somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি জিয়ার আদর্শ থেকে একচুলও সরে নি।

৩০ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে হঠাত করেই বেশ কিছুদিন ধরে একটী কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপিতে জিয়ার আদর্শ নেই বলেই বা জিয়ার আদর্শ থেকে অনেক দূরে গেছে বলেই বিএনপির এমন ঘোর দুর্দিন চলছে। তাই বিতারিত রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে হালের নয়া টক শোর নায়ক নায়িকা সবাই একই কথা বলা শুরু করেছেন। যেনো মনে হচ্ছে জিয়াউয় রহমান সাহেবের আদর্শ অনুসরন করা শুরু হলেই জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সকল রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অবসান হবে। এখন প্রশ্ন হলো জিয়াউর রহমানের কথিত আদর্শটি কি? এটা কি ধনন্তরী জাদুর বড়ি। না আলাউদ্দিনের জাদুর প্রদীপ, যে ঘষা দিয়ে বাংলাদেশ এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল সমস্যার সমাধান করে দিবে।
৭৫ এর মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বেনিফিসিয়ারী জেনারেল জিয়া ঘটনার পালাক্রমে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসেন। এবং তার মানস নায়ক জেনারেল আয়ুব খানের মতো দেশের সকল ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা শুরু করেন। এই ক্ষমতায়নের পথে তিনি যাকে তার জন্যে হুমকী মনে করেছেন তাকেই সরিয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই প্রথম টার্গেট এর মধ্যে ছিলো। বিমানবাহিনীর চৌকস অফিসারদের মিথ্যা অভ্যুত্থানের দোহাই দিয়ে নিরবিচারে হত্যাকান্ড আলোচিত ঘটনা। এছাড়া শোনা যায় প্রায় ২৯টি ছোট বড়ো অভ্যূত্থান চেষ্ঠা তিনি নির্মূল করেছেন অত্যন্ত সুকৌশলে। এবং এক্ষেত্রে কোন করূনা বা দাক্ষিন্য দেখান নাই। সবচেয়ে বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা হলো কর্নেল তাহেরের ফাঁসি।
তাহলে জিয়ার আদর্শের প্রথম সর্ত হলো মানুষ খুন করে শত্রুর ঘাটী নিশ্চিহ্ন করা। এই মানুষ খুনের ধারা আজো বিএনপি এবং তার দোসররা ঠিকভাবেই অনুসরন করছেন।২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ২০১৩ এর নির্বাচন ঠেকানোর তথাকথিত মানুষ মারার আন্দোলন, ২০১৪ ও ১৫ সালের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যার উৎসব এইসবই তো জিয়াউর রহমান সাহেবের স্টাইল।
দ্বিতীয়তঃ স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো কাজটি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের সংবিধানের কোলাবেটর আইন বাতিল করে দিয়ে গোলামাযমের বাংলাদেশে আসার পথকে সুগম করে দিয়েছিলেন। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। খালেদা জিয়া যেমন নিজামী মুজাহিদ গংদের মন্ত্রী বানিয়ে ছিলেন ঠিক তেমনিভাবে কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজদের প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন জিয়াউর রহমান।এর আগে সারাদেশ যখন গো আযম, নীজামী, সাঈদীসহ সকল যুদ্ধাপরাধের শাস্তির দাবীতে উত্তাল ঠিক তখনই খালেদা জিয়া গো আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এখনো খালেদা জিয়া এবং তার জাতীয়তাবাদী শক্তি স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়েই পথ চলছেন। এবং ক্ষমতায় আসার যদি চান্স পেয়ে যান তাহলে প্রথম ধাক্কাতেই যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে আবার ক্ষমতার সঙ্গী করে নিবেন। এখানে একটি কথা সত্য যে খালেদা জিয়া এবং তার জাতিয়তাবাদী শক্তি যে শক্তি নিয়ে জামাতীদের দূ;সময়ে পাশে দাড়াবার কথা সেই শক্তিতে দাড়াতে পারছে না। এখানে হয়তো জিয়াউর রহমান সাহেবের পথ কিছুটা অনুসরন করা যাচ্ছে না। এর পিছনে অন্যকোন কারন নেই। শুধুমাত্র এই কয়েকবছরে বিশ্ব রাজনীতির কিছু পরিবর্তন তাকে এই পথে আসতে বাধ্য করেছে।
তৃতীয়তঃ জিয়াউর রহমান সাহেব তার ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গী হিসেবে কিছু বোকা বামপন্থি পেয়েছিলেন। যারা তার সাথে আওয়ামী বাকশাল ও ভারতীয় সম্প্রসারনবাদের ভয়ে ঐক্য গড়েছিলেন। আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশের বাম রাজনীতবিদদের মাথায় এক সুবিধাবাদী চিন্তা ছাড়া অন্যকিছুই থাকে না। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কুপি জ্বালিয়েও খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না সেইসময় এইসব বামপন্থি দলগুলো আওয়ামী বাকশাল ঠেকানোর জন্যে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের কোলের উপর উঠে বসলেন। অন্যদিকে কিছু বামপন্থি জিয়া সাহেবের খাল কাটা কর্মসূচীর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ইসারা খুজে পেয়ে সমর্থন দিয়ে দিলেন।
হ্যা, এখানে জাতীয়তাবাদী শক্তির কিছু ঘাটতি এখন আছে। এই বামদলগুলোকে তিনি পাশে আনতে পারচ্ছেন না। কিন্তু এতে ক্ষতির কোন কারণ নেই। বামপন্থিদের একটা ভালো অংশ এখনো তাদেরকে দূরে থেকে হলেও সাহায্য সহযোগিতা করে চলেছেন।আবার অপ্রিয় হলেও সত্য বাংলাদেশের বাম ঘরানার দলগুলো এখন সাইন বোর্ড সর্বস্ব দল ছাড়া আর কিছুই নয়।
আসলে জাতীয়তাবাদী শক্তি এখন পথ হারিয়েছে। মানুষ মারার রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করা এবং ভারতীয় সম্প্রসারনবাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে এখন আর রাজনীতির মাঠ গরম করা যায় না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে জিয়াউর রহমানে রাজনীতি নয়, বরঞ্চ স্বাধীনতা বিরোধীদের সরিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যদি বিএনপি রাজনীতির পথ চলা শুরু করতে পারে তবেই এই রাজনীতি টিকে থাকবে। নচেত মুস্লিম লীগের ভাগ্য বরন করা ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৯:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×