ছোটবেলায় চুরি করার একটা বদ অভ্যাস আমার ছিলো। যখন যেখানে বেড়াতে যেতাম, সেখানথেকে কিছুনা কিছু চুরি করে আনতামই। সেই ধারাবাহিকতায় আমার এক চাচাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ভাগ্নীর এক গল্পের বই চুরি করলাম।তখন আমি সম্ভবত ক্লাস ফোরে পরি। এর আগে কখনো গল্পের বই পরিনি। আসলে হাতের কাছে ভালো কিছু পাচ্ছিলামনা বলেই বাধ্যহয়ে বইটি চুরি করলাম। বাসায় এনে ভালো করে দেখি বইটির নাম “একি কান্ড!”, লিখেছেন যে তার নাম বেশ পরিচিত, তার নাটক সিনেমার নাম শুনছি, সে আবার গল্পের বই ও লিখে? যাক বাদ দেই, লেখকের নাম পছন্দ না হলেও চুরি করে যখন এনেই ফেলেছি, তখন একটু পরা যাক। দ্রুত বইটা পড়া হয়ে গেল, বুঝলাম আমার ভিতরে গভীর এক পরিবর্তন আসা শুরু করেছে, বৃস্টি ভাললাগা শুরু হলো, জোছনা ভাল লাগা শুরু হলো, কবিতা লিখার প্রবণতাও চলে আসলো। এ কেমন লেখক যার লেখা পরার সময় কখনো বুকে তীব্র ব্যথার পাথর জমে, কখনো ডুবে যাই আনন্দের ভুবনে। কত সহজ ভাষায় কী নিখুত গল্পইনা তিনি তৈরি করেন। বই বন্ধ করতেও ইতস্ত হয়, যদি সেই চরিত্রগুলো ব্যথা পায়।
সেদিন ও রোজার দিন ছিলো, সকাল সকালেই আমি ধামরাই থেকে শহীদমিনারের উদ্দেশে রওনা করি, ৯.৩০ মি. থেকে ১.৩০ পর্যন্ত লাইনে দাড়ানো, তীব্র রোদের ভীতর আবার হঠাত্ বৃষ্টিও হলো। পুলিশের সাহায্যে শহীদমিনারে ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্থে এক ভদ্রলোক আমার হাতে পাঁচটি গোলাপ দিয়ে বলল তার পক্ষথেকে স্যরের কাছে যেন এটি পৌছে দেই। অবশেষে স্যারের কাছে পৌছলাম। কফিনটি হাতড়িয়ে ধরতে গেলাম। আমার চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছিলো। যখন কফিনটিতে হাত রাখলাম তখন বুঝতে পারলাম ছো্টকালের চুরিটা কত বড় ভুল ছিলো। এখন এ ভুলের মাষুল দিয়ে যেতে হবে স্বারা জীবন।।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




