সম্ভবত আশ্বিন মাস হবে। স্কুল থেকে ফিরছি। আমি, সোহেল, হাবিব, ফারহানা। সঙ্গে আরো কে কে ছিল মনে নেই। দুই দশক আগের কথা অত কি মনে থাকে। বাড়ির কাছাকাছি এসে পৌছেছি। বাড়ির সীমানায় মোটা ১০টি মেহগনি গাছ ছিল। ছোট পাতার গাছগুলো ডালপালা মেলে ছাতির মত ঢেকে রাখতো রাস্তা। দিনের বেলায়ও অন্ধকার থাকতো। আবার আব্বা একদিন শস্তায় গাছগুলো বেঁচে দিলেন। এখন গাছগুলো নেই। রাস্তায়ও অন্ধকার নেই। কেবলই রোদ আর আলো।
এরইমধ্যে ফারহানা ঢুকে পড়েছে ওদের গেটে। হাবিবের বাড়ি সবচেয়ে দুরে, গ্রামের নাম সোনাখালী। কাচা রাস্তা, তার ওপর বৃষ্টি। এখানে ওখানে পানি জমে আছে। হঠাত রোদ বেরোলো। সাদা মেঘগুলো হাওয়া। নীল আকাশ, মন পাগল করা নীল। এত সুন্দর আকাশ দেখলে কি যে করতে ইচ্ছে করে।
আজকে আকাশে একটুও মেঘ নেই- আমার মুখে এ কথা শুনে হাবিব হ্যা না কিছুই বললো না। সোহেলও নিরুত্তর। আকাশে মেঘ নেই, এতে খুশী হওয়ার কি থাকতে পারে।
কিন্তু আমি ভাবছিলাম অন্য কথা। বিকেলে বড় রাস্তা পার ভৈরব নদীর তীরে যাওয়া যাবে। আর যদি সোহেলকে সঙ্গে পাই, তাহলে তো দুই দোস্তে খুব মজা হবে। আমাদের প্রথম কাজ নদীর তীর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো আর নৌকা দেখা। মাঝি ভাইদের এটা ওটা জিজ্ঞেস করা। কখনও তারা উত্তর দিত। কখনও দিত না।
বিকেলের বাতাসে নদীর তীরে উঠে আসা কাকড়া ধরতাম। ফেরার পথে সেগুলো দিতাম মন্দাকিনীর মাকে। মন্দাকিনীর মা বিরক্ত হতেন। মুসলমান ছেলেদের ধরা কাকড়া তিনি নেবেন না। তবুও দিতাম। নদী তীরে ছিল নজরুলদের সবজি ক্ষেত। নজরুল স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাবাকে সাহায্য করতো। বাপ-বেটা মিলে কোদাল কোপাত। নজরুলের বাবার ছিল পেটানো শরীর। লোকটা খুব ভালো ছিলো।
সন্ধ্যা নেমে গেল ফিরতাম বাড়িতে। বই নিয়ে বসতাম। কিন্তু মন পড়ে থাকতো ভৈরবের পাড়ে, সবজি ক্ষেতে। পড়া হতো না।
আমি কেন ওমন ছিলাম। তবে কি কবি হতে চেয়েছিলাম। তাহলে আজ কোথায় গেল কবিতা।
কিছুই ভালো লাগে না। কেমন আছে তারা। হাবিবুল, ফারহানা আর সোহেলরা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




