আলাদিনের পুরান চেরাগে লুকিয়ে ছিলো একটা বুড়ো জ্বিন, আমার হাতের ছোয়ায় সেই বেড়িয়ে এলো বাইরে! ইহা বড় নিশ্বাস নিয়ে আমার পায়ের নিচে ঝাপিয়ে পড়লো। আর বললো মালিক আপনি আমাকে বাচিয়েছেন, বিনিময়ে আপনি আমার কাছে তিনটি জিনিস চাইতে পারেন...
আমিও শালা এই ম্যাজিকের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।
প্রথম চাওয়া ছিলো ২০০ বস্তা টাকা, দ্বিতীয় চাওয়া ছিলো ৪০০ বস্তা টাকা আর তৃতীয় চাওয়া ছিলো ১০০০ বস্তা টাকা।
বেচারা বুড়ো জ্বিন আমাকে সব টাকা দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
আমি এখন টাকার মধ্যে ঘুমায়, টাকা দিয়ে গোসল করি, টাকার মধ্যে লাফালাফি করি। এই কনকনে শীতের মধ্যে সবার কম্বল লাগে কিন্তু আমার লাগে না। টাকার গরমে শীত ভয়ে পালিয়ে যায়।এতো টাকা খাবে কে! এই জন্য টাকা বিলি করতে লাগলাম। পথশিশুদের ধরে ধরে ব্যাগভর্তি টাকা দিচ্ছি, গরিবের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকার বৃষ্টি দিচ্ছি, রিক্সাওয়ালা ভাইদের একটা একটা করে বিএমডব্লু গাড়ি দিচ্ছি! তবুও আমার টাকা শেষ হচ্ছে না। কি করি এতো টাকা নিয়ে, এই নিয়ে মহাচিন্তায় ছিলাম।
আমার জীবনে একটা রাজকুমারীর আগমন হয়েছে, এতো সুন্দর সারা পৃথিবীতে খুজে পাওয়া যাবে না। রাজকুমারীর মুখের আলোয় সারা ঘর আলো হয়ে যেত। রাজকুমারীর জন্য আমি দামী দামী উপহার দিতে লাগলাম। পৃথিবীর সবচাইতে দামী বাড়ি, গাড়ি, হিরা, স্বর্ণ, প্রাইভেট বিমান সব তার জন্য নিয়ে এলাম। রাতে ক্যান্ডেল লাইটে ডিনার করার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রেস্টুরেন্টটা কিনে নিলাম সবই ছিলো আমার রাজকুমারীর জন্য।
এখন আমার টাকা শেষ, আমি ঘরের বাইরে ঘুমায়। যেইখানে পথশিশুরা ঘুমাতো। শীতের মধ্যে কাপছে আমার পুরা শরীর, খিদায় আমার পেট ব্যাথা হয়ে গেছে কেউ কিছু দিচ্ছে না খাওয়ার জন্য! ১০০ হাত দূরে আমার রাজকুমারীর ঘর যেইখানে সেই ঘুমিয়ে আছে আমার দেওয়া বিলাসবহুল বাড়ির মধ্যে...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



