somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানিক-মাকাও --লোককাহিনী

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানিক-মাকাও
পাহাড়ের রাজার কিশোরী বউ লিয়েন-মাকাও। রাজপ্রাসাদে ধন সম্পদ আর ঐশ্বর্য্যে ঘেরা জীবন। মানিক হলো এক অনাথ কিশোর। গ্রামের ভেতর তার স্থান হয়নি। তাই গ্রামের বাইরে এক ঝর্ণার ধারে কুড়েঁ বানিয়ে থাকে। একা।
প্রতি রাতে মানিক বাশিঁ বাজায়। হাওয়া আর উড়ো মেঘ মানিকের বাশিঁর সুর বয়ে আনে রাজপ্রাসাদে। বাশিঁর করুণ সুর শোনে রাতের পর রাত কাটায় মাকাও। সেই সুরের টানে একরাতে মানিকের কুড়েঁতে হাজির হয় মাকাও। জানালা দিয়ে উকিঁ দিয়ে দেখে এক কিশোরকে। তন্ময় হয়ে সুর তুলছে বাশিতেঁ। মাকাও এক বিবাহিত নারী। তার এই নিশিযাত্রায় কলঙ্ক হবে। মাকাও কুড়েঁ থেকে পথে নামে। কিন্তু, ফিরে যেতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। বাশিঁর সুরে তারই যন্ত্রনা, বেদনা, নি:সঙ্গতা। ঘুরে দাঁড়ায় মাকাও। হাজির হয় কুড়েঁর দোরে। দরজায় খিল। মাকাও ডাকে। মানিক ওঠে দেখে। ফিরে যেতে বলে। বিপদের কথা শোনায়। বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত বাধা ভেঙে ফেলে মাকাও। মানিকের বাশিঁর ঠোটেঁ কিশোরী মুখ রাখে। দূরে পাহাড়ের বাদামী চূড়ায় দুধের মতো সাদা তুষার জমে।
দু’বছর ধরে রাজ্য পরিক্রমা করে রাজা এসে দেখলেন প্রাসাদে দশ মাসের ছেলে। ছেলেটির পিতৃ পরিচয় জানতে চাইলেন রাজা। কিন্তু লিয়েন-মাকাওয়ের কাছ থেকে উত্তর মিলল না। রাজা চরম শাস্তির ভয় দেখালেন। কিন্তু কাজ হলো না। রাজার সামন্তেরা অস্ত্রে শান দিলো কিন্তু নাগরের নাম জানা গেলো না। শেষে ডাক পড়লো দরবারের। নির্দ্দেশ জারি হলো। পরের দিন রাতে রাজ্যের প্রতিটি পুরুষকে একটি কলা হাতে হাজির হতে হবে। যার হাত থেকে শিশু ঐ ফলটি নেবে, সে-ই চিহ্নিত হবে অবৈধ পিতা হিসেবে। সারাদিন ধরে জড়ো করা হয় লাঠি। জমতে জমতে পাহাড়। অবৈধ পিতৃত্বের শাস্তি লাঠির ঘায়ে মৃত্যু। সভায় হাজির সব বাসিন্দা। একে একে সবাই যায় শিশুর কাছে। কিন্তু শিশুটির কোন আকর্ষণ নেই। না মানুষে, না ফলে। সভা হতবাক। কে নেই! ফিসফাস শব্দ ওঠে। মানিক, মানিক, মানিক কোথায়? কিন্তু সে তো আধ-পাগল। তবুও পুরুষ লিঙ্গধারী। সৈন্য-সামন্ত ছোটে। মানিক ততক্ষণে ঝর্নার জলে স্নান সেরে জোতস্নার সুর ভাজে বাশিতেঁ। সে সুরে গলা মেলায় ঝিঝিঁর পাল, বটের পাতা আর বনের লতাপাতা।
উঠে দাঁড়ায় মানিক। দরবারের পথে হাটেঁ। এই প্রথম তার রাজবাড়িতে যাওয়া। চোখ ধাধিয়েঁ যায় – এতো অস্ত্র, এতো সামন্ত, এতো ধন, এতো ঐশ্বর্য, এতো বল, এতো বিক্রম আগে দেখেনি কোনদিন। সিংহাসনে রাজা, সভার মাঝে মানিক। রাজার হাতে রাজদন্ড, মানিকের হাতে কলা। এ-দুইয়ের মাঝখানে এক উচ্ছল শিশু। সে ঝাপিয়ে পড়ে মানিকের বুকে, টেনে নেয় হাতের ফল।
রাজসভার বাইরে আনা হয় মানিককে। সান্ত্রিরাও লাঠি হাতে তৈরি। আকাশে ঘোলাটে চাঁদ। রাজার দন্ডাদেশও ঘোষিত হয়। জানতে চাওয়া হয় তার শেষ ইচ্ছা। বকের ডানার মতো সাদা দু-হাত বুকের কাছে এনে সে আবেদন করে তাকে আগুনে পুড়ে মরার অনুমতি দিতে। রাজার সম্মতি মিলল। তৈরি হলো অগ্নিবৃত্ত। সবচেয়ে সুন্দর পোষাক পরে বাশিঁ বাজাতে বাজাতে মানিক এগিয়ে চলে। হাতের বাশিটিঁ নিচের দিকে মুখ করে মাটিতে গাথেঁ। তারপর ঢুকে পড়ে আগুনের ভেতর। সবার অলক্ষ্যে সেই আগুনে প্রবেশ করে কিশোরী মাকাও। একসময় নিভে যায় আগুন। চোখ থেকে ধোঁয়া মুছে মানুষজন। দেখে, অগ্নিবৃত্তের জায়গায় একটি জলাশয়। অন্যদিকে বাশিটিঁ রূপান্তরিত হয়েছে একটি বাশেঁর বনে। সেই বাঁশ বনের সমস্ত পাতার মুখ মাটির দিকে।

(খাসি ও জয়ন্তিয়া পার্বত্য অঞ্চলে বহু যুগ ধরে প্রচলিত একটি লোককাহিনী প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সহ)।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×