নিজেকে দেশ প্রেমিকের কাতারে ফেলিনি কখনও, অনুভব করেছি দেশের জন্য মাঝে মাঝে বুকের ভেতরে চিন চিন করে। কিছু করার মুরোদ ছিল না, হয়তো সৎসাহসের অভাবও ছিল।
দেশের বাইরে এসে প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়ি। সব সময় বলি পড়াশুনা শেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাব। বন্ধুরা ঠাট্টা করে, আরে ব্যাটা এখন তো ঠিকই বলছিল, পরে দেখা যাবে, কে যায় আর কে না যায়? আমিও সায় দেই কিন্তু অন্তরে ভয় থেকেই যায়। যদি প্রবাসের এই নির্ঝঞ্ঝাট জীবন আমাকে আকঁড়ে ধরে, আমাকে ফিরে যেতে না দেয়, তবে তো নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাব।
না না না ... আমি দেশে ফিরবোই, নিজের কাছে নিজে শপথ করি।
বাসা থেকে অফিস আসবার পথে একটা বেশ উঁচু দালান পড়ে, ওটার 7/8 তলার কোন একটা জানালায় একটা বাংলাদেশের পতাকা ঝুলে। প্রতিদিন দুইবার, আসা ও যাওয়ার পথে ওটাকে দেখি, খুব ভাল লাগে। বুকে মাঝে চাপা একটা দেশপ্রেম মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
ওই দেখে গত রবিবারের বৈশাখী মেলায় একটা পতাকা কিনতে চেয়েছিলাম, আমিই টাঙ্গিয়ে রাখবো। যখন মেলায় বন্ধুকে বললাম, সে সরাসরি একটা প্রশ্ন করল 'দেশকে ভালবাসিস?' আমি ভ্যাবা চ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলাম, এমন প্রশ্ন আশা করিনি। যাই হোক বললাম 'হ্যা'। তখন সে বলল 'তাহলে সেটাই যথেষ্ট, পতাকা ঝুলিয়ে দেশপ্রেম প্রকাশের কোনো মানে হয় না।'
আমার মনে হল দশ কথার এক কথা বলেছে, খুব ভাল লেগেছিল ওর কথাটা।
যাই হোক, বৈশাখী মেলায় অনেক কিছুই দেখলাম, শোমচৌ-এর পোষ্টে তার বণর্না পাওয়া যাবে।
পতাকা নিয়ে একটা ছোট্ট কথা বলে শেষ করছি। মেলাতে অনেককে দেখলাম পতাকা কিনেছে, কেউবা মাথায় বেঁধেছে, কেউবা হাতে বেঁধেছে। খুব খারাপ লাগল যখন দেখলাম, কেউ কেউ পায়ে বেঁধেছে।
জাতীয় পতাকাটা কি এতটাই মূল্যহীন?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



