগরিকের মতই চিন্তা করি। সবাই নিদেনপক্ষে একবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, যাক বাবা বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি। আর বোমা হামলা হবে না, রমনা বটমূলে গান শুনবো, মিটিং-মিছিলে নিভর্য়ে গাড়ি পোড়াবো ইত্যাদি ইত্যাদি। যার যেমন চিন্তা সে সেভাবেই দেখছে।
আমার প্রশ্ন রাঘব বোয়ালরা কি ধরা পড়ে? সিনেমা ছাড়া কখনই দেখিনি রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়েছে। ধরুন গার্মেন্টেসে যে এত দূঘটনর্া হয়, তাদের একটিরও মালিক কি ধরা পড়েছে? কিন্তু আনর্্তজাতিকভাবেই চিন্তা করেন। লাদেন কি ধরা পড়েছে, পড়েনি কারন লাদেন এবং বুশ মিলে এই ষড়যন্ত্র করেছে। তাহলে লাদেন সারা বিশ্বকেই যদি জানাতে চায়, তো এমন একটি দিন কেন বেছে নিলেন যেদিন ইহুদিদের ছুটি। ভুল করলে মাফ করবেন। হাজার হাজার হিসেবের মাঝ থেকে এই হিসেবটা করলেন না কেন? তা না হয় হলো, এতদিনও লাদেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? পরাক্রমশালী সাদ্দাম তো ধরা পড়ে গেল। সাদ্দাম কিন্তু বোয়াল ছিল না, তাকে বোয়াল বানিয়ে এই আমেরিকাই, ইরান ইরাকের যুদ্ধে সাদ্দামকে অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে আমেরিকাই সাহায্য করেছিল। আর তারাই নিজেদের প্রয়োজনে তাকে ছেঁটে ফেলেছে। কিন্তু লাদেনকে তারা কিছুই করবে না, কারন বাবা বুশ আর বাবা লাদেন ব্যবসায়িক বন্ধু, আমেরিকা গেলে বাবা লাদেন বাবা বুশের বাংলোয় উঠেন, আমোদ ফূর্তি করেন।
ছিলাম বাংলা ভাই-এ, আর চলে গেছি আমেরিকায়। এই আমাদের সমস্যা। কোন রাঘব বোয়ালই যদি ধরা না পড়ে তাহলে শায়খ - বাংলা ভাই ধরা পড়লো কি করে? তারা এত টাকা কোথা থেকে পেত, কিইবা তাদের আনর্্তজাতিক সম্পর্ক, তিনটি এনজিও থেকে তারা টাকা পেত, তাদের নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে না কেন- ইত্যাদি নানা প্রশ্নের জবাব কি কোন পাওয়া যাবে? বিষয়টি এখন মামলাধীন, কিন্তু শত শত মামলা মামলাই থেকে যায়, হাজার হাজার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, কোনো সুরাহা হয় না। অত্যাচারিতের কান্না আকাশ বাতাসে প্রতিদ্ধনিত হতে হতে এক সময় মিলিয়ে।
কাব্য আর বেশি দীঘর্ায়িত করব না, আশা করি অতি দ্রুত দোষীরা সাজা পাবে। আমরা সুন্দর একটা সমাজ পাবো, এতটুকুই তো চাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



