কলেজে, মানে ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেনী থেকেই বেশ কয়েকজন তাদের প্রেমকাহিনীর জন্য বিখ্যাত ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হয়তো আমিই ছিলাম, তারপর যে কয়েকজনের নাম করা যেতে পারে তাদের মধ্যে দেলোয়ারের নাম অন্যতম। যাই হোক, তাকে নিয়েই এইবারের পোষ্ট। আর যারা আমার প্রেমকাহিনী শুনতে চান তাদের আরোও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
মহুয়ামঞ্জরীর শের-এর ঠেলায় আমার দেলোয়ারের কথা মনে পড়ে গেল। ওকে দেখতাম কথার সাথে সাথে হিন্দী, উদর্ূ, বাংলা... আরও কত ভাষায় যে শের, কবিতা উওড়ে যেত। কয়েকটা শেরের বইও ছিল, পুরা বই মুখস্ত, আমার প্রিয় শেরগুলো ডায়রীতে রং-বেরং এর কলম দিয়ে লিখে রাখতো। এই সবই নাকি প্রেমে পড়লে মানুষ করে, জটিল ব্যাধি, আমি ছাইপাশ কবিতা লিখেই রক্ষা পেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে শুনতাম, বদখত কবিতা লেখক হুমায়ুন আহমেদের 'কব্বরে ভেতরে' টাইপের কবিতাও গরগর করে বলে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে দেখে সত্যিই শংকিত হতাম, ভাইরে দুনিয়ায় এত পাগলও আছে?
কয়েকদিন পর পর ওর রঙ্গিন খামে চিঠি আসে, কোনোটাতে তো আবার সুগন্ধিও থাকতো। দেখে মনে হাহাকার করে উঠতো, আহারে.............
সেই প্রেমের পরিসমাপ্তিতে ট্রাজেডী আছে, শুনেছিলাম ট্রাজেডী ছাড়া নাকি প্রেম সার্থক হয় না। তাই দেলোয়ারের প্রেমও সার্থক হয়েছিল, মেয়েটি বিয়ে হয়ে যায় এক পুলিশ অফিসারের সাথে আর দেলোয়ার 21টা ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে অবশ্য পেটে নল ঢুঁকিয়ে সব কিছু বের করে ফেলে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



