somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাজী জহির উদ্দিন তিতাস
কাজী জহির উদ্দিন তিতাস ১৯৮৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের চিলোকূট গ্রামের কাজী বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কাজী জালাল উদ্দিন, মাতার নাম মোছা ঃ নূরুন্নাহার বেগম।

আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাসুল (সঃ) হাজির ও নাজির

১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করে মহা নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত করে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তাই মহান আল্লাহপাকের দরবারে লাখো কোটি শুকর আদায় করছি, আলহামদুল্লিাহ।

মহান আল্লাহ পাক উনার আপন হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে সমগ্র পৃথিবীতে সর্বাবস্থায় হাজির ও নাজির করে সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন- হে নবী! নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি হাজির-নাজির (উপস্থিত, পর্যবেক্ষণকারী) করে, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারীরূপে এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর নির্দেশে আহ্বানকারী আর আলোকোজ্জ্বলকারী সূর্যরূপে। - সুরায়ে আহযাব, আয়াত নং-৪৫।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে আবুস সউদ ৪র্থ খন্ড ১০৭/১০৮ পৃষ্ঠা, তাফসিরে রুহুল মায়ানী ২২পারা ৪৫ পৃষ্ঠা ও তাফসিরে জুমাল ৩য় খন্ড ৪৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে- যাদের প্রতি আপনাকে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের সকলের জন্য আমি আপনাকে শাহিদ তথা হাজির ও নাজির করে পাঠিয়েছি। আপনি তাদের অবস্থাদি পর্যবেক্ষণ করতে থাকবেন, তাদের আমল সমূহও প্রত্যক্ষ করবেন এবং তাদের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী বহন করবেন এভাবে যে, তাদের মধ্যে কারা সত্যবাদী ঈমানের উপর অটল আছে, কারা ঈমানহারা হয়ে মিথ্যার মধ্যে রয়েছে, কারা সঠিক হেদায়েতের মধ্যে বিদ্যমান এবং কারা গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। কিয়ামতের দিনে আপনার এসকল সাক্ষী ঈমানদারদের পক্ষে এবং কাফেরদের বিপক্ষে আল্লাহর দরবারে মকবুল হবে।
উপরে বর্ণিত তাফসিরগুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, আল্লাহর হাবীব সাঃ আল্লাহপ্রদত্ত ক্ষমতা বলে হাজির ও নাজির।

সহীহ বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম কাসতালানী (রাঃ) মাওয়াহিবে লাদুনিয়া নামক কিতাবের ২য় জিলদের ১৯২ পৃষ্ঠায় তিবরানী শরীফ থেকে একখানা হাদীস শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন তাহা এই- হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলে পাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন যে- নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সারা বিশ্বজগতকে উঠিয়ে রাখছেন। সুতরাং আমি সারা বিশ্বজগত দেখছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত এজগতে যা কিছু হবে তা দেখতে থাকব। যেমন হাতের তালুকে দেখছি।

আল্লামা জারকানী (রাঃ) তাঁর লিখিত “ জারকানী শরীফ” নামক কিতাবের ৭ম জিলদের ২০৫ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে যে, আল্লাহপাক আমার জন্য সারা দুনিয়াকে উঠিয়ে রাখছেন অর্থাৎ সারা দুনিয়াকে আমার জন্য জাহির ও কশফ করে খুলে দিয়েছেন এভাবে যে, আমার আয়ত্বাধীনে সারা দুনিয়ার বস্তুকে করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি সারা বিশ্ব জগতকে দেখছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত দেখতে থাকব। আল্লামা জারকানী (রাঃ) বলেন রাসুলে মকবুল (সাঃ) আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিজ চোখ মুবারক দ্বারা হাকিকী নজরে দেখছেন। এখানে নজরে ইলিমও মুরাদ লওয়া যাবেনা এবং তা দেখার সংবাদ ও মুরাদ লওয়া হবেনা।

এই আলোচনায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সাহবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন এমনকি সমস্ত আউলিয়ায়ে কেরামের আকিদা হল আল্লাহর হাবিব হাজির ও নাজির।

নবম শতকের মুজাদ্দিদ আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ুতী (রাঃ) তাঁর লিখিত “ আল হাবী লিল ফাতাওয়া” নামক কিতাবের ২য় জিলদের ১৫৩ পৃষ্ঠায় “আম্বাউল আযকিয়া ফি হায়াতিল আম্বিয়া” অধ্যায়ে উল্লেখ করেন যে- হুজুর (সাঃ) এর এ দুনিয়াতে পাঁচটি কাজ রয়েছে। তা হলো-
১। উম্মতের আমলের প্রতি নজর বা দৃষ্টি মুবারক রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর হাবিব উম্মতের আমল সমূহ দেখছেন।
২। উম্মতের জন্য আল্লাহর হাবীব এস্তেগফার করছেন। অর্থাৎ আল্লাহর হাবিব সাঃ আল্লাহ তাআলার দরবারে উম্মতের গুনাহ মাফের জন্য সুপারিশ করছেন।
৩। উম্মত যেন গুনাহর কারণে বালা মুসিবতে পতিত না হয় সেজন্য আল্লাহর হাবিব (সাঃ) শাহানশাহী আল্লাহর দরবারে দোয়া করছেন।
৪। আল্লাহর হাবিব পৃথিবীর সর্বত্র পরিভ্রমণ করে সর্বত্র (শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, এলাকা, আতরাফ সব এলাকায় নিজ হাত মুবারক দ্বারা খায়র ও বরকত প্রদান করছেন।
৫। নিজ উম্মতের নেক বান্দার ওফাত হলে আল্লাহর হাবিব (সাঃ) তার জানাজাতে হাজির হয়ে আল্লাহপাকের শাহানশাহী দরবারে এ জানাজাকে কবুল ও মঞ্জুর করিয়ে নেন।

রাসুল (সাঃ) এর হাজির ও নাজিরের বিষয়ে আরো অনেক দলিল রয়েছে। সেগুলি পরে প্রকাশ করা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:৪৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

লিখেছেন মৌরি হক দোলা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×